Monday, July 10, 2017










তুমি কি ভালো আছো প্রিয়
দেবব্রত তাঁতী

চিতার আগুনে পুড়ছে সবাই
দিকে দিকে ক্রন্দন আর 
আত্মীয় স্বজন হারানোর হাহাকার চিৎকার 

এ শশ্মানের দেশে
তুমি কি ভালো আছো প্রিয় ?

গুলি বোমাবর্ষনের আওয়াজে ঘুম আসেনা
ধর্মবিদ্বেষীদের দাঙ্গার ছাইচাপা আগুণ
বাঁচার আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে

এ স্বার্থের দেশে
তুমি কি ভালো আছো প্রিয় ?

চাপ চাপ রক্ত , লাশ ঘরে শুয়ে আর
মাথার ওপর প্রখর উত্তাপ 
আর ক্ষুধার্ত শকুনদলের চোখ এদিকে

এ ভাগারের দেশে
তুমি কি ভালো আছো প্রিয় ?

বাতাসে ধুলিকণার মতো ঘুরছে জীবানুরা
সুযোগসন্ধানী , যা ইচ্ছে তাই করে বেড়াবে
অপরের মৃত্যু আর নিজেদের বংশবৃদ্ধি

এ জীবাণুদের দেশে
তুমি কি ভালো আছো প্রিয় ?

তুমি রানী , অথচ অজুহাতে বুড়ো আঙুল 
দেখিয়ে নোংরা মানসিকতা বাসা বাঁধছে
প্রজাদের চেতনে অবচেতনে

এ সংকীর্ণতার দেশে
রাজশ্রী , তুমি কি ভালো আছো ?

কর্পূরের মতো উবে গেছে প্রেম তাই
ঈশ্বরের কাছে হাত পেতে ভিক্ষা চাইছি
ভিক্টোরিয়ার ডানা দাও , উড়ে যাওয়ার জন্য

এ প্রেমহীন হিংসার দেশে 
তুমি কি ভালো আছো প্রিয় ?











"সম্প্রীতি"
সমীরণ চক্রবর্ত্তী


জ্বলছে আগুন বুকের ভেতর
জ্বলছে আগুন পাড়ায়
কারা যেন উত্তেজনার
পারদ শুধু বাড়ায়।

গুজব ছোটে হাওয়ার বেগে
হিংসে ছড়ায় কারা ?
কোথায় যেন থমথমে ভাব
জ্বলছে কাদের পাড়া ?

ওরা কারা ? দাঙ্গা লাগায়...
রাম-রহিমের দেশে
উটকো যত রাজনীতি সঙ
মুখ-মুখোশের বেশে ।

পড়শি আমার স্বজন সুজন
তবে কিসের ভয় ?
যারা দাঙ্গা বাঁধায়, আখের গোছায়
ধর্ম তাদের নয়।









সামাজিক বাস্তবতা
দীপশিখা চক্রবর্তী

জীবন আমার সুখের বড়,নেইকো দুখের ছায়া,
হৃদয় জুড়ে ছড়িয়ে আছে ভালবাসার মায়া।
হঠাৎ এল বাণ আমার সুখী মনের কোণে,
মন আমার ক্ষতবিক্ষত কটূক্তির বাণে। 
সমাজ শুধোয় কবে আমার কোলটি হবে আলো?
আমি বাঁজা মেয়ে,আমার মুখ দেখা নয় ভালো;
স্বামী আমার ভালমানুষ, নেয় না এসব কানে,
আগলে রেখে বলে চলতে আপন মনের টানে।
কোল জুড়ে এল আমার ছোট্ট একটি পরী,
আনন্দেতে ভাসছে সবাই,ভেবে পায় না কি করি!
হায় রে সমাজ!এর পরেও হল না মুখ বন্ধ,
দেখতে আসে মনে নিয়ে কতরকম দ্বন্দ্ব;
হবে কেমন দেখতে সে যে,গায়ের রং কেমন,
মনকে বোঝানো দায়,কটূক্তি সমাজেরই ধরণ।
সমাজের এই কালো রুপ মনে জাগায় ভয়,
আনন্দের মাঝেও জেগে ওঠে মাতৃরুপি সংশয়।










স্বপ্ন 
নির্মাল্য ঘোষ 

একটার পরে একটা ঘুমের স্তর... তারপর গভীরে  তুমি,
সবুজের হাতছানি।

মনের মেঘ কেটে গিয়ে পরিষ্কার সব... স্বচ্ছ নীল আকাশ,চেতনার চৈতন্য।

চারিদিকে শান্তির বাতাবরণ,
হাজার বছরের তপস্যার লহমায় সিদ্ধিলাভ,গৈরিক রঙ।

তারপর আবার মেঘে ফিরে আসা,স্তরে স্তরে উত্তীর্ণ হয়ে, সূর্য ডাকছে।










স্বপ্নবালিকা।
সুপ্রীতি বর্মন


রোগাপ্যাংলা একরত্তি শরীর যেন কোন উজান গাঙে অস্থিরমতি যৌবনের নতুন সাঁকো। ছাপোষা মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে তাই টাকা সঞ্চয়ে বাতিক ভাবে হাতের নস্যি করে তার অপোগন্ড পিতা যেমন কেচ্ছাবিলাসে উড়িয়ে দিয়েছে অফুরন্ত বালি তরঙ্গোচ্ছ্বাসে সংসারের লালিমা আর আধিক্য এক লহমায়।ছাদ ফুঁড়ে মাথায় বজ্রপাত ভাগ্যের পরিহাস এই টানাপোড়েন। তাই সুদীপ খসে পড়েছে ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত কবে হবে তার তারা হওয়ার দিন।এদিকে বলা নেই কওয়া নেই তার মাথার উপর অনাবিল স্রোত ক্রেডিট নেওয়া যার স্তুপ কমে যাওয়ার বদলে ক্রমবর্ধমান তার গতি।স্বত্তাগুলো ব্যার্থতার দিনগুলোতে নখের আঁচড়ে যবনিকা পতন হল প্রায়।চারচাকার উইন্ডস্ক্রীনের আবছা কাঁচের ফ্ল্যাশ তার অন্তস্থলে প্রতীকী তার স্বপ্নবালিকা।
তার কি অপরূপ কায়া কি মন্ত্রমুগ্ধ দৃষ্টির চাউনি শক লাগলো শরীর বেয়ে বিদ্যুৎ এ আবিষ্ট হয়ে যায় সে অন্তর্বাসে।ইলশে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি তার উত্তরনের দিশা শৈল্পিক সুষমায় অজন্তা ইলোরার অঙ্গের খাঁজে সে আত্মতৃপ্ত ঐ অপরূপ সোঁদা মাটির ঘ্রান সতেজ হল যেন সে।মড়ক লাগা গাছগাছালি শুষ্ক আলজিভে অভিসারের অধরাতে রসে বিহ্বল থই পায় না আলাপচারিতায় হুটোপাটি।হাজার দুর্বিপাকে অস্থিরমতি harrass করা উচাটন খেয়াল আর কথায় কথায় তার overreact but in no sense.
তবুও প্রতি অধরাতে তার উচ্ছিষ্ট পাওনা তাচ্ছিল্যের হাসি।গা ছমছমে মানসিক দুর্বলতা হাজার গোছা রক্ষাকবচ ঝুলতে লেগেছে ঢ্যাঙার মতন।সুখ অসুখের দ্বিচারিতা নির্বিকারভাবে বিড়বিড় প্রলাপ।পরিত্যক্ত প্রাঙ্গনে বৈরাগ্যের বাতাস মেঘ ছেঁড়া বিদ্যুতের প্রশয় বৃষ্টির স্নিগ্ধ পরশ তার একঘেঁয়েমি তার লাগে অনবরত ধাক্কা খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে ধারাপাতে।ওদিকে আধডোবা মনে বেজে উঠতে লেগেছে ধামসা মাদল আর লাল সুড়কি চৌরাস্তার বাঁকে এক অপরূপ তন্বী।আনন্দে আপ্লুত আর ভ্রুপল্লব মেলে উড়াল মরালীরা।আজ যেন ছুটির সঙ্গে অন্যরকম বোঝাপড়া চায়ের দোকানে বাউন্ডুলে বাতাস আর জমাটি আড্ডায় সিগরেটের ধোঁয়ায় নেশার মজলিস আর পরকীয়া চা।প্রবল ঝড় আর বৃষ্টিতে গা হিম আর শেষ মাথা গোঁজার ঠাঁই ঝাঁপ ফেলে দেবার উপক্রম।ধিকিধিকি আগুনে নববধূর সীমান্ত রাঙানো ভয় শুধু সিঁদুরে কোলাজ দৃশ্য আমার স্বপ্নবালিকা।ওদিকে দগ্ধ ঠোঁটে তার নিরীক্ষনের আধিক্য।ওদিকে জমাটি মেঘ আনমনে পকেটে দেয় হাত আর পায় তার দীর্ঘদিনের সঞ্চয় সেই চুম্বনে সিক্ত আকাচা রুমাল।চিবুকে বসায় পায় আদ্যোপান্ত চুকিতকিত শৈশবের ইচ্ছেনদী।হঠাৎ ঝাপসা স্মৃতির হাতছানি।দূরে মড়ক লাগা গাছগাছালির অস্তরাগের ফাঁকে তরঙ্গোচ্ছাসে উথাল পাতাল স্বপ্নবালিকা।যেন কোন আকর্ষনে ধেয়ে গেলাম তার দিকে।দগ্ধ ঠোঁট দীর্ঘদিনের শুষ্ক আলজিভ অভিসারের মাদকতায় liplock e hangover. নেলপালিশের রঙীন বিদ্যুত হৃদয় তমসার সাঁঝে আর দীর্ঘক্ষন আমি আবিষ্ট আত্মসাৎ আমার সাবধানী স্বত্তা তোমার অন্তর্বাসে।

Tuesday, July 4, 2017















দুটি টুকরো 
উদয় সাহা


(১)মেঘেরা

আমার কথারা বিন্দু বিন্দু হ'য়ে
বায়ুমণ্ডলের স্তরগুলো ভেদ ক'রে
তোমার নীল রাস্তার পাড়ায় মিছিল ক'রে অনশন করছে
কথাগুলো প্রতিক্রিয়াহীন ফ্যাকাসে,অপেক্ষমাণ
তোমাকে তাদের রঙে রাঙাবে।
আনন্দ তখন শীতল। আনন্দ তখন ঝিরিঝিরি ঝড়বে।

(২)পেজমার্ক

একটা শীর্ণকায় কায়া।
মুখবন্ধ সহ গোটা তিরিশ সবুজ পাতা।
প্রতি পাতায় বিশৃঙ্খলা, বিচ্ছিন্নতাবাদ,অসংহতির আগুন।
তাপ খুব বেশী মনে হ'লে উঠে আসি।
গুঁজে রাখি শান্তিমাখা তোমার একটা ছবি--
আমার পেজমার্ক।















নিশ্চিত আশ্রয়।

সুপ্রীতি বর্মন।




রৌদ্রদগ্ধ গনগনে আঁচ
তোমাতেই আমার অবগাহন।



নবাঙ্কুর শৈশবের
জলকেলি সমুদ্র সৈকতে।



পশ্চাদভাগ ভারবহ
ক্লান্তি সঙ্গপনে।



অকাল বার্ধক্য জটাজুট
অগ্রিম পাওনা হাতে।



গোধূলির কুঁচবরন
কন্যার নয়নাভিরাম।



আকর্ষনে মহিয়সী
মরিচীকার চ্ছদ্দ
প্রবেশ।



অনতিক্রম্য কুৎসিত
কালো কোকিলের



কর্কশ নিনাদী স্বর আকাশ
বাতাস অথৈ জলে।



থাকছে নিঃশব্দ বিশাল
আদিগন্ত।



চুপিসারে কৌশলী
সুরাপানে মত্ত রবি
সোহাগ শেষে।



গোধূলির লাল ঠোঁটের
চুম্বনে ধরেছে আকাশের
তলটাকে।



পরিশেষে অবশেষ ফেলে ডুব
দেয় পাটে।



বালি আমি অসহায়
পরিত্যক্ত সমুদ্র
সৈকতে।



কবে থেকে স্থগিত
বিস্তৃত সমুদ্রতটে।



শ্বাপদ শঙ্কুলের
পদপৃষ্ঠের দপাদপ সদর্প
বিচরন।



সহনের অনতিক্রম্য মম
জীবন যৌবন।



নীল সমুদ্র তার চঞ্চল
চপট বাচালতা।



বারংবার নিষেধাঞ্জা
নিত্য তার যাওয়া আসা।



সহাস্য ঢেউগুলো
ঝাপিয়ে পড়ে আমার
বক্ষে।



সবটুকু রস নিগড়ে নিয়ে
যেতে চাও সঙ্গপনে।



ফেলে যাও অবশেষ সান্দ্র
আমি।



সোহাগের ভারে ক্লান্ত



রিক্ত পরিত্যক্ত মোর
যন্ত্রনা।



তবুও কখনো হয়ে যাই
সিক্ত



অলক্ষ্যে তোমার।



কাচুঁলির ফাঁকে ফাঁকে
আমার সহবাস।



নিশ্চিত আশ্রয় পেয়ে
আমি এতটুকুতেই ধন্য।



মনপ্রান উজাড়ে
তোমাতেই সোহাগে
ব্যস্ত।



কিন্তু কখনো ভাবিনি
তুমি হয়ে যাবে
অস্থির।



কচকচানি আমার কর্কশ
শরীর।



আনে তব বলিরেখা ললাটে
ভ্রূকুটি।



যদি পড়ে যায় কোন
আঁচড়।



সুন্দরতায় আনবে অমলিন
দাগ



দীর্ঘায়ু হবে আবার।



তোমার আননে কেমন
স্বস্তির অবকাশ
পরিশেষে।



যা হোক বাবা পরিত্রান
চিরতরে।



পোষায় না আর এই
অস্বস্তির লেশ।



স্তনযুগল ঘর্মে
অস্বস্তিতে ছটফট।



নাভিমূলে নিশ্চিত
গুপ্ত প্রেম।



কিন্তু দৈবাৎ সেখানেও
থাকা দায়।



অগভীর নীল সাগর বড়
শয়তান।



ঘাপটি মেরে বসে আছে



অলেখ্য তার আচরন।



ঝাপিয়ে পড়ে কেড়ে
নেবে



আমার শেষটুকু আবদার।



আবার গড়াতে থেকে
পরিশেষে



আমার আশ্রয় ঐ ঘৃন্য
পরিত্যক্ত



সকলের পদপৃষ্টে।



চিকচিক করে উঠে আমার
সর্বাঙ্গ।



রন্ধ্রে রন্ধ্রে
সহবাস।



আমাতেই তোমার
পূর্ণ্যস্নান।



সেইটুকু লেশ সঞ্চিত
কনা।



ধরে রাখতে চাই আমরন



বঞ্চিত করোনা।



আমার এই রূপের লাবন্য



আহামরি দেখবে লোকে।



কিন্তু তাতেও সয় না
তোমার



দৃষ্টিশূল ঐ মৃগতৃষ্ণা
নক্ষত্রখচিত
হৃদয়াঙ্গম।



তুমি রবে নীরবে।



আগামী দিনমনি সেইটুকু
সহাবস্থান নেবে
কেড়ে।



এইটুকু সন্দিহান



হঠাৎ শঙ্খচিল যায়
ডেকে।



বিবস্ত্র মোর
দৈন্যদশা।



আত্মগোপনে অস্থিরতা।



নেই কোন নিষ্কৃতি



তবুও জানি নিশ্চিত
একদিন পাবো দেখা।



এসো দেবী স্নান করি
আবার।



পশ্চাদগমনে সঙ্গপনে
নতুন করে আরেকবার।



নবকনের গৃহপ্রবেশ
পদাঙ্কুরের আঁচলে।



শুভারম্ভ তোমার আমার
প্রেম।



বিস্তৃতির অতলে।









খাঁচা
কৌশিক চক্রবর্ত্তী

চোখের মধ্যে বালির হিসাব নিতে এদিক ওদিক ছুটে চলা,
বুকে ধরে নির্বোধ সন্ধ্যের প্রামাণ্য প্রতিরোধ যত!
ভেদ করা যায়, তবু দৃশ্য হয় না, 
শহরের গিলোটিনে রাখা থাকে অসাড় মাতৃত্ব -
কোন ছাদের প্রগাঢ় সূর্যাস্তের রঙেও শূন্য হয় দেবত্বের কোল,
ছায়ার আড়ালে নিঃস্ব হয় কান্নারা!

আজকাল যারা বইতে পারে না দুর্লভ নীতিবাক্যের স্নেহ,
হীন বিস্ময়ে সৃষ্টি করে খাঁচা-
সেসকল জন্মের অপরাধবোধ হয় না বলে
বন্দী হয় যারা, সচল বঁড়শির ঘর বানায় ফিরে,
প্রতিশ্রুতি ছিল আশ্রয়ের, স্রষ্টার জয়ে..
বাধ্যতা রেখে গেলে অবরুদ্ধ হয় সব,
পরাজিত হয় হত্যারা!

চোখের বাইরে অপেক্ষা করে বিখেরিস, নতুন উপায়ে -
শিড়দাঁড়া চেটে দাবি করে শহরের মত!
যে চোখে সদিচ্ছার মৃত্যু হয় না, 
ইঙ্গিতে ফুল হয় সতী, ঘরকোণে,
সেইমত ফিরে আসে প্রকাশ্য হত্যাকারীর মুখ
সীমান্তে ক্লোরোফর্ম শুঁকে বিপন্ন ছাইভস্মেরা।









গোপন নেশা
দেবব্রত  তাঁতী


সুপ্ত আগ্নেয়গিরিটা হটাত একদিন রাতে 
সক্রিয় হয়ে উঠেছিল ; সেই থেকে অসভ্য শয়তানটাকে 
ভেতরে পুষে বেড়ে উঠছি...
গলগল করে বেরিয়ে আসে সাদা থকথকে উস্ন লার্ভা
মাঝে মাঝে তোমার জন্মদাগের ব্যথায় কাতর হয়ে 
বিছানায় শুয়ে পড় ; পেটব্যথা আর প্রবল যৌন
তা সহ্য করলেও
স্নানের ঘরে নেমে আসে গোপন শীৎকার ...!
গা ঘিনঘিন ; ও দিকে তাকাতেও ঘৃণা !
সেই সময় উপস্থিত হলে 
চোখ থেকে চোখ, ঘাড়ের আলতো দাঁত , ঠোঁটের কামড় 
কেশের গন্ধে শরীরের অঙ্গ স্তন – নিতম্বে ছুঁয়ে যাবে হাত 
কখন বেখেয়ালে নিরবস্ত হয়ে যাবো আর যোনিদেশ ঠোঁট 
অসভ্যতা প্রিয় হয়ে উঠলেই চল দুজনেই কুকুর হয়ে যাবো ।
দুষ্ট শয়তান আর উস্ন লার্ভা র গোপন নেশা
তোমার শরীরকে তখন ছিঁড়ে খেতে চাইবে !
নোখের আঁচড় ; রক্তক্ষরণ কামরস ...স্বর্গসুখের অনুভুতি 
আর তখনি হয়তো আমি হেরে যাবো !













মধ্য রাতের খন্ড কবিতা- পর্ব-১১
         লক্ষ্মী নন্দী
                          

কবি -এখন তোর সাথে
লিখছে কবির মন।
দুরন্ত দিনের কলরবের 
জমে ওঠা মেঘ
ঝরিয়ে দিচ্ছে তোর 
বিশ্বাসের কলাপে ঢাকা
শরীরে।তোর প্রসব করা 
গাম্ভীর্যের নিরিবিলি সৎ
অন্ধকার নিয়ে 
তুই বেরাতে এসেছিস 
কবির  ঘরে । মফসঃলের
অচিন কবি পাঁজর 
ঘষে ঘষে ঘুমহীন সঙ্গ 
নিচ্ছে তোর।তোর অনাবিল  
ভাষ্যপাঠের- নৈঃশব্দ প্রেম
কবির শব্দকেও জাগিয়ে 
রেখেছে। যেমন তোর জন্য
জেগে থাকে প্রতিবার।
তুই এলে কবির 
ঘরের নিয়ন অালো 
লজ্জায় ভেঙে ফেলে 
রাতের  সম্মোহন। 
কবির মনে জেগে ওঠে 
তোর চোখে চোখ রাখা শর্ত।
হে রাত, এভাবেই দিস 
রোজ রোজ কবিকে
নিবিড় সাথ। সে যে বহুরঙ্গে
অাঁকবে তোকে তার- 
প্রিয় মধ্যরাত।।