Friday, September 4, 2026


 

চিরকুট
ড: ঐশিকা চক্রবর্তী

বিয়ের কুড়িবছর পরেও প্রতিদিন সকালে অভিমন্যু অফিস বেরোনোর আগে ফ্রিজের ম্যাগনেটে একটা ছোট্ট চিরকুট রেখে যেত। কখনও তাতে লেখা থাকত, “আজ বৃষ্টি নামতে পারে, ছাতা নিও।”

 -“চায়ে চিনি একটু কম খেও।”
 আবার কখনও, “তোমাকে কাল রাতে খুব সুন্দর লাগছিল, প্রিয়।”

মেখলা চিরকুটগুলো ফেলে না দিয়ে কাঠের একটা হাতবাক্সে যত্ন করে জমিয়ে রাখত। ভালোবাসা যে বিয়ের পরে ফুরোয় না, তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ ছিল যেন সেগুলো।

কিন্তু এক বিকেলে অফিস থেকে ফেরার পথে এক দুর্ঘটনায় অভিমন্যু চলে গেল। তারপরের কয়েকটা মাস ঘরটা শব্দহীন হয়ে রইল। দিন কেটে যেত, অথচ মেখলার কাছে সময় যেন স্থাণুবৎ হয়ে থাকত।

ঠিক তখনই অদ্ভুত ঘটনা শুরু হলো। প্রতিদিন সকালে আবারও নতুন চিরকুট পাওয়া যেতে লাগল।

“প্রেশারের ওষুধটা খেতে ভুলো না।”

“জানালার গাছগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে জল।দিও।”

“একা একা কাঁদবে না।”

ভয়, বিস্ময় আর ভালোবাসা খেলে গেল মেখলার মনে। অবশেষে একদিন ভোরের আগে উঠে অপেক্ষা করতে লাগল সে।
অন্ধকারের চাদর সরে যেতেই সে দেখল, তাদের সতেরো বছরের ছেলে ঋতম নিঃশব্দে এসে একটা চিরকুট রেখে গেল টেবিলে।

পরে কাগজটা খুলে মেখলা পড়ল,

“বাবার হাতের লেখা নকল করতে পারি না, মা। কিন্তু জানি, মানুষ চলে গেলেও ভালোবাসাটা থেকেই যায়। শুধু যত্ন নেওয়ার দায়িত্বটা সে অন্য কারও হাতে তুলে দিয়ে যায়।”

No comments:

Post a Comment