Thursday, July 20, 2017




















মধ্য রাতের খন্ড কবিতা- পর্ব ১৩

লক্ষ্মী নন্দী  


মাঝ বয়সি রাত্রি রোজ 
তুফান অালিঙ্গনে ঢুকে পড়ে 

অামার অন্দর মহলে।
অলীক কল্পনায় ছড়ায়
শব্দ অক্ষরে নৈঃশব্দের -ব্যাপ্তি।

তার, শীলিত ছন্দের 
উদ্দামতার কাছে
অামি যেন কেমন 
হারিয়ে যাই। 
এভাবেই, প্রতিদিন
বড় হতে থাকা রাত্রির 
-অাপনে যাপনে-
দারুন দানের মহার্ঘ যজ্ঞে
নিজেকে অাত্ম সমর্পণ 
করে ফেলি।
সেও- অারও নিবিড়
গভীর গাঢ় সঞ্চারী 
হতে হতে অামার প্রতিদিনের
অন্ধকারকে করে হরণ-।
রাত্রির উত্তাপ ক্লান্তিহীন স্নিগ্ধ
যার, দর্শন স্পর্শনের মধুর
বিচরণ সাহচার্য শেষে----
অামি হয়ে উঠি,
ঠিক যেমন- 
ভেষজ নিরাময়।
যা -দেখে কচি ভোরে 
অাপ্লুত হয়ে উঠে.
জবাকুসুম -সঙ্কাশং 
কাশ্যপেয়ং -সূর্যটা।














অ-কবিতার পর...
উদয় সাহা


এবার একটা 'কবিতা' লিখব
তুমি পড়বে।তুমি বলবে, সুন্দর
হয়তো বিতর্কিত অথচ প্রাসঙ্গিক
'ছুঁয়ে গেলে' পাঞ্জাবিবাবু বলবেন,'কবি নয় একটা বাঁদর।
এবার একটা 'কবিতা' লিখব
তোমার চোখে ভেসে যাবে ছবি--
তুমি বলবে, অসাধারণ
অবশ্যই বাস্তব এবং সমসাময়িক
গদিতে বসে তিনি বলবেন,'ধিক!শত ধিক!'
এবার একটা 'কবিতা'  লিখব
তুমি বুঝবে।ফুটে উঠবে হাসির রেখা চোখেতে
তুমি বলবে,খুব ভালো
একটা বিদ্রোহ আর একটা প্রতিবাদ
বাতানুকূল যানের ভেতর থেকেই বার্তা
যাবে,'ভেঙে দে ছাদ'।
এবার একটা 'কবিতা'  লিখব
তোমার আঙুল গুলো আদর ঢালবে কুৎসিত অক্ষরগুলোতে
তুমি বলবে,দারুণ
ভীষণ দরদি,আবেগপ্রবণ
উড়োজাহাজে তখন তিনি। চোখে তার অনন্ত অনল।
আমি একটা 'কবিতা' লিখব
তোমার জন্য...

অয়ন মন্ডলের দু'টি কবিতা















প্রেম


ঘেউ ঘেউ ঘেউ। নামছে রাত। অচেনা গলি। 
জোছনা প্রেম। একটান বিড়ি। গলা খাঁকরাই। 

ওয়াক থু। উঠে আসা ঢেঁকুর ।ভরা পেটে ফল। 
খালি পেটে জল। পানকৌড়ি প্রেম। 

হাসি-হাসি-খুশি। খেলনা বাটি। বরবউ সাজি। 
টিপমারা চোখ। ফুলে ওঠা বুক। পালকি চলা প্রেম। 

গাঙ ধারে জাল টানি। লাল কাঁকড়ার সুড়সুড়ি। 
ঝিনুকের মুক্তো। হাঁড়ি ভর্তি মিন। কেওড়াটক প্রেম। 

হাঁটতে হাঁটতে পা জড়াই। হাতে হাতে হাত ছোঁয়াই। 
ঠোঁটে ঠোঁটে ঠোঁট ঠেকল। পদ্ম কুড়ি প্রেম। 



উড়ন্ত প্রেম

সারারাত ধরে আমি তোমার ওই 
কুমারী স্তনের 
কুয়াশা ভেদ করতে থাকি
লাগাই দাঁতের দাগ, ঠোঁটের ছোঁয়া
রং তুলিতে আঁকতে থাকি
স্বপ্নের খাতায় ---
সারারাত ধরে গুনতে থাকি নদীর ঢেউ
বালুচরে লাল কাঁকড়ার প্রেম
নীলিমায় উড়িয়ে দিই 
এক ঝাঁক বিহগ...
এঁকে যাই স্বপ্ন, দগদগে উড়ন্ত প্রেম

বিন্দু বিন্দু জল থেকে, লবণ জলের সুস্থতা মেখে
            ভালোবাসা ওড়াই ...

Friday, July 14, 2017












আমার বাংলা-----
            মৌসুমী গুহচৌধুরী


 বাংলা আমার মায়ের ভাষা
বাংলা আমার মনের আশা,
বাংলা তোমায় ভালোবেসে,
থাকতে চাই গো তোমার দেশে,
প্রথম যখন মা ডেকেছি,
বাংলা তোমায় কাছে পেয়েছি,
ছোট্ট হাতটা ধরলে তুমি,
অ আ ক খ শিখি আমি।
বাংলা তুমি আমার পড়া
তোমায় নিয়েই স্বপ্ন গড়া,
বড় হলাম তোমার সাথে,
বন্ধু তুমি চলার পথে।
বাউল আমি তোমায় নিয়ে,
কাব্য লিখি তোমায় ঘিরে,
প্রেমের ভাষাও শেখালে তুমি,
তোমার প্রেমে পাগল আমি।
ধানের ক্ষেতে এলোকেশী,
তুমি তখন প্রিয়াবেশী।
তুমি জননী,তুমিই জায়া,
প্রখর রোদে স্নিগ্ধ ছায়া।।

Wednesday, July 12, 2017

























সুপ্রীতি বর্মনের গুচ্ছ কবিতা



প্রথম প্রেম


যেদিন প্রথম মুক্ত বিহঙ্গের নীড়ের উষ্ণতা
          পেয়েছি তোমার কোলে শুয়ে।
          নিভৃত কুঞ্জউপবনে বৃক্ষের ছায়ায়
           এঁটো মৌখিক প্রনয়ালাপে নায়ক-নায়িকা
          সিনেমাটোগ্রাফি অঁচ্ছুত অস্তিত্ব পার্কের বেঞ্চে ঘেঁষাঘেষি বসে।

যেদিন প্রথম সানগ্লাসের ক্লাসিক লুকে সাদা কালো ধোঁয়াশা
           দীর্ঘশ্বাস জমে থাকা মনের কোণে গুমোট অস্বস্তি মেঘ
            ঘ্যানর-ঘ্যানর অভিযোগের শক্ত প্যাঁচালো সাপ বেকার তুই
             বলে দমবন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম।
তখন হঠাৎ আমার জগত ক্যানভেরার রঙীন ক্যানভাস।
খসে পড়া পর্নমোচী হৃদয়ে বসন্তের নবাঙ্কুর পদচারনা নতুন যৌবন।

যেদিন প্রশস্তি সূচক অকথ্য অনুরননে বেজেছিল সানাই আগমনী
             কোন অচেনা আগন্তুক তার ছোঁয়ায় নতুন স্বর্গ।
               পাতালে লুকিয়ে থাকা ভ্যাপসা কটূক্তি কটকট শাসানি
                পরিত্যক্ত অবগাহন অমাবস্যা চন্দ্রমার ভালোবাসার স্পর্শহীন।
সেদিন শক্ত হাত দিয়ে টেনে বাহুডোরের আলিঙ্গনে করেছিলে আবদ্ধ।
পেয়েছিলাম স্বর্গীয় সুখ, এক নিশ্চিত আশ্রয়।

যেদিন সিনেমা হলে বুকিং পেছনের দেওয়াল ঘেঁষে পাশাপাশি সিটে
                  একে অপরে স্বত্তায় নিমগ্ন উষ্ণ অধরে নৈশিল মাদকতা।
                    সিনেমার চরিত্র হয়ে উঠা বিনা রিহার্সালে।
                    চমকের মূর্চ্ছনা আনা নিজের উচাটন মনে
                    সন্দিহান মন দর্শক ছাড়া চায় নিরিবিলি প্রেক্ষাপট।
                   চায় না কোন প্রশংসা বা হাততালি।
 শুধু চায় একে অপরের সান্নিধ্য মধুচন্দ্রিমা।
কারন সব চরিত্র এখানে কাল্পনিক।

যেদিন প্রথম হাতে হাত রেখে ঝিল বা কোন নির্জন লেকের ধারে
               কাঁধে মাথা রেখে সকল ভার অবসাদ দিলাম ঢেলে।
                শক্ত করে হাত ধরে করলাম প্রতিশ্রুতি।
               কোনদিন যেন এই হাত না ছেড়ে যায় হয় চোখের জলে প্রাক্তন।
আর দিগন্তে গোধূলির লাল সিঁদুর ধেবড়ে অস্তগামী রবি।
নিশ্চুপে ডুব দিল সমুদ্রের হৃদয় পাথারে।
তখন আমাদের এঁটো মৌখিক প্রনয়ালাপ তবুও দুরত্ব একরাশ সমুদ্র।

যখন কারোর পরোয়া শিকেয় তুলে সাহসী চির উন্নত শির যৌবন
                সাইকেলের সামনে সিটে বুকে মাথা পেতে শুয়ে।
                 ছুটে যাওয়া অনাবিল আনন্দ স্রোতে একসময়ের গুটিয়ে
                 থাকা শুঁয়োপোকা ঘরের কোনে দমবন্ধ শ্বাস ধামাচাপা আগুন।
আজ হয়েছে প্রজাপতি সাতটি রামধনুর রঙে এদিক ওদিক চ্ছন্নছাড়া।
জানে না সে ঘর কাকে বলে কারন তার এখন উদ্দেশ্যহীন যাত্রা।

যখন তুমি হাঁটু গেড়ে বসে সম্মুখ দ্বারে হাতে হৃদয় রাঙানো গোলাপ
                 গলায় উত্তরীয় নায়কের style এ করেছিলে propose.
                 যেন ভাবতে লেগেছিলাম আমি হলাম princess.
                  আর তুমি হলে স্বপ্নে দেখা রাজকুমার।
    আমার শৈশবের ফেলে আসা পর্নমোচী fairy tale
     আজ পেয়েছে তার মৌনতায় মুখর উদ্ভাবনী বসন্ত।

যেদিন প্রথম পেয়েছিলাম রৌদ্রদগ্ধ উষ্ণ কোমল ওষ্ঠের
               শীতঘুম কেড়ে উচ্ছাস উন্মীলিত শীতল তরঙ্গোচ্ছাস বসন্ত।
            .  অনবরত একগুঁয়ে সবটুকু শুষে নিতে চাও সুখের বিভ্রমে অসুখ।
               তবুও মৃগতৃষ্ণা অদৃশ্য দিগন্ত আপামর বালির বুকে।
                সন্দিহান অন্বেষণে আমার সহবাসের অশরীরী উন্মুক্ত ছায়ার
               সুযোগের অছিলায় অন্য শরীরে নিরলস অনতিক্রম্য প্রবেশ।
ভয়ে কুঁকড়ে থাকা যৌবনা কুমারীর অজন্তা ইলোরার স্থাপত্য কর্ম
           নগ্ন মৃত্তিকার অঙ্গে তিলোত্তমার খাঁজে খাঁজে কোন নিপুনা শিল্পী
           প্রানপ্রতিষ্ঠায় নিমগ্ন দিবারাত্র কঠোর পরিশ্রমের গলদঘর্ম।
আদরে চাদর ভিজে মধুচন্দ্রিমা রাতের চুম্বন ধরিত্রীকে মৈথুনে ক্লান্ত
           সকল অবসাদ ঢেলে দিতে লেগেছো পরম সুখে চোরা গহ্বরে অন্তমিল।
ওদিকে সর্বস্বান্ত আমি দিতে থেকে ভয়ে ঢেঁকির পাড় ভাঙে প্রমাদ গোনে।
যদি আসে নিঃশব্দে আগামী নবাঙ্কুর এই গর্ভে অসাবধানী দ্বিচারিতা।
ধিক্কার হঠকারিতা হয়ে যাবে নষ্টা কলঙ্কভাগী একরাশ ভস্ম ছাই
আমার আশ্রয় শৈশব লালনের মুখে চুনকালি ছি ছি লোকমুখে।
গুজবে কোনঠাসা বহিষ্কার জুটে আছে বলে একরাশ ধিক্কার।
এসব অশনি সংকেতের আগাম ঝড় ছাইচাপা ধিকি ধিকি আগুন
অব্যক্ত চাপ বুকে আগলে আছে একান্ত প্রিয় সোহাগের আলিঙ্গনে অসহায়।


যেদিন প্রথম উন্মুখ নয়নে উন্মীলিত হৃদয় প্রাঙ্গনে আত্মসুধা অন্বেষণে
           হয়েছিলো শুভদৃষ্টি নয়নে জমে থাকা দীর্ঘশ্বাস একাকীত্ব অন্ধকার।
         প্রথম উজ্জ্বল আলোর প্রকাশ কিন্তু ঘরভর্তি জনসমাগমে নয়,
        পৌরহিত্যের পাগল একরাশ মন্ত্রউচ্চারনের শব্দের মিছিলে
        অন্ধ অস্তিত্বের মন প্রশান্তি লোক ভোলানো আনুষ্ঠানিক বাগাড়ম্বর নয়।
চৌরাস্তার মোড়ে কিংবা পার্কে গাছের ছায়ায় ঝড়া ফুলদলে অতিথি বাসর।
কিংবা সিনেমা দেখা স্থগিত নতুন কোন আগন্তুক কে পেয়ে একান্ত সান্নিধ্যে।
একে অপরের চোখে নির্লিপ্ত মগ্ন নিঃশ্চুপে ডুব অখিল সমুদ্রে মনকাড়া জোছনা।
পানকৌড়ি এলোপাথারি ঐকান্তিক প্রেয়সী ডুব দিয়ে মাথা গুঁজে গুঁজে
খুঁজতে থাকে তার প্রিয়র বুকে ছোট সংসার।
নির্লিপ্ত অপলক স্থির চাহনি শুভদৃষ্টি নিঃশব্দে একে অপরের যুগ্ম সন্ধিক্ষন।
সেই আমার প্রথম প্রেম।

যখন কৃষ্ণকায় জ্যাকেটে বাইকের দুর্দান্ত অশ্বগতি পেছনে সঙ্গী প্রনয়াসক্ত।
অজানা উদ্দেশ্যহীন যাত্রা মনে শুধু একটাই আশ্বাস এই পথ যদি না শেষ হয় তবে কেমন হতো তুমি বলতো?
নিত্য আসা যাওয়া সংসারী পথযাত্রীর মুখভার অস্বস্তির বিড় বিড়
দেখো কত অশ্লীল চালচলন চুম্বনের আঁশটে গন্ধ সাইকেলে বুকে মাথা পেতে লজ্জাও লাগে না বাবা বেহায়া।
তখন বুঝেছি পড়েছি প্রথম প্রেমে।

যখন আগন্তুকের গায়ে পড়ে ন্যাওটা স্বভাব ছেড়ে ছাড়ে না।
ওই ওই বলে ডাক চেনা জানা নেই তোমার নাম।
কিন্তু তুমি অবশ্যম্ভাবী দিনেরাতে অস্থির উন্মাদনা খচখচানি
করোটিতে একচেটিয়া মনের অধিকার শুধু চাই তোমায়।
পাগলের প্রলাপ কবে হবে তুমি শুধু আমার জেগে থাকা আঁখি স্বপ্ন তোমার।
উড়ে বসনাঞ্চলপ্রান্ত ছন্নছাড়া বেবাগ রথের দুর্বার গতি অক্লান্ত।
শুধু হন্যে হয়ে খুঁজে বেরায় পাগল ভিখারী একটু দেখবো একটু ছোঁয়া চাই তোমার শুধু ঐকান্তিক উন্মাদনার ব্যাধি।
তখন অফস্ক্রীনে missed call মুরলী মনোহর শ্যামের বাঁশি।
সজনী সজনী রাধিকা লো দেখ আবহু চাহিয়া তব গিরিধর শ্যাম।
উদগ্রীব বাহুডোরে আলিঙ্গনে গাঁটছোলায় এক উন্মুক্ত সংসার বিনা কোন দায় কোন পিছুটান।
শুধু আত্মলীন তোমার নিঃশ্বাস গোগ্রাসে গলাধঃকরন।
Missed call এ তোমার নিত্য আসা যাত্রী।
শুধু আমার ট্রেনের প্রতিক্ষায়।
অনাবিল বর্ষনে কথ্য ভাষার হেঁয়ালি প্রলাপ ঘন্টার পর ঘন্টা
আমার সকল জগত একদা তুমি হয়ে যাও
তাতেও পরে শকুনের শ্যেণ দৃষ্টি,
হে শকুন ভাগাড়ে যাও খাও না যেন আমার আঁখি।
দেখবো প্রিয়াকে দুচোখ ভরে বসে আছি দীর্ঘদিন প্রতীক্ষায়।
সকলের দৃষ্টিশূল বলতে লেগেছে লোকে
কিসের অতো কথা দুজনে
শেষ হয়েও থাকে অতৃপ্তির রেশ।
অবান্তর আলাপচারিতা।
সেই হল আমার প্রথম প্রেম।
আমার জেগে থাকা আঁখির স্বপ্ন।
শৈশবের বইয়ের পাতায় রূপকথা।



দ্ব্যর্থক


আমার পাড়ায় আজ চ্ছন্নছাড়া আকস্মিক,

কালবৈশাখীর তান্ডব লীলা        আদিগন্তে নীল সমুদ্রে।।

উড়িয়ে দিয়ে সবকিছু              ছিঁড়ে খুঁড়ে পেয়ে যেতে চায়,

তার সহাস্য বদনা                   বৃষ্টি নারী অপ্সরা।
           
           চুম্বনে ধরিত্রী হল শিহরিত কম্পিত কায়া।।


নতুন প্রতুষ্যের             আগমনী বর্ষার অভ্যুদয়ে

আর ঝিরিঝিরি তার             হৃদয়াঙ্গম প্রেমালাপ।

আঁখি সঞ্চালনে                     প্রতিক্ষীত উষ্ণতার,

ভ্যাপসা অস্বস্তির                     যাঁতাকলে ছটফটে

           এই বুঝি জীবন যায় যায়।।

সেখানে তব আগমনে               ভিজে গেল সকল অন্ধকার কোন,

                  অন্ধকারে নিমজ্জিত সহস্র বছর।

প্রতীক্ষার উষ্ণ আলিঙ্গনে             মরতে থেকে,

একরত্তি তোমাকে আরো কাছে পাবার বিষে,

দগ্ধ ম্রিয়মান ভগ্ন কুঞ্চিত হৃদয়,

তুমি এলে বৃষ্টি পায়ে পায়ে,

সোহাগের আলতার চুম্বনে             ভিজে যাওয়া কোমল দুটি চরন,

ক্ষনিকের তরে স্বস্তি                   বক্ষে সেই চরনের ঠাঁই,
         
          তোমার রঙে রাঙিয়ে দাও মোরে।।

হাওয়ার সাথে দোদুল্যমান                 আমার অখিল সমুদ্রে,

উথলিয়ে উঠে যেন প্রেম                বৃষ্টির পরতে ছলকে,

             না হয় আজ মনকাড়া জোছনায়।।

গঙ্গাপ্রাপ্তি হোক             নিমগ্ন দুটি হৃদয়,

আনন্দের ঈষৎ ক্রন্দনধ্বনি      খাট ভাঙ্গুক আজ তিমিরে,

নিঃশব্দ বাঁধভাঙা উচ্ছাসের           প্রেমের কলোরব,

তুমি আমাতে            আদরে চাদরে ভিজতে চাও,

মাখামাখি ওষ্ঠের              সিক্ত শিশিরকনা,

না না সেটা না বোধহয়          একটু আধটু ঘাম ঝরছে,

তোমার তপ্ত গাল বেয়ে              একেবারে তোমার হৃদয়ের সোপান,

           তোমার ওষ্ঠ কোমল পদ্মে,

যেই না তার গড়িয়ে পরা টুপ করে,

নিঃশব্দ চয়নে সকলের অলক্ষ্যে।

আর আমিও নিলাম তার সবটুকু রস নিগড়ে।।



নিষ্পাপ হাসি


ওই যে যখন আতঙ্কিত হৃদয় শঙ্কার প্রমাদ গুনতে থেকে,
চিল উড়তো শশ্মানের নির্জন প্রান্তরে।
আঁখির স্বপ্নের সুখ বিভ্রমে সমুদ্রের খুব কাছ দিয়ে,
দাউ দাউ অগ্নিতে বাস্পীভূত প্রত্যাশার সকল ছাই।
ঠিক তখনি হাত কাঁপতো থর-থর করে,
তুই সাইকেলে শক্ত করে ধরতিস মুষ্ঠি,
বলতিস লক্ষ্য রাখবি,  এই হাত কোনদিন ছেড়ে না যাস।
তখন মুখপানে চেয়ে তোর নিষ্পাপ হাসি আমার সন্তানসম।।


যখন ক্লান্ত অবশ শরীর ঘুমভাঙা বিনিদ্র রজনী,
অপ্সরা লাবন্য তনু আর আমার বক্ষায়িত সর্পিল কল্পতরু,
সোহাগের আটচালায় তোর পরম শান্তির ঘুম বুকে মাথা রেখে,
তখন তোকে দেখে ঠোঁটের কোনে ঈষৎ হাস্য।
ঠিক যেন কোন আগামী নবাঙ্কুরের নিঃশব্দ পদচারনা,
আমার বক্ষের অখিল সমুদ্রে।
ঠিক যেন আমার সন্তানসম।।


যখন একটু দাও তোমার তুমিকে,
সর্বস্ব বিলিয়ে উজাগরে শশধরা তিলোত্তমা পরম সোহাগের,
ওষ্ঠাগত চুম্বনে নিঃশেষ ভালোবাসার লালিমায়,
গোধূলির কুঁচবরন লাল শাড়ি পরে কন্যা,
তোর চোখের অব্যক্ত আদর মনকে নেয় কেড়ে।
বলে যেন এই তোমায় লাগছে বেশ ভালো।
কি নিষ্পাপ সেই প্রশংসার আর কাছে চাওয়ার আবদারের হাসি।
আমার আমিকে পাই যেন আরেকটিবার নতুন করে খুঁজে।
তৃষ্ণার্ত দীর্ঘ পিপাসিত বক্ষ করে যায় আর্দ্র।
ঠিক যেন আমার সন্তানসম।।




Monday, July 10, 2017














মধ্যরাতের খন্ড কবিতা - ১২
      লক্ষ্মী নন্দী

তুই কাছে এলে
অামার কষ্টরা
অাড়মোড়া ভেঙ্গে
মৃত্যুর মত শান্ত
হয়ে যায়।
অামার ভীতর তন্নিষ্ঠ
বিভোর হয়ে ওঠে
তোর মিতি সমারোহ।
তুই কাছে এলে
অামার একনিষ্ঠ 
উন্মোচন ঘটে- 
নিশিযাপনে। 
তোর অমোঘ 
সম্মোহনে অামি 
এগিয়ে যাই------
প্রকরণ থেকে প্রসঙ্গে। 
অামার সৃষ্টি - ধ্যান
গ্রহণ - বর্জন
নির্জনবাস- বিশ্বভ্রমন
বহিবিশ্ব- অন্তর্লোক
কাজ - বিশ্রাম 
সবকিছুই একাকার
হয়ে যায় -------
তুই কাছে এলে
তোর মধ্যরাতের 
পারাবারে। 















প্রবন্ধ 

স্বাধীনতা ও বিচ্ছিন্নতাবাদ
সুকান্ত পাল
.
স্বাধীনতা শব্দটি স্ব + অধীনতা -এর মিলনে গঠিত যার আক্ষরিক অর্থ হল নিজের অধীনে থাকা। সেই প্রসঙ্গে ভারতের স্বাধীনতার সঠিক মূল্যায়ন করলে সবসময় একটা প্রশ্নচিহ্ন থেকে যায় আমার মনের মাঝে, " আমরা আদেও স্বাধীন হতে পেরেছি তো " ? মনের মাঝে দ্বন্দ্ব যাই থাকুক না কেন, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস ঘাটলে অনেক বড় বড় কথাই ইতিহাসের পাতায় মুক্তাক্ষরে দেখতে পাবেন | অনেক সামান্য ঘটনাও যে বড় ব্যাপার হয়ে উঠেছে তা বিচার বুদ্ধি দিয়ে বিশ্লেষণ করলেই বুঝতে পারবেন। ঘটনাগুলি এমনভাবে সব সাজানো হয়েছে যে, দেখলেই  মনে হয় হিন্দু-মুসলমান, খ্রিস্টান-বৌদ্ধ নির্বিশেষে সকল ধর্মের মানুষ একসাথে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল | কিন্তু বাস্তবে সত্যি কি তাই ? আসুন দেখা যাক আমার কলম আর আপনাদের বোধ-বুদ্ধি কি বলে ?
প্রথমেই আসি মহাবিদ্রোহ প্রসঙ্গে। ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রহে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকল ধর্মের মানুষ একজোটে ব্রিটিশ বিরোধিতা করেছিল। বিভিন্ন ঐতিহাসিক এটাকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ বলে সগর্বে প্রচার করে থাকলেও, ঘটনাটা কি আদেও ঠিক ? সামান্য এক গুজবে কান দিয়ে তৎকালীন সমাজের সিপাহীরা ধর্ম সংকোটে পড়ে যায় ! শোনা যায় গরু আর শুওরের চর্বি মিশ্রিত কার্তুজ দাঁতে কাটবার ফলেই নাকি  হিন্দু ও মুসলমানের ধর্মানুভুতি আহত হয়েছিল | আর তাই জাত খোয়ানোর ভয়ে তাঁরা এন্ডফিল রাইফেল ব্যবহার করতে আপত্তি জানিয়ে সিপাহী বিদ্রোহের সূচনা করে | সিপাহীরা এরপর ব্রিটিশ নারী পুরুষদের হত্যা করতে লাগলো | যদিও সামান্য গরু আর শুওরের চর্বি মিশ্রিত কার্তুজ দাঁতে কেটে জাত খুয়ানোর চেয়ে মানুষের প্রানের দাম অ-নে-ক কমই হয়ে উঠে সিপাহীদের কাছে, তাই এই বিদ্রোহটা ভারতের একটা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বলা চলে | প্রতিটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা যেমন ধর্ম নিয়ে শুরু হয় , তেমনি এটাও শুরু হয়েছিল মূলত ধর্ম হারানোর ভয় নিয়ে | আর দেশীয় রাজারা এই সুযোগে ঘোলাজলে মাছ ধরতে নেমে গেলেন । ঠিক আজকের পলিটিশিয়ানদের সাথে এর মিল পাওয়া যায় | এই বিদ্রোহে বিদ্রোহী সিপাহীরা যে অমানবিক নির্দয়তার পরিচয় দিয়েছিল নিরীহ ইংরেজ নারী-পুরুষদের হত্যার মাধ্যমে, তার সাথে ৪৭ এর দাঙ্গা, গুজরাটের গোধরার দাঙ্গা, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর মুম্বাইয়ের দাঙ্গার বেশ মিল পাওয়া যায় | মিলটা হলো ধর্মানুভুতি আহত হলেই নরহত্যা করে প্রতিশোধ নেয়া হবে | সিপাহিদের নিরীহ ইংরাজ নারী পুরুষ হত্যার কথাটা কিন্তু ফলাও করে কখনো বলা বা লেখা হয় না ইতিহাসের পাতায় | বরং হলওয়েলের অন্ধকূপ হত্যার তত্ব যে বানানো কথা সেটা প্রমান করতে সবাই উঠেপড়ে লেগে যান | এমনকি মঙ্গল পান্ডের ফাঁসির উপরে সিনেমা বানানো হয় | তাছাড়া তো সাম্প্রতিক বজরঙ্গী ভাইজান তো আছেই। আসলে নানা সাহেব-তাতিয়া টুপি-রানী লক্ষীবাই, ইত্যাদি দেশীয় রাজন্যবর্গ যে নিজ নিজ রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি করতে তত্পর সেদিকে ইতিহাস ফিরেও দেখেনা বরং ফলাও করে রানী লক্ষী-বাই তাঁর ঝাঁসীর দুর্গ রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ হারান সে খবর আমাদের কাছে তুলে ধরে| দমনের শেষ পর্বে বাকি সমস্ত রাজারা তাদের নিজেদের সময় সুবিধা মাফিক ইংরেজদের দলে ভিড়ে গেলেন | ব্যাস, মহাবিদ্রোহের ঐখানেই শেষ | চলুন এবার যাওয়া যাক তৎকালীন পরাধীন ভারতের রাজনৈতিক পার্টির প্রসঙ্গে । সেই সময় পরাধীন ভারতে বেশ কয়েকটি পার্টি ছিল | প্রত্যেকের পৃথক পৃথক উদ্দেশ্য ছিল | আমি পার্টি গুলো ও তাদের উদ্দেশ্যকে পর পর সাজিয়ে এগিয়ে চলার চেষ্টা করছি.
 প্রথমেই বলা চলে কংগ্রেসের কথা | এই দলটি অ্যালেন অক্টাভিয়ান হিউম নামক এক ব্রিটিশ তৈরী করেছিল | এর মূল উদ্দেশ্যটাই ছিল সেফটি ভালভের মতো কাজ করা | অর্থাৎ দেশীয় জনতার যত রাগ বা ক্ষোভ আছে সব শান্তিপূর্ণ ভাবে বের করে দেয়াই এই দলটির প্রধান ও মুখ্য কাজ | এরপরে ১৯০৬ সালে তৈরী হয় মুসলিম লীগ | এই দলটির মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল মুসলিমদের ধর্ম , ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির রক্ষা করা | এছাড়া এর দ্বিতীয় কোনো উদ্দেশ্য ছিল না | সম্ভবত এটি ভারতের প্রথম ধর্মীয় রাজনৈতিক দল | এই দলটিকে ইংরেজরা এসেম্বলির সদস্য করে | প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে এর উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ প্রশাসনে মুসলিম যুবকদের বেশি করে ঢোকানো | তাই এরা বেশি বেশি মুসলিম যুবকদের প্রশাসনে ঢোকায় | ব্রিটিশদের সাথে এদের ভালো সম্পর্ক ছিল | ৮০% মুসলিম এর কথায় চলত | আর তাই  ব্রিটিশ বিরোধী সহিংস আন্দোলনে এরা অংশ নেয় নি । মুসলিম লীগের এইরকম আগ্রাসী মনোভাব হিন্দুদের ভীত করে তোলে | দেশটা আবার মুসলিমদের হাতে চলে যাবার ভয় যত না ছিল তার চেয়ে বেশি ধর্মের ভয় | সেই ভয় থেকে ১৯০৯ সালে জন্ম নেয় হিন্দু মহাসভা | এই দলটির উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু ধর্ম, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে রক্ষা করা | এটি দ্বিতীয় ধর্মীয় রজনৈতিক দল | কংগ্রেসের সাথে এই দলটি প্রতিযোগিতা করতে শুরু করে | এর উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসনে হিন্দু যুবকদের বেশি করে ঢোকানো | এরই একটা সাথী ছিল, বা বলা যেতে পারে অ্যাকশন গ্রুপ ছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ , যা ১৯২৫ সালে তৈরী হয় | এই হিন্দু মহাসভার সদস্য ডক্টর বি কে মুঞ্জে লন্ডনে গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দিতে যান | ফেরার পথে ইতালিতে মুসোলিনির ফ্যাসিবাদী কার্যকলাপে আকৃষ্ট হন এবং হিন্দু যুবকদের সমরশিক্ষা দানের জন্য সেন্ট্রাল হিন্দু মিলিটারি একাডেমী তৈরী করেন | এছাড়া আর এস এসের গুরু সদাশিব গোলওয়াল্কর হিটলারের আর্য রক্তের কনসেপ্টকে খুব পছন্দ করেন | হিন্দু মহাসভার সাভার্কারের নেতৃত্বে অহিন্দুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হয় |হিন্দু মহাসভা পাঞ্জাব ও উত্তর পশ্চিম অঞ্চলে মুসলমানদের ও শিখদের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক কার্যকলাপ শুরু করে যা পরে দেশভাগের জমি প্রস্তুত করে | এরাও ব্রিটিশ সরকারের সাথে সহযোগিতাই করেছিল | ব্রিটিশ এদেরকেও এসেম্বলির সদস্য করে | ব্রিটিশ বিরোধী সহিংস আন্দোলনে এরা অংশ নেয় নি | প্রায় ৮০% হিন্দু এদের কথায় চলত । এই দুই দলের কার্যকলাপ একটা বিষয় পরিস্কার করে যে কেন ভারতে সহিংস বিপ্লবীর সংখ্যা এত কম ছিল | ধর্মই আমাদের ব্রিটিশের বিরোধিতা করতে দেয় নি | যদি দিত তাহলে আমরা আরো আগে স্বাধীন হতাম | ভালো রে ভাই ভালো ,  ধর্মই বেঁচে থাক চিরকাল, মানুষ আর সমাজ না হয় চুলোয় যাক | গোপন সুত্রে জানা যায় এই হিন্দু মহাসভা ও মুসলিম লীগের ছেলেদের ব্রিটিশ প্রশাসনে অনুপ্রবেশ দেশভাগে সহায়তা করেছিল ] এই রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে যে হাস্যকর রকমের প্রতিযোগিতা চলছিল তা বলা-বাহুল্য  | কংগ্রেসের ভারত ছাড় আন্দোলনে হিন্দু মহাসভা ও মুসলিম লীগ কেউই অংশ নেই নি | কংগ্রেসের তেরঙ্গা ঝান্ডা হিন্দু মহাসভা সমর্থন করে নি, তারা চেয়েছিল গেরুয়া ঝান্ডা | কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানও হিন্দু মহাসভা পছন্দ করে নি | তারা চেয়েছিল মনুসংহিতার আদলে সংবিধান | আর এস এসের সদস্য নাথুরাম গড সে তো কংগ্রেসের গান্ধীকে হত্যাই করলো | মুসলিম লীগ খিলাফত আন্দোলনেও অংশ নেয় নি , যেহেতু সেটা ব্রিটিশ বিরোধী ছিল | তারা এর বিরোধিতা করে | কংগ্রেস অখন্ড ভারত চাইলে মুসলিম লীগ পাকিস্তান চায় | আবার হিন্দু মহাসভা ও মুসলিম লীগের উগ্র ধর্মীয় কার্যকলাপের বিরোধিতা করে কংগ্রেস | সব মিলিয়ে আজকের রাজনৈতিক পার্টিদের কোন্দলের মতই পরিস্থিতি | স্বদেশপ্রেম, স্বাধীনতা ইত্যাদির কোনো গল্পই ছিল না । 
চলুন এবার ভারতের সহিংস আন্দোলন কেমন ছিল দেখা যাক | ভারতের সহিংস আন্দোলন শুরু হয় ১৮৫৭র মহাযুদ্ধ দিয়ে | সেটা যে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক কারণে হয়েছিল সেটা তো আগেই বলেছি | এরপরে সহিংস আন্দোলনে বাংলার বিপ্লবীদের কথা আসে | ১৯০৫ সালে অনুশীলন সমিতি ঢাকায় তৈরী হয় ৮০ জন হিন্দু যুবককে নিয়ে| এই সমিতির সদস্যরা ব্রিটিশদের উপর সহিংস হামলা করত । চাপেকার ভাইরা মহারাষ্ট্রে রান্ড আর আয়ার্স্ট নাম দুই ইংরাজকে মেরেছিল। ভগত সিং এন্ড কোং পাঞ্জাবে পার্লামেন্ট-এ বোম মেরেছিল । এরা হিন্দুস্তান রিপাবলিকান এসোসিয়েশন-এর সদস্য ছিল । বিনয়-বাদল-দিনেশ নেতাজীর বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স গ্রুপের সদস্য ছিল | তারা লোমান নামে এক ইংরাজ অফিসার আর রাইটার্স-এ সিম্পসন নামে এক অফিসারকে মারে | স যাই হোক সহিংস আন্দোলনে নেতাজীর ভূমিকার কথা না বললে অন্যায় করা হয় | নেতাজিই একমাত্র ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব | তিনিই আঞ্চলিক-ধর্মীয়-গোষ্ঠী স্বার্থ-এর মত সংকীর্ণ বিষয়ের উর্ধ্বে সর্বভারতীয় ভাব আনতে পেরেছিলেন | তার আজাদ হিন্দ ফৌজে সব জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে লোক যোগদান করেছিল | অথচ তিনিই স্বাধীন ভারতে পাত্তা পেলেন না | এর পিছনে নেহেরুর কংগ্রেসী রাজনীতি কাজ করছিল | এখন অবশ্য রাজনৈতিক দলগুলি তাঁকে নিয়ে খুব ব্যস্ত | এছাড়াও বহু সহিংস আন্দোলন হয়েছিল যা বিচ্ছিন্ন ও অসংগঠিত হবার দরুন আরামসে দমন করা গেছিল | তবে এই বিপ্লবীদের কয়েকটি কাজ একদম সমর্থন যোগ্য নয় | ক্ষুদিরাম কিংসলি সাহেবের বউ ও মেয়েকে মারে | ভগত সিং লালাজির হত্যাকারী হিসেবে সন্ডার্স নাম নির্দোষ ইংরাজকে মারে , বিনয়-বাদল-দিনেশ রাইটার্স-এ সিম্পসনের পাশাপাশি বহু নির্দোষ ইংরাজ অফিসারকে মারে | গোটা আন্দোলনটাই ছিল বিচ্ছিন্ন | কোনো সুসংগঠিত ভাব ছিল না | সর্বভারতীয় ভাব একমাত্র নেতাজি ছাড়া কথাও ছিল না | তবে ওদের এই সহিংস আক্রমনে ব্রিটিশ সরকার মোটেই ভয় পায়নি | যদিও দেশীয় ব্যবসায়ীরা কিন্তু স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেননি | কেননা তারা তখন ব্যবসায়িক ফায়দা লুটছিলেন | যেমন কংগ্রেস-এর ভারত ছাড় আন্দোলনের সময় খদ্দরের চাহিদা বেড়েছিল | সেই সময় আগুন দরে খদ্দর বেচে বস্ত্র ব্যবসায়ীরা লাভ করেছিলেন | দু-দুটো মহাযুদ্ধে ব্রিটিশকে নানা জিনিসের যোগান দিয়ে দেশীয় ব্যবসায়ী টাটা-বিড়লারা খুবই লাভ করেছিল | স্বাধীনতা আন্দোলনের নেশা ওদের ছিল না| সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে দেখা যাচ্ছে যে সর্বভারতীয় স্তরে শুধু এক নেতাজি ছাড়া কেউই আন্দোলন করেনি | তাহলে ভারত কিকরে স্বাধীন হলো ? এটা সম্পূর্ণ পরিস্থিতির কারণে হয়েছে | দু-দুটো মহাযুদ্ধে ব্রিটেন সাংঘাতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় | তার অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়ে | এই বিশাল সাম্রাজ্য রক্ষার ব্যয়ভার আর সে বহন করতে পারেনি | তাই বাধ্য হয়ে ভারতকে স্বাধীন করে ।
আশাকরি এটা স্পষ্ট যে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে কোনো পলিটিকাল পার্টিই কোনো উল্লেখযোগ্য কাজ করেনি | আসলে কাউকেই ব্রিটিশরা পাত্তা দেয় নি | সহিংস বিপ্লবীরাও ব্রিটিশদের ভয় পাওয়াতে পারেনি | আর সংখ্যাগুরু হিন্দু মহাসভা, মুসলিম লীগ, কংগ্রেস ব্রিটিশ বিরোধী ছিল না | সংখ্যালঘু অসংগঠিত সহিংস বিপ্লবীদের আরামসে মারা গেছিল | সুতরাং স্বাধীনতার যুদ্ধে ব্রিটিশদের সেরকম কঠোর প্রতিপক্ষ কেউ ছিল না | ব্রিটিশরা ভারত ছেড়েছে সম্পূর্ণ অন্য কারণে | দু-দুটো মহাযুদ্ধে আর্থিক ভাবে সর্বস্বান্ত হবার পর তারা ভারত ছেড়েছে নইলে ছাড়ত না | এখন অবশ্য পলিটিকাল পার্টিরা স্বাধীনতা যুদ্ধের ক্রেডিট দাবি করে | কিন্তু তাদেরকে ব্রিটিশরা গ্রাহ্য করে নি | পরিশেষে একটাই কথা বলে রাখি ধর্মের গোড়ামী আমাদের স্বাধীনতায় আজও হস্তক্ষেপ করে By hook or by crook !