Sunday, August 13, 2017






















সেদিন রাতে হঠাৎঃ
দেবব্রত তাঁতী

মুহূর্ত চুপ । কেন হটাত করেই সে এসে জড়িয়ে ধরে
কেন না বলা কথা বলতেই দ্বিধা

আসল সময় তো সেই অচেনা তবুও কুয়োর ব্যাঙ আমরা
এই জন্মের পৃথিবী এক আর আকাশ খুঁজে নেওয়ার আশায়
রাত জাগা তারারা ও আত্ম দহনে পুড়ছে

বড্ড অদ্ভুত । কবে ধুমকেতু নামবে দেখব তাকে
কবে হাসলে মনে নেই তো

অন্ধকারে কাঁচের আয়নায় মুখ ঝাপসা ; অথচ চশমা পড়া
বহুদূর কাছা কাছি কই ! শেষ রেলগাড়ি কেবল জংশন খোঁজে
যাত্রী সংখ্যা কম; জানলার ধারে ঠাণ্ডা বাতাস লাগছে

শিল্পী আর তার ধাঁচে নামে এড়িয়ে যাওয়ার আকাঙ্খা
কেউ কাউকে বিশ্বাস করেনা ; পারলে ঘুমিয়ে পড়ো
কিন্তু মনের খটকা তা জেগে থাকে

সেদিন না শুনতে চাইলেও শোনাবো একরকম জোর করেই
এই আড়ি এই ভাব খেলা বেশ ভালো তবে যেন
উদাসী বিকেলের পথ ধুলো মাখে

যাহ্‌ ! যখন বলে তখন কেউ শোনে না
আর শেষ দিকে আগ্রহী মন এলেও ওপার থেকে সাড়া পায় না

কেন যদি বল সে প্রশ্নের উত্তর নেই
সব কিছু বলে দিতে ইচ্ছে করে কিন্তু পারিনা
বাধা ; নিজেকে লুকিয়ে রাখার আনন্দ টাই রহস্য

পুরুষ প্রেম নারী ভালোবাসা তাহলে একে অপরের পরিপূরক
সময়েই বদলে যায় সবকিছু ভাললাগাও

কিছুই জানি না , বুঝিনা , পারিনা বলতে বলতে
কবে থেকে যে না এর সাথে বন্ধুত্ব হয়ে গেলো নিজেই বেমালুম ভুলে

এতো সহজেই বন্ধুত্ব ভাঙ্গি না । ঠুনকো নয় এ সম্পর্ক

অ আ ক খ পড়তে শিখলেই কি সব জেনে যাওয়া যায়
           এবার তুমি বল
                আমি শুনি
     এবার তুমি বক্তা
         আমি শ্রোতা

কখন কি ভেবে দেখেছো জল কেন বাষ্পীভূত হয়ে ওপরে ওঠে
আবার নেমে আসে ভিন্নরূপে

না বেশি ভেবনা কোনদিন আমার মতো পাগল হয়ে
ঘুরে বেড়াবে শ্মশানে ; অলিতে গলিতে ...

প্রথম থেকে সব কথোপকথন মনে কর একবার
বুঝে যাবে কত বিচিত্র রুপ আছে ভূমিকায়

শরীর টা খোলস আর মনটাই সব তবে মনের দাস হয়ে পড়বে
এ বিষ শরীর কে আগুনে পুড়িয়ে মারবে আর কিছুদিন বাদে ;

           হেসো না দিদিমা , হেসো না
      বড্ড তাড়াহুড়ো করে গোছাতে গিয়েই দেরি হয়ে গেছে
          বড্ড খামখেয়ালী ; চঞ্চল মন তো
কতদিন জিভ , ঠোঁট লাল রঙ নেয়নি; একটা পান দিয়ো
চুন লাগাতে ভুলো না ; ওটাই তো সারাংশ

ঘুমহীন রাতে কি সব ভুল বকে যাচ্ছি দেখো
এখন ঘুমাবার সময় আসেনি ; ভাবি বাপের প্রতিকৃতি হয়েও
কত অসম্পূর্ণতা রয়েছে ; ফাঁপা গোলক আমি 

         কবিতা আর মনকে গলা টিপে মেরে ফেলেছি
              বোবা কান্না কেঁদে কেঁদে
           পিষে দিচ্ছিল

এভাবেই কি স্বপ্ন গুলোকে হাতছাড়া করে দিতে আছে
হতছাড়া ছন্নছাড়া – ওরা ঠিক টা বলেছে

ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা শিশুটা সুপ্ত আগ্নেয়গিরি

কি জ্বালা ! কিছুই চাইনা বলতে বলতে কত কি চেয়ে বসেছি
দূর ভাললেগেনা । দূর ছাই । এ কেমন কাঙালপনা

চুপ
 যাও
   এসো
      বল
      না থাক
লিখবনা ভেবেই আবার লিখে ফেললাম
   এই রে
     হয়ে গেলো
ওসব পেলে আটকে রাখতে নেই
              সত্যি !
    না মিথ্যে !
হেসো না 
ভোর হয়ে এলো ঘুমিয়ে পড়ো নইলে জুজু বকবে ।       


এখনও ঘুমের দেশের বেনামি চিঠি আসেনি
অমল হয়েই জানলার ধারে
বুঝল না সেও ; চাঁদ পরী কে দেখছি

প্রেম, পুরুষ, নারী আর ঈশ্বর এর সংলাপ আরম্ভ কবিতার জন্মের দিকে
আর শেষের দিকে বৈতরিনি পার হতে বেলা বয়ে আসে
কখন মিলবে আবার অন্য বসন্তে

নীরবতা থাক
 শব্দের কাটাকুটি খেলা থাক
   অভিমান থাক
     খেলা চিরকাল ।।


রিপুর দোষ । চেপে যাওয়ায় শ্রেয় নইলে যে কি হবে
পাখিদের ডাক শুনিনি অনেকদিন কবেকার কথা গুলো ধুলোবালি
জমতে জমতে একটা জীবাশ্ম তে পরিণত


ইতি বলে চলে আসাটা যেতেই পারতো
মন বড়ো গোলমেলে বস্তু ;
             হরি হরি

পাঁচিল ভাঙ্গার ইচ্ছে ছিল একদা ; এখন নেই বলতেই পারি
কিন্তু বলব কেন ? শুনবেই বা কেন ?

সত্যিই লোডশেডিং হয়ে গেলো ; যখন ঘুমাতে চাইব তখন জেগেই কেটে গেলো । আর এখন ... উফফ কি গরম । হাত কাউকে খুঁজছে ... টর্চ টা কোথায় ? শুধু অন্ধকার দেখি কেন ? আলো তো আমিও দেখতে চাইতাম । ওহ ... এই তো ... পেলাম । যাই একটু বাইরের দিকে ...
কিন্তু এখন কি আমার টর্চের দরকার আছে ? জোনাকি সেও পালিয়েছে ...।। সেদিন রাতে কি সত্যিই উল্কাপাত পড়েছিল নাকি সব ভুল । আজ কি দিন যেন , এখন সময় কত হল ? একি সবাই চুপ কেন ? কেউ কিছু বলছেনা কেন ? কতক্ষণ যে মুহূর্তটা ছুঁয়ে ছিল ...?


Saturday, August 12, 2017



















মধ্যরাতের খন্ড কবিতা- পর্ব- ১৫
    লক্ষ্মী নন্দী

টালমাটাল অাহ্লাদী
পৃথিবীর বুকে
কবিকে বাঁচিয়ে রাখার
বিজ্ঞাপন দিয়ে চলেছি। 
কত রাত নির্ঘুম 
অদমিত তর্জনী -----
অদৃশ্য ব্যথা বুকে 
একাকী উৎসুক মৌন। 
বিধস্ত খোলসের ভিতর 
বিষন্নমন। কবিকে
ছুঁয়েছে পৃথিবীর 
ত্বকহীন শরীর -।
কবির কানে 
মহাপৃথিবীর
কণ্ঠস্বরের তিব্র,
অাণবিক
অার্ত চিৎকার।
কবির অবয়ব অনড়।
যেন দক্ষ প্রতারক 
কিন্তু প্রতারনাহীন
নিকষ নিশার মাঝে।
অাত্মার অাবরণে 
ঠাট্টা জরানো হাসি
শেকড়বিহীন
বিহ্বলতায়। 
নড়ে রাত।
সাদা পৃষ্ঠা খোঁজে 
গোপন শয্যায়-কবির
স্বীকারোক্তি।
অামি শূন্যতা খুঁড়ে 
মুড সাপ্লাই দেই। 
অসম্ভবের জগতে
কবিকে ভাঙি চূরমার।
অক্ষরে-রা স্নায়ু
প্রশাখায় নড়েচড়ে। 
শব্দরা বাঁধে দানা।
ওলটপালট শান্ত 
শিহরণ নিমগ্ন বাক্যরা 
মুছতে থাকে কবির
যন্ত্রণার ক্ষতচিহ্ন। 
অন্ধকার হয়ে ওঠে 
স্ফটিক। 
অামি অার কবি
দু-জন এক অস্তিত্ব 
এক অভিজ্ঞানে 
দেখি স্বর্ণগুহায় 
বিকিরিত 
হতেছে  মধ্যরাত।।।। 


















The Story of Night
Monalisa Rehman 

With the wet eyes silently 
Feel only the story of night 
An open bare night of stars
A beautiful night of snowy peak 
A living night of our happy life 
A night of destinations 


Once upon a time 
We met in a coastal Plains 
in a dreamy land for ports 
And harbours 
Ideal for farming and fishing
We enjoyed together 

We met in day of dazzling 
A life of flashing delights 
A life of furnished happiness 
I am banished from the continent 
in a while. 
I am tired 
I am helpless



















নিয়ম ভাঙ্গি
মন্দিরা ঘোষ


আজ সকালটা নিয়ম ভাঙ্গার হল 
চায়ের পরিপাটিতে তোমার হাত
আমি লাল সিগনাল অগ্রাহ্য করি
বিছানা আদরে ডুবে থাকি
লক্ষীছাড়ার দলে 
এসো আজ অসময়ের আগুনে 
ঝাঁপ দেবার বাসনা করি
হাতের ভেতর হাত পুড়ে যাক

ছাইয়ের নীচে অরূপরতন খুঁজি
স্খলনের লাল নীল বেলুন ওড়াই
এসো আজ একটু নিয়ম ভাঙ্গি
আজ  একটু স্বচ্ছ  হই
আজ  চশমা খুলে কবিতা পড়ি
আজ আমরা প্রথম দিনের আনন্দ নিই
এসো প্রেমসহবাসে নিয়ম ভাঙ্গি আজ

Friday, August 11, 2017



















কিছু স্বপ্ন কিছু বাস্তব
সুস্মিতা কুন্ডু
 
গরমে গরমে কাহিল নাজেহাল 
    একেবারে জেরবার হয়ে বাবুসোনা                 
 মেঘ-বৃষ্টির খোঁজে বার্তা পাঠিয়ে ছিলো ডাকে , 
          সেটা কি জানো তোমরা ? 
 
          চিঠি খানি হাতে পেল কালো মেঘের দল 
           ডাকে পাঠানোর ঠিক দুই হপ্তা পর ;
   ডিসিশন নিতে মিটিং ডাকল তারপর ,
                  আলোচনা চালালো তারা রাতভর ; 
 
         ডাকপিয়ন এসে খোকনসোনার হাতে
                দিয়ে গেল রিপ্লাই চিঠিখানি ,
       উৎসাহে ভরপুর ঠাকুরদাদা - নাতি 
          খুলে দেখে মুক্তোক্ষরে লিখেছে বৃষ্টিরানি ; 
 
   "আসব আসছি করে 
          জানিনা কার রোষে ! 
                  নিম্নচাপ অতিবর্ষণে
                        ঝরেছি অবৃষ্টির দেশে ; 
          আবহাওয়া গরমিল 
                 অযাচিত দিনদিন !
                     আমাদেরও ঘাম ছোটে  
                         পড়ে উষ্ণায়নের ফাঁদে ! 
                 সূর্যদেবের রোষ আটকাতে 
                      বলি শোনো একটাই পথ ,
                             কাটো পুকুর ,কেটোনা গাছ 
                                    গড়ো সবুজ বনাঞ্চল ;"  
  
        চিঠি খানি পড়ে যখন বাবুসোনা খুশী ,
        ঈশান কোণে দেখে মেঘের দলের উঁকি ;     
      হাত নাড়িয়ে হাসি মেখে বলল তারে ডেকে ,
  চিঠির সাথেই এসে গেছি আমরা তোমার দেশে ; 
 
টাপুর টুপুর শব্দ করে নামল  অঝোর ধারা ,
ঠাকুরদাদার হাসি মুখ আনন্দে আত্মহারা ;
গাছ ভেজে ,মাঠ ভেজে ,ভিজছে ঘর-বাড়ি  
পৃথিবীটা লাগছে দেখো সবুজ সবুজ ভারি ; 
 
নক্সীকাথা গায়ে জড়িয়ে  খোকা , দাদার সাথে ,
ঠান্ডা আমেজ মেখে গায়ে ,আরামে চোখ বোজে ; 
ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখে  মুচকি মুচকি হাসে , 
সবাই মিলে পৌঁছে গেছে নীল সবুজের দেশে ।।

Wednesday, August 9, 2017

" তোমায় খুঁজি "
 সমীরণ চক্রবর্ত্তী 


খুঁজি তোমায় নদীর তীরে
সোনার তরী একা,
ফিরে এসো প্রাণের ঠাকুর
পাইনি তোমার দেখা।

তোমায় খুঁজি শিশির ভেজা
নতুন ধানের শীষে,
ভোরের আলোয় শিউলি তলায়
সাদা কাশের দেশে।

দিবস গেলো তোমায় খুঁজে
রাত্রি হল ভোর,
তোমায় খুঁজেই কাটলো জীবন
কাটলো নাতো ঘোর।

চোখ দু'টো আজ ভরলো জলে
বাইরে তখন প্লাবন,
কুঁড়ে ঘরেই তোমায় খুঁজি
আজ বাইশে শ্রাবণ।

জানি তুমি আছো সাথেই
হৃদে তোমার সুর,
মিছেই তবু খুঁজে ফিরি
প্রাণের রবি ঠাকুর।















শ্রাবণধারা
মাধবী দাস

এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা
তালগাছটিকে পেছনে রেখে
ঋতুপথ ধরে হাঁটতে থাকলে
শ্রাবণমেঘের চোখের তারায়
থইথই জল দেখা যায়। জলে
ভাসতে থাকে একটি নৌকো,
নৌকোয় বসে পৌঁছতে  পারি
সহজপাঠের ক্ষীর-দই মাখা
তেমাথার আধশুকনো  
নদীটির পাশে গেরস্থবাড়ির সেই উঠোনে,
যেখানে রান্নাঘরের চালে তিনটি শালিক ঝগড়া করছে
অনন্ত কাল থেকে।
দুটি বা তার বেশি শালিক
নয় কেন এমন কিছু ভাবার আগেই উঠোনের কোণে ফুটে
থাকা সূর্যমুখী ফুলটি
অতিকথনের পঙক্তিতে
একটা বড় জিজ্ঞাসা চিহ্ন এঁকে দিল।
সেই জিজ্ঞাসা চিহ্ন থেকে
আজও ঝরছে শ্রাবণধারা
আলো
কৃষ্ণা সাহা 

রাতের আকাশ কালো গুমোট মেঘাচ্ছন্ন। 
খোলা জানালা পেরিয়ে 
বিছানার মন ভার করা ভাবনারা 
মেশে গুমোট মেঘের সাথে।
নাভি থেকে উঠে আসা দীর্ঘশ্বাস 
মিশতে চায় ভিসুভিয়াসের উন্মত্ত লাভায়। 
ভোরের শিশিরে পাপডি মেলে
নাম-না-জানা জংলী ফুলেরা। 
পরিযায়ী পাখিদের ডানায় ভর 
করে মন পাড়ি দেয় পরদেশে।
রাতের নিস্তব্ধতায়
উষ্ণ দেহের বাসনা চায় 
তৃপ্তির শীতলতা। 
এসো প্রেম,
শরীরে মেশাই শরীর। 
একটা মননশীল ভ্রুণ
প্রোথিত করি জঠরের উত্তাপে। 
----- যে হবে এই অশান্ত পৃথিবীর
নিঃসীম অন্ধকারে এক টুকরো আলো।

Sunday, August 6, 2017












আরেকটা সূর্য
শুভদীপ
------------
আমাদের বস্তিতে সূর্যকে নিয়ে-
লোফালুফি চলছে।
আস্তিনে লুকিয়ে-
কেউ হাসছে পৈশাচিক হাসি।
আসলে আমাদের বস্তিতে
মৃত্যুর রাজ্যাভিষেক হয়েছে।
সেদিন থেকেই একটা চাপা কান্না
কানে বেজে বেজে সয়ে গেছে এখন।
আমাদের সব গাছ বিষবৃক্ষ।
তারা পাতা ঝরায় -
সেই নদীর বিষন্ন জলের ওপর,
যে অপলক তাকিয়ে থাকে
আমাদের দিকে।
আমরা নীরব; চেয়ে দেখি-
শিরা দিয়ে কালো রক্ত যায়
অলিন্দের দিকে।

আমরা নীরব; চেয়ে দেখি-
আকাশের পানে।
একটা আলোর ফুলকি দেখি
আমরা নিকষ আধারে।
ছানি পড়া চোখে স্বপ্ন দেখি-
আরেকটা সূর্য ওঠার।
Dreamless Dream 
Monalisa Rehman 

In a crowded city,
I walked alone along with the road
Nevertheless I could not 
Hear the crisis of century... 
In a moment everything is destroyed 
Arts exist from the source of
Emotional bonding 
Now I am hearing only the cry of 
humanity's boredom 
Necessities are gone away day by day 
Dreamless dream only exists..
তুমি চাইলেই

মন্দিরা  ঘোষ

তুমি চাইলেই আমি হাত বাড়াই
পুকুরের শ্যাওলার মত সরিয়ে দিই
সময়ের বাধ্যবাধকতা

তুমি  চাইলেই তোমার অবাধ্য 
উপোষী ঠোঁটের সীমারেখা টানি
অচেনা অন্ধকূপে

তুমি চাইলেই একটা আস্ত জীবন 
ছুঁড়ে দিতে পারি 
ডাস্টবিনের পাতায়

তুমি চাইলে লোভী কুকুরের
ভোজসভায় পেতে দিই 
মধ্যবর্তী সময়ের বলিরেখা

তুমি চাইলেই কৃষ্ণচূড়ারাত গুলো 
লুকিয়ে ফেলি আমার
গোপন অন্তর্বাসে

তুমি চাইলে কফিনের আদরে 
আমি অপেক্ষা ধরে রাখতে পারি

 আজীবন












মধ্যবিত্ত বাবার লেখিকা কন্যা
পিয়াংকি মুখার্জী

বাবা ,তোমার কথায় মেনে নিয়েছিলাম বিয়ের পিঁড়ি, সেই ছোট্ট আমার কান্নাভেজা অবেলায় ;
তোমার "পত্রলিপি" খাতার প্রেমে পড়ে বেছে নিয়েছিলাম কবিতা লেখার প্রতিদিনের নির্দিষ্ট একটা সময় !


বাবা , তোমার অসহায় আর্থিক অবস্থা আমায় সাড়ে পনেরোতেই করেছিল "নববধূ",
একটা "তিথি-নক্ষত্র"এর ব্যাবধানে তোমার আদরের "মিঠুয়া"র হলো  নবজন্ম...কুলীন বন্ধ্যোপাধ্যায় বাড়ির ছোট পুত্রবধূ!

আজ অনেকগুলো বছর পেরিয়েছে বাবা , অনেকগুলো ঘন্টা - মিনিট - সেকেন্ড ;
জীবন - খাতাটা আজ ও আক্ষেপের জ্বরে ভোগে , হয়ে গেছে রোগী পারমানেন্ট!

কষ্ট নেই আর্থিকে - সামাজিকে - বৈষয়িকে -প্রেমিকে,
সত্যিই তো কোন কষ্ট নেই আমার মানসিকে,
তবুও ফাটিয়ে গলা , চিত্কার করে উচ্চস্বরে ;
বলতে কেন পারি না ? আমি সুখী সম্পূর্ণা???
সারাদিন সবকিছু পেয়ে ও মন পড়ে রয় গভীর বনের হারানো পথে...
দিন - রাত জুড়ে চলে মনের সাথে মনের দোটানা ॥

তোমার চির অসুখ সুগার, ব্লাড প্রেসার ,ব্রেন স্ট্রোক ,
প্রতিমুহূর্তে করে আমায় চিন্তাগ্রস্থ ,
কোন এক অচেনা বৃক্ষের মগডালের পাখির বাসায় মন পড়ে রয় ,
ভাবতে চাই সব অসুখ বোধহয় ভগবানের করানো কোন চরম অভিনয় !

আত্মারা তো নির্বাক বাবা ,তবুও কেন প্রতি ক্ষণে ক্ষণে...
ওরা টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায় আমায় যুগের বিবর্তনে!

আমি স্বপ্নের ঘোরেই থাকতে চাই...
ঘুম না ভাঙ্গার ওষুধ বেশী বেশী করে খাই ,
ঘুম ভাঙ্গলেই অতৃপ্ত আত্মারা করে তাড়া...
ছুটতে পারি না ওদের এড়িয়ে ,
তাই , অকারন হয়ে থাকি ঘুমন্ত যুগান্তরের গভীরে !

শ্বশুরবাড়ির পাঁচের সংসার শেখালো অনেক কিছু ,
একাকী জীবন পথে চলতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে আরো শিখলাম নিজের পিছু পিছু !

কিছু হলো না এ জীবনে ,কেন বারং বার মনে হয় ?
বোধকরি সবটাই তোমার মিঠুয়ার নীরব পরাজয় !

তুমিই তো শত সহস্র বার চেয়েছিলে বাবা , আমায় জয়ী দেখতে...
আমার জেতার আনন্দ...আনন্দে দুগালে মাখতে !
ছিলাম তোমার ছোট্ট রাজত্বের রাজকন্যা ,
কেন হতে পারলাম না জীবন - লড়াইয়ের রানী মা ?

মাধ্যমিকের সাতটা লেটার , পঁচাশি শতাংশ নম্বর সমেত যে কাগজের টুকরোটা তোলা আছে আলমারির গোছানো ফাইলের ভাঁজে ;
আজ এত বছর পরেও  আলমারি খুললেই সেটা আমায় দেখে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে আর আমায় গিলে খেতে আসে !!!

ওকেও তো বোঝালাম কত শত করে আদরে আবদারে শাসনে ,
ওরে কাগজ ,আমি হতে চেয়েছিলাম ডাক্তার...
সেটা কজন ই বা জানে ?
মধ্যবিত্তের স্বপ্ন এভাবেই মরে জলে ডুবে নদীর মাঝখানে!!!

হাজার কাজের ভিড়ে ও...
বাবা ,মন পড়ে থাকে তোমার মাঝে ,
ভাবি কত কষ্ট করেছিলে তুমি সকাল - সাঁঝে !
দুর্বল শরীর আর অক্লান্ত পরিশ্রম নিয়েও করে গেছ শুধু চেষ্টা ,
কিভাবে ভাল থাকবে তোমার রাজকন্যা আর তার সুখের তৈরী দেশটা ॥

"সব পেয়েছির আসরে" আজ গিয়েছিলাম বাবা সেজেগুজে ,
স্বামী - সংসার - সন্তান সব পেয়েছি এই ভেবে নিশ্চিন্তে চোখ বুজে !
কিন্তু বাবা ,তোমার মেয়ে আজ প্রতারিত হলো...
অসম্পুর্ন জীবনের জন্য প্রতিযোগীর তকমা পেল না যখন ,
তখন কেও তো ওকে পিছু ডাকলো না ,বুঝলো না ওর মনের বেদন !

তখন ও দেখি আসরের বাইরে তুমি দাঁড়িয়ে আছ একা ,
ভাবছ মিঠুয়া কাঁদবে ফুঁপিয়ে....ছোট্ট বেলার মতন...
এখনও বুঝি ও বড্ড বোকা ॥

কান্নারা সব বিদায় নিয়েছে বাবা চোখের জলে ভেসে ,
দিয়ে গেছে শুধু লেখনীশক্তি , তোমার মেয়েকে ভালবেসে !

আজ বৃদ্ধ বয়সে ভর দুপুরে একা তোমায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ,
ভীষণ রকম উত্সাহ পাই আনন্দে - কষ্টে - আবেগে !

পড়ন্ত বিকেল সাঁঝে তোমার চোখে তোমার মিঠুয়া জয়ী...
তোমার দেওয়া বাস্তব শিক্ষায় আজ সে সত্যিই  প্রত্যয়ী ॥

আর কাঁদিনা বাবা ,জানি যে কটা বছর আছে তোমার হাতে...
তার মধ্যেই একটু হলেও প্রতিষ্ঠা করতে হবে নিজেকে তোমার শান্তির স্বার্থে !

সব অভিমান আর অতৃপ্তিগুলোকে ধাক্কা দিয়েছি গভীর জলে ,
শেষ হাসি হাসব আমিই ,হয়ে উঠব আবার ঝলমলে !!!
সেইজন্য ই...
তোমার দেয়া শিক্ষা মতো বাবা ,আঁটচালাতেই আছি আমি ;
মনকে গড়েছি ঠিক্  অট্টালিকা,
আজ আমার লেখা পড়ে কাঁদে পাঠক যখন...
তখন মনে হয় আমি স্বপ্ন পূরণের পথে 
সফল এক লেখিকা ॥
হ্যাঁ বাবা ,তোমার আশীর্বাদে আমি শুধু সংসার সামলানো গৃহবধূ নই...
উনুনের গনগনে লালচে আগুন রাঙ্গা জয়িতা হতে চাই...
মধ্যবিত্ত বাবার আদুরে রাজকন্যা লেখিকা হতে চাই...
আমি লেখিকা হবার স্বপ্ন পূরণের পথে হাঁটছি তাই !!!

Friday, August 4, 2017

বিপ্লব সরকারের তিনটি ক্ষুদ্র কবিতা
-----------------------------------------------------
সিগনাল

এই বুঝি শেষ ইতস্তত দৌড়
আমার শক্তি অন্বেষণ
তুমি ফাঁক রেখো না আর
ওমের গন্ধে প্লীজ...
ভাস্বতী, আমার রক্ত এখন নীল
.......................
শীঘ্রপতন

প্রযুক্তির ধোঁয়ায় পুড়ে যাচ্ছে বুক
ইঁদুরগুলোর ছটফটানি
শেষ পাতায় লেখা একরাশ আগুন
চায় ক্ষরণ
হটাৎ দেখি ঝুলছে দীর্ঘ পুতুল
..........................
সাম্যবাদ ও স্বৈরতন্ত্র

কিছু কিছু সাপ
নদীবাদ চর্চা করে কেমন পাহাড়বিদ্বেষী...
দু'একটা ডানা
দীর্ঘ উড়ান ভালোবেসে কেমন অদৃশ্য বিন্দু.
..
মধ্য রাতের  খন্ড কবিতা- পর্ব ১৪
      লক্ষ্মী নন্দী 

মৃত্যু পালনীয় অামি
তুমি এলেই মনে হয়
জীবন এসেছে ঘরে।
অালোরা দুখঃ দিতে জানে
তুমি জানো দিতে
অস্তিত্ব বিস্তৃতি। 
তোমার মিচমিচে পটভুমিতে
একবুক অালতো 
অন্ধকার যখন মিলেমিশে 
একাকার হয়ে যায়
মনে হয় এর চেয়ে 
মহৎ উৎসব অার
কি হতে পারে? 
তোমার কাছে শিখেছি
অন্ধকারের একটা নিজস্ব 
দ্যুতি অাছে।
অাছে নৈঃশব্দের ব্যাপ্তি। 
যার সঙ্গে অামার অতীন্দ্রিয় 
অনিত্য জীবনকে নিয়ে 
মোহমুগ্ধ অাত্মঅাবিষ্কারে 
এগিয়ে যেতে চাইছে -
তিথি থেকে তিথিতে
গতিদিব্যতার চন্দ্রমাসে।
জানি একদিন ঠিক এভাবেই 
নক্ষত্রের তীর্থে পৌঁছে যাবো। 
অার কখনো অালোতে এসোনা
অামি প্রভাত চাই না মধ্যরাত।।