Friday, September 4, 2026


 

আমি নারীবাদী নই 

মিত্রা রায়  চৌধুরী

           
আমি নারীবাদী নই....নারীদের স্বপক্ষে আর পুরুষদের বিপক্ষে কথা বলি এমনটাও নয়। কিন্তু দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা আজ আমাকে কিছু প্রশ্নের সামনে দাড় করিয়ে দিয়েছে। যেগুলোর উত্তর আমার মন আমার মতো করেই দেয়। আমাদের সমাজপুরুষতান্ত্রিক। যদিও একবিংশ শতাব্দীতে আমূল পরিবর্তন তাদের পিছু হটতে বাধ্য করেছে।আজ মেয়েরাও পুরুষদের সাথে সমান তালে পা মিলিয়ে চলছে। অনেক ক্ষেত্রে ছেলেদের পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে তারা। কিন্তু এ কথা আমার বলার বিষয় নয়।আমি বলতে চাই সমাজ এগিয়ে গেলেও মনের পরিবর্তন পুরুষদের খুব একটা হয়নি।

নারীদের সম্বন্ধেও অনেক কথা বলার আছে সেটা অন্য কোন লেখায় তুলে ধরব। আজ পুরুষদের কথাই না হয় বলি।পুরনো দিনের মানে ৭০ দশকে যারা তরুণ ছিল এখন বৃদ্ধ তাদের আর এই দশকের অনেক ছেলেদের মানসিক গঠনে তফাৎ খুব একটা খুঁজে পাই না।বেশকিছু পুরুষ অবশ্যই ব্যতিক্রমী।

বেশিরভাগ পুরুষদের মধ্যে "মেল ইগো" খুবই প্রখর সংসারে তারাই যে প্রধান সেটা সবাইকে বুঝতে হবে সংসারে তাদের মতই প্রাধান্য পাবে। সকলেই তাদের মেনে চলবে।   এর অন্যথা হলেই তারা ক্ষুব্ধ হবে। ষাট সত্তরের দশকের বিবাহিত নারীরা মানিয়ে চলার শিক্ষা নিয়ে সংসারে প্রবেশ করতো,শান্তি রক্ষার্থে চুপচাপ মেনে ও মানিয়ে সংসার করে গেছে। কিন্তু নিজের স্বাধীন সত্তাকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিসর্জন দিয়েছে এবং সেই দুঃখ বহন করে নিয়ে গেছে সারাজীবন।যাদের পায়ের তলার জমি শক্ত ছিল তারাও করেছে আর যাদের ছিল না তারাও করেছে কিন্তু সমাজ,সময়,চেতনা পারিবারিক শিক্ষার  বদল ঘটেছে। এখন বেশিরভাগ নারী উপার্জনশীলা।তাদের পায়ের তলার জমি শক্ত। তাই সহজে তারা নত হয় না তারা প্রতিবাদ করে ফল -ভাঙ্গন। এই ভাঙ্গনের জন্য অনেকাংশে নারীরাও দায়ী।সেই আলোচনা  অন্য লেখায় করবো। এখন প্রশ্ন ছেলেদের এই "অহং" বোধ কেন আসে?তাদের মধ্যে আমি পুরুষ এই চেতনার জাগরণ ঘটায় পরিবারের শিক্ষা। ছেলেরা ঘরের কাজ করবে না,ঘরের কাজ করবে মেয়েরা, ভালো খাবার,পরিমানে বেশি খাবার ছেলেদেরই পাতে পরবে। নিষেধাজ্ঞা মেয়েদের তুলনায় কম ছেলেদের। পুরুষ মানেই কঠোর কঠিন। তারা চোখের জল ফেলতে পারবে না এই প্রাগৈতিহাসিক ধ্যানধারণা গুলো ছেলেদের জিনে ইনজেক্ট করে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। আর তারা সেগুলো বহন করে চলে। আমার এটাই ব্যাখ্যা। এদের কোন চেষ্টা থাকে না এই চিন্তাধারা থেকে বের হবার। থাকবে কেন? এটাকে তারা তো অন্যায় বলে মনে করে না। কিন্তু এই শতাব্দীতে যারা সন্তানের জন্ম দিচ্ছে তারা অন্য ধারায় ছেলেমেয়ে মানুষ করছে।আশা করি ছেলেরা নব্য ধারার বাহক হয়ে ভিন্ন আচরণ করবে। পুরাতনপন্থী ছেলেরা শুধু নিতে জানে দিতে জানে না ভালোবাসা, সেবা,মিষ্টি বব্যহার,সব তারা পাবে কিন্তু ফিরে দেবে না তার ছিটে ফোটাও।পুরুষ মানুষদের অভিব্যক্তি গোপনে লুকানো থাকবে ভালোর তকমা ধারণ করে শ্রেষ্ঠত্বের ধ্বজা উড়াবে। কিন্তু তার সঙ্গীর ভাবনার অংশীদার হবে না, সমব্যাথিও হবে না। উচ্চবিত্তদের পরিবারে পুরুষদের আচরণের কথা আমি জানিনা।কিন্তু মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের পরিবারে পুরুষদের আচরণের কিছু ধ্যান ধারণা আমার আছে। নিম্নবিত্ত পরিবারের পুরুষরা এতটাই শক্তিশালী যে তারা বাড়ির মহিলাদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন দুটাই চালায়। 

কবে বদল আসবে তাদের চিন্তাধারার? পুঁথিগত শিক্ষা বা ভারী ডিগ্রি অর্জন কোনটাই তাদের বদলাতে পারবে না। জীবনের ওঠা পড়া, সুখ-দুঃখে হাত ধরে একসাথে চলা, একে অন্যের পরিপূরক হয়ে ওঠা , যথার্থ বন্ধুর মত আচরণ করা, সঙ্গীর সমব্যlথি হওয়া একজন পুরুষের চারিত্রিক গুন ও সৌন্দর্য। এটাই বন্ধন এর চাবিকাঠি। 

No comments:

Post a Comment