মনের ডাক্তার
প্রদীপ মুখুটী
একসময় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার প্রচলন অনেক বাড়িতেই ছিল। বই পড়ো আর অলিখিত ডাক্তার হয়ে যাও। তেমনি আমার বাবুও বই পড়া ডাক্তার ছিলেন। ঘরে ঠাকুমা ছাড়া কম-বেশি আমরা সবাই হোমিওপ্যাথিকের মিষ্টি ডানার ওষুধ খেতাম। মাঝে মাঝে পাড়ার রোগীরা দরজায় কড়া নাড়ত। দু-একটা ওষুধের নাম আমিও জানতাম—থুজা, আরনিকা।
মনে মনে ভাবতাম, হয়তো আমিও পারবো ছোট ডাক্তার হতে।
সেদিন স্কুল থেকে একটু তাড়াতাড়ি ফিরেছি। স্কুল ব্যাগ রাখতে গিয়ে দেখি, ঠাম্মা শুয়ে আছে।
ও ঠাম্মা, তোমার আবার কী হলো?
হরিরটা ভালো নাই রে ভাই, জ্বর-জ্বর লাগতাসে।
গায়ে হাত দিয়েই বুঝলাম জ্বরটা কতো। হাত-পা না ধুয়েই সোজা বাবুর ঘরে গিয়ে কয়েকটা মিষ্টি দানা নিজে মুখে পুরে দিয়ে কয়েকটা দানার পুরিয়া বানিয়ে বললাম—
ও ঠাম্মা, তোমার ওষুধ এনেছি। হা করো।
হা করতেই সবকটা ঢেলে দিলাম মুখে।
চুপ করে শুয়ে থাকো।
স্কুলফেরৎ কাজ সেরে আবার গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম—
ও ঠাম্মা, এখন কেমন আছো?
হ্যাঁ ভাই, একটু ভালো বোধ করতাসি।
বুঝলাম, আমি মনের ডাক্তার হয়ে গেছি!

No comments:
Post a Comment