এই তো জীবন !
রাজর্ষি দত্ত
ভারত পাকিস্তান সীমান্ত।
ভূপৃষ্ঠ থেকে কয়েক হাজার ফিট উপরে আপাত সমতল দুটি ভূখণ্ড। দুটি দেশের। মাঝখানে একটি আঠারো ফুট চওড়া পাথুরে স্রোতস্বিনী দিয়ে সদা বহমান তুষারগলা জল।
দু'পাশের জমিতেই রয়েছে আর্মি ক্যাম্প। সৈন্যদের অহরহ ও সতর্ক আনাগোনা। আর দুদিক থেকেই সোজা মেশিনগান তাক করা প্রতিপক্ষের দিকে। হাত ট্রিগারে। ট্রিগারে চাপ পড়বে চিফ কমান্ডারের অর্ডার এলেই। ততক্ষণ দুটি নল মুখোমুখি উঁচিয়ে।
এইভাবে কেটে যায় ঋতু... দুপক্ষের সৈন্যদের কাঁটার মুকুটে পড়ে বরফ পেছলান রোদ। জংলা রঙের জামার পিঠে ভিজে যায় দৈনিক প্রশিক্ষণ শেষে। হিমেল হওয়ায় ফেটে যায় গালের চামড়া। বিবি-বাচ্চার কল্পনায় ঠোঁট চওড়া হয় হাসিতে। ক্যাম্প থেকে উর্দু গজল, বিরিয়ানির গন্ধ ভেসে আসে। কখনও বা লখনউ কাবাবের। চলে নামাজ ও শিববন্দনা দুইই। এদিকের নিরাপত্তারক্ষীরা, ওদিকের সাথে মাঝে মাঝে গলা উঁচিয়ে ভালোমন্দ কথা বলে…হোক না যতই শত্রুপক্ষ। সবকিছুই হতে থাকে জীবনের সব স্বাভাবিক নিয়মে।
তার মধ্যে মেশিনগানের কালো নল পরস্পরকে লক্ষ্য করে থাকে অপলক ভাবে। দিন-রাত, ঝড়-বৃষ্টি, তুষারপাতে। এ যেন মৃত্যুর কালদৃষ্টি, শুধু উপরওয়ালার হুকুমের প্রতীক্ষায়…
মাঝখানে শীতল স্রোতস্বিনী নির্বিকারভাবে বয়ে যায় জীবনের ছন্দে।

No comments:
Post a Comment