Friday, January 13, 2017

ওয়েটিং ডট. কম
বিবেক কবিরাজ

অবশেষে অপেক্ষার অবসান হয়েছিল যতটা সময় পাওয়া গিয়েছিল পলকহীন ভালোবাসা, সোহাগ, কাঁঠাল-প্রেম.. তারপর আবার দীর্ঘ প্রতীক্ষা... পরীক্ষা নিরীক্ষা বাঁচাল চ্যাটিং অসংলগ্ন মন-কাঁপন একবার তোমায় দেখি ভিডিও কলের বোতাম খুনসুটি, যাপন!! যাপন!! ........সোপান ভাঙা অঙ্কের কারিগরি...... ওয়েটিং ক্যাম্প নিউজলপাইগুড়ি ষ্টেশনে সরাইঘাট এক্সপ্রেসের এস-ওয়ান কোচ আর...গরম মোমো, শিয়ালদহ ষ্টেশনের পাঁচ নম্বর প্ল্যাটফর্মের বেঞ্চি.. আইডিয়া, মিসড্ কল বিনা পয়সার কথা বলা জিও সিম প্রতীক্ষার প্রহর পেরোতে থাকে ভোরের আজান থেকে সন্ধ্যার ঘন্টা-শঙ্খ ধ্বনি একটা ভিডিও কল অপলক চেয়ে থাকা।।
রাত বিলাস 
মৌসুমী চৌধুরী 

আঁধার নামতেই 
শরীরী আঁচে তপ্ত হয়ে ওঠে 
পৌষের বিষন্ন সন্ধ্যে ।
উগ্র প্রসাধনে হেঁটে চলে অনামিকা.....
শপিং মলের চোখ - ধাঁধাঁনো আলোও 
চাপা দিতে পারে না 
বুকের চাপ চাপ আঁধার !
মাথার ওপর এক আকাশ জ্যোত্স্নায় 
চাঁদের বুড়ি চরকা কাটে আনমনে ।
কলঙ্কের পাঁকে ফোটে অব্যক্ত যন্ত্রণা !

ওদিকে জান্তব খিদে চাগাড় দেয় 
সুস্বাদু চর্বিহীন দেহ -বিপনীতে ।
চকচকে চামড়া বিকিয়ে যায় 
ঘন্টার  মাপনীতে !
বিষাক্ত ধারালো নখ ছিঁড়ে খুঁড়ে দেয় 
এক গুচ্ছ ফুটন্ত গোলাপ ।
......অনামিকার মুখে নির্লিপ্তির বলিরেখা 
মনন জুড়ে সুস্বাদু খাবারের ঘ্রাণ ।

 রাষ্ট্রের গালে চাপটাঘাত .....
বিবেকের রক্ত ক্ষরণ হয় কবির 
  বুকের রক্তে তিনি  লিখে চলেন 
মহানগরের অস্থির যাপন 
আর পৌষালী রাত বিলাস !

Thursday, January 12, 2017


দেশভাগ এবং ......

শীলা ঘটক  

শামুর মা----- ওর আসল নাম পদ্ম। কিন্তু সবাই তাকে শামুর মা বলেই চেনে বা ডাকে। সরকারী আবাসনের পাম্প ম্যান রামপ্রসাদ সাহুর বউ। স্বামী-স্ত্রী র বয়সের অনেকটা তফাৎ , ‘বৃদ্ধস্য তরুনী ভার্যা’ বলাই যায়। লেখাপড়া না জানা, কালো, বেঁটে খাটো চেহারা--- শামুর মায়ের সঙ্গে আমার হৃদ্যতা দেখে হাউসিং এর মহিলা মহলে মাঝে মধ্যেই চুপিসারে চর্চার ঢেউ খেলত। মানুষটাকে আমি যে খুব ভালবাসতাম সেটা স্বীকার করতে আমার কোন অসুবিধা নেই। আমার স্বামী একজন সরকারী চাকুরে...... তার চাকরির সূত্রেই আমি কোচবিহারের এই আবাসনের বাসিন্দা
সারাদিনের কাজের ফাঁকে ফাঁকে শামুর মায়ের ঘরের সামনে সিমেন্টের বেঞ্চে বসে অনেকরকম গল্প করতাম আমরা দুজনে। পদ্ম নাম হওয়া সত্ত্বেও সবাই তাকে শামুর মা বলেই ডাকতো এবং পদ্ম সেটাই পছন্দ করতো---- এই বিষয়ে বলি দুর্ভাগ্যবশতঃ কিছু বছর হোল শামু গাছ থেকে পড়ে গিয়ে বুকের পাঁজর ভেঙে  মারা যায়। সকলের ডাকের মধ্যে তার ছেলে বেঁচে থাকুক এটাই ছিল তার মনের একান্ত ইচ্ছে।
শামুর মা আমার থেকে বয়সে কিছু বড়। রোজ কিছু না কিছু বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে গল্প হত, একদিন আমি প্রশ্ন করলাম বাংলাদেশ থেকে কিভাবে এখানে এলে?  আর শামুর বাবার সঙ্গে তোমার বিয়ের গল্প বলো। আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল...... বুঝতে পারলাম না জিগ্যেস করাটা ঠিক হোল কিনা! আমাকে বলল, শুনবেন? আমি বললাম, হ্যাঁ ...... পদ্ম বলতে শুরু করলো তার জীবনের ঘটনা---
সালটা ১৯৭১ ---- বাংলাদেশ তখন উত্তাল, পূর্ব পাকিস্তান আর পশ্চিম পাকিস্তানের বিচ্ছিন্ন হওয়ার লড়াই, মানুষের ভালোবাসা, ঘরবাড়ি, পাড়া প্রতিবেশী, সবকিছু বিচ্ছিন্ন  হতে শুরু করলো! এই যুদ্ধে মানুষের বা দেশের কি হাল হয় তাতো সহজেই অনুমেয়।
পদ্ম আর তার পরিবার তখন বাস করতো দিনাজপুর (বাংলাদেশ), বাবা মারা গেছে দুবছর আগে। তিন মেয়ে আর কোলের ছেলেকে নিয়ে—মিলিটারিদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে রাতের অন্ধকারে বাচ্চা-কাচ্চা, ব্যাগ- বোচকা নিয়ে পদ্মর মা  জলাজমি,ধানজমি পার হয়ে ভারত সীমান্তের দিকে হাঁটতে শুরু করলো। ঘুটঘুটে অন্ধকার একটু দূরের কিছু দেখা যায় না, কোনরকমে সীমান্তে পৌঁছে যেতে পারলেই আর চিন্তা নেই, ওখানে যে শরণার্থী শিবির আছে পৌঁছে যেতে পারলে দুশ্চিন্তা মুক্ত। এই ভাবনা নিয়ে সবাই সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে।  বাড়িঘর, দেশ, পাড়া প্রতিবেশী সবাইকে ছেড়ে ---একটু বাঁচার আশায় --- মাঝে মাঝে বুকের ভেতরটা  মোচড় দিয়ে উঠছিল। চোখের জল গাল বেয়ে পড়ে বুক ভেসে যাচ্ছিল পদ্মর।  পদ্মর বয়স তখন বারো বছর, খানাখন্দ, জল জঙ্গল পেরিয়ে আসতে আসতে কখন যে ও পথ হারিয়ে ফেলেছে—বুঝতেই পারেনি! সবে তখন পূবদিক একটু লাল হতে শুরু করেছে---- এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখে মা,ভাই,দিদিরা কেউ নেই। সারি দিয়ে লোক চলছে ---- পদ্ম তখন সেই সারিতে মিশে যায়।
একসময় শরণার্থী শিবিরে এসে পৌঁছায়। রামপ্রসাদ সাহুর সঙ্গে ওই শিবিরেই তার দেখা, বয়সে প্রায় তিনগুন বড়, ওকে দেখে লোকটা এগিয়ে আসে, বলে, তোর খিদে পেয়েছে? পদ্ম মাথা নাড়ে।  খিদেতে পেটের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠছিলরামপ্রসাদ পদ্মকে হোটেলে খাইয়ে নিজের ভাড়াবাড়িতে নিয়ে গিয়ে হাজির হয়। বিহারে   রামপ্রসাদের বউ-ছেলে সব আছে। ছেলে পদ্মর থেকে বয়সে বড়। বয়সের এতোটা তফাতের জন্য কেউ কিছু প্রশ্ন করতো না, কারণ কাজের মেয়ে – এই পরিচয়ে পদ্মকে রেখেছিল।  কিন্তু রোজ রাতে ধর্ষণ হতে হতে পদ্ম একসময় ফুঁসে উঠলো।
বয়সটা তার এখন বেড়েছে। সে বিয়ে করার দাবি জানালো। যাইহোক রামপ্রসাদ কিছুটা চাপে পড়ে বিয়ে করতে বাধ্য হোল কারণ পদ্ম তখন চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। মন্দিরে  গিয়ে মাথায় সিঁদুর দিয়ে তাকে বউএর স্বীকৃতি দিলো। ওদের আইনি বিয়ে বলে কিছু হয়নিরামপ্রসাদের দেশে ধানজমি, বাড়িঘর সব মিলিয়ে ভালোই সম্পত্তি ছিল, কিন্তু তাতে অন্তত শামুর মায়ের কোন অধিকার নেই এটা বলা যায়। এইভাবে নিজের জীবনের নানা চরাই উতরাই পার হয়ে বর্তমান জীবনে এসে উপস্থিত হবার ঘটনা পদ্ম বলে চলল। শুনতে শুনতে কখন যে সন্ধ্যে হয়ে গেছে খেয়াল করিনি। আমি প্রশ্ন করলাম বাংলাদেশের যেখানে তোমাদের বাড়ি ছিল সেখানকার ঠিকানা  তোমার মনে আছে? শুনে ও বলল, কেন মনে থাকবে না? নিজের বসত---নিজের ভিটে কেউ ভুলতে পারে গো! তুমি যদি শুনতে চাও আমি এখনই বলে দিতে পারি। আমি বললাম, দাঁড়াও দাঁড়াও আগে একটা কাগজ কলম আনি, তারপর বলো।
দোতলায় এসে একটা পেন আর কাগজ নিয়ে ঠিকানাটা লিখে নিলাম। প্রায় চল্লিশ বছর আগের ছেড়ে আসা ঠিকানা কিভাবে মানুষের মনে থাকে! ভেবে কিছুটা অবাক হলাম!  
কয়দিন পর ঠিকানাটা একটা খামে লিখে বিস্তারিত জানিয়ে আমি আমার স্বামীকে দিয়ে পোস্টঅফিস থেকে পোস্ট করালাম। ভাবলাম যদি কেউ আসে ,ওর সঙ্গে দেখা করে তো বেচারা একটু শান্তি পাবে। কিন্তু প্রায় দুমাস হয়ে গেলো –কোন উত্তর এলোনা । এদিকে শামুর মা খুব উদগ্রীব হয়ে রয়েছে যদি চিঠিটা পায় তাহলে নিশ্চয় ওদের সঙ্গে ওর দেখা হবে। কিন্তু চিঠির কোন উত্তর আসেনি দেখে ও কিছুটা হতাশ হয়ে পড়ল!  আমি বললাম, চিন্তা করো না, হয়তো হাতে পায়নি এখনও। আমার দিকে তাকিয়ে বলল, সেই কবেকার কথা!--- কত যুগ হয়ে গেল।  ওরা কেউ বেঁচে আছে কিনা কে জানে!  চোখের জল মুছে আমাকে বলল, জানেন এদেশে যে inland  letter  (হাল্কা নীল রঙের ) এ সবাই চিঠি লেখে ওই চিঠি বাংলাদেশে যায় আমি জানি।
ওর দিকে তাকিয়ে বুঝলাম আমি যদি আরও একবার চেষ্টা করি তাহলে শামুর মা খুশী হবে। ওর ইচ্ছা পূরণ করতে আবার inland letter  এ হাউসিং এর ঠিকানা লিখে --- ম্যাপ এঁকে --- আমার ফোন নম্বর লিখে আবার পোস্ট করলাম। কিন্তু আমিও যে মনে মনে হতাশ হয়েছি এটা বলা যাবে না।    
প্রায় দিন পনেরো পর , হঠাৎ একদিন আমার ফোনে বাংলাদেশ থেকে ফোন এলো ...... বললাম, কে বলছেন? ও প্রান্ত থেকে ভেসে এলো, দিদি তুমি বাইচ্চা আছো? আমি তোমার ভাই চাঁদু। আমি বললাম একটু অপেক্ষা করুন লাইনটা কাটবেন না—বলে দৌড়ে গিয়ে ফোনটা শামুর মার কানে দিলাম, ______ বললাম তোমার  ছোটভাই চাঁদু বাংলাদেশ থেকে ফোন করছে। শুনে শামুর মার মুখের বাক্য সরে না... ও প্রান্ত থেকে দিদি দিদি বলেই যাচ্ছে, আমি ইশারা করে কথা বলতে বললাম। কিছুটা ধাতস্থ হয়ে ও কেঁদে ফেলল,  কাঁদতে কাঁদতে বলল, হ্যাঁ ভাই আমি বাইচ্যা আসি রে, তুই কি করতাসিস? তগো খবর ক? ও প্রান্ত থেকে জানালো, অনেকদিন হইল মা মইর‍্যা গেসে। দুই দিদির এই দ্যাশেই বিয়া হইসে।আর আমি বাংলাদেশ র‍্যালে চাকরি করতাসি, বিয়া করসি, একডা পোলা –একডা মাইয়া............ বেশ অনেকক্ষণ ধরে ওদের কথাবার্তা চলতে থাকলো। আমি হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম শামুর মায়ের দিকে...... দুই দেশের দুই ভাইবোনের কথাবার্তা শুনে নিজের মনেও খুব উত্তেজনা হচ্ছিল, ভাবলাম—যাক একটা ভালো লাগার মতো কিছু  করলাম।
একসময় ওই হাউসিং ছেড়ে অন্য হাউসিং এ চলে আসতে হোল। পরে জেনেছি পদ্মর ভাই চাঁদু তার দুই দিদিকে নিয়ে, নিজের পরিবার নিয়ে শামুর মায়ের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলো। অনেক খারাপ লাগার মাঝে কিছু ভাললাগা আছে বলেই হয়তো আমাদের বেঁচে থাকার ইচ্ছেটা বেঁচে থাকে।

   











স্বামীজী 
আবীর কান্তি পাল
 আজ শুনবো কাল ভুলবো 
আমরা ব্যাস্ত স্বামীজী ।
কিন্তু কিসে ?
সব জামার বোতামে সেঁটে !
লোভ কাম মোহ !
সকলের এক ডায়লগ তোমার মতো হব !
ঈশ্বর হয়েছি আগেই ,সফেদ
টাকা কাছে !
এখন তোমার মতো হব স্বামীজী !
আজ ধ্যানস্ত !কাল গজিয়ে উঠবো ॥
বিবেকানন্দের হাসি ___________________ -ফিরোজ আখতার ___________________ সকাল সাতটা দশ । ঘুম থেকে উঠে খানিক আড়মোড়া ভাঙলো কাল্টু ৷ জিভটা একেবারে শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে ৷ ঢেঁকুরের সঙ্গে কিছুটা পিত্তি মেশানো তেতো জল উঠে এলো মুখে | বিকৃত মুখে সেটা জানলা দিয়ে বাইরে নিক্ষেপ করলো সে ! পাশের টেবিলে রাখা প্রায় খালি হয়ে আসা মদের বোতলটা কাত করে পুরো ঢেলে দিলো গলায় ৷ রেল কলোনীর বস্তির মা তুলে একটা অশ্রাব্য গাল পাড়লো | এই বস্তিতেই সে আছে আজ বছর পাঁচেক ৷ তড়াক করে খাট থেকে নেবে দড়িতে ঝোলানো গামছাটা তুলে নিলো | আজ সকালে একটা ছোট কাজ আছে | একটা বুড়ো মাস্টারকে একটু শায়েস্তা করতে হবে ৷ বেশি কিছু না, একটা হাত আর একটা পা ভাঙতে হবে | সেই পুরোনো বাড়িওয়ালা আর ভাড়াটে কেস | বুড়ো মাস্টারটা কিছুতেই নাকি ঘর ছাড়ছে না। রাতে সে দশ হাজার টাকা পেয়েছে মিতুলদার কাছ থেকে | মাস্টারের বাড়ির মালিক হলো মিতুলদা | মিতুল নন্দী | কাজ হয়ে গেলে আরও দশ হাজার দেবে বলেছে | শালা... লাখ লাখ টাকার মালিক শয়তানটা !
আজ বেশ সকাল সকালই উঠেছেন মানববাবু | মনটা আজ বেশ ফুরফুরে | আজ ১২ই জানুয়ারী, স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন ৷ স্কুলে থাকাকালীন প্রতিবছরই তিনি এই দিনটায় ছাত্রদের নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করতেন | আজ মাস ছয় হলো তিনি রিটায়ার করেছেন ৷ ছাত্রদের কথা খুব মনে পড়েছ আজ | বাজার করে একবার স্কুল থেকে ঘুরে আসবেন ঠিক করলেন ৷ বেশি দূর নয় ... ঘণ্টাখানেকের রাস্তা | পাশে নীতা বেঘোরে ঘুমাচ্ছে ৷ তার রিটায়ারমেন্টের পর নীতার ঘুমটা বেড়ে গেছে আগের থেকে | স্কুলে যাওয়ার নেই বলে সকালে উঠে রান্নাবান্নার তাড়াও নেই | নিঃসন্তান দম্পতি ওরা ৷ বউয়ের মায়ামাখা মুখের দিকে চেয়ে হালকা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন মানববাবু | সকালের চা টা তিনিই করেন বরাবর | অালতো একটা আড়মোড়া ভেঙে মশারী তুলে রান্নাঘরের দিকে এগোলেন তিনি |
বিনোদ আজ পাঁচ বছর হলো গ্র্যাজুয়েশন করে ঘরে বসে আসে | ইতিহাসে অনার্স নিয়ে পড়েছিলো সে | রেজাল্ট ও খারাপ করেনি | ৫২% নম্বর পেয়েছিল সে গ্র্যাজুয়েশনে ৷ নিয়মিত সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিচ্ছে ৷ কিন্তু পাশ করতে পারছে না | প্রিলিম পাশ করেছিল দুটোয়, কিন্তু মেন এ গিয়ে আটকে গেছে ৷ প্রাইভেট চাকরিরও চেষ্টা করেছিল দু একটা কিন্তু কোনটা টেই সে ২ মাসের বেশি টিকটে পারে নি । আজ সকালে রাকেশের সাথে দেখা করবে বলেছে ও | ক্লাবের মাঠে বিবেকানন্দের মূর্তির পাশে সকাল আটটায় থাকবে বলেছে রাকেশ | লোকাল কাউন্সিলার বিজয়দা ওদের একটা জায়গায় রেফার করবেন বলেছেন... | ছোটখাট যা পাওয়া যায় তাই-ই করবে সে মনস্থির করে নিয়েছে | নাই মামার থেকে কানা মামা ভালো ! সকাল নটায় সময় দিয়েছেন বিজয়দা | একটু তাড়াতাড়ি যাওয়াই ভালো | আজ আবার অনেক জায়গায় নানা অনুষ্ঠান... I কোথাও বেরিয়ে গেলেই কেলো হয়ে যাবে | কলঘরে উঁকি দিয়ে দেখলো কেউ নেই | মা বোধহয় রান্নাঘরে | কেরানীর চাকরি করা বাবা বাজারে গেছে বোধহয় ৷ কলঘরে ঢুকে দরজাটা বন্ধ করে দিলো বিনোদ |
বাজার যাবার পথেই পড়ে ক্লাবের মাঠটা | চারপাশে রেলিং দিয়ে ঘেরা ৷ মাঝখানে একটা বিবেকানন্দের আবক্ষ মূর্তি | আজ মূর্তিটাকে খুব সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে ৷ মালা আর ফুল দিয়ে সবাই শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে গেছেন একটু আগেই মনে হচেছ | খুব ভালো লাগছে | মাঠে লোকজন নেই তেমন | শুধু একটু দুরে বছর পঁচিশের একটা ছেলে দাঁড়িয়ে নীল সোয়েটার গায়ে দিয়ে | মানববাবু বিবেকানন্দের মূর্তির সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন টান টান শরীরে | একদৃষ্টে চেয়ে আছেন তিনি মূর্তিটার দিকে | গতকাল মিতুল বাবুর সাথে ঝামেলাটা মনে পড়ে গেলো | অনেক দিন ধরে তাদের বাড়ির মালিক মিতুল বাবু তাদের তুলে দেবার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন | কাল উনি স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন না উঠলে তাদের দেখে নেবেন ! এই বুড়ো বয়েসে এত দিনের প্রিয় বাড়িটা ছেড়ে তিনি কোথায় যাবেন তাই ভাবতে লাগলেন এক মনে |
পায়ে হঠাৎ একটা তীব্র ব্যাথা অনুভব করলেন মানববাবু | পড়ে যেতে যেতে দেখলেন নীল সোয়েটার পড়া ছেলেটি বিহ্বল দৃষ্টি তে চেয়ে আছে তার দিকে ৷ মাথার পিছনে বেশ জোরেই লাগলো | ওঠার চেষ্টা করতেই লোকটা মুখ দিয়ে একটা অদ্ভূত শব্দ করে ডান হাতটা তার মুচড়ে ধরলো পেছন দিকে | চোখে অন্ধকার দেখালেন মাস্টারমশাই | হাতটা তার ভেঙে যাবে বলে মনে হচ্ছে | পিঠে সজোরে একটা লাথি এসে পড়লো | ধনুকের মতো বেঁকে গেলেন তিনি | লোকটার হাতে একটা বাঁশ | বাশঁটা তুলে ধরেছে লোকটা তার কোমর লক্ষ্য করে ৷ চোখ বুজিয়ে ফেললেন ...মনে পড়ে গেলো নীতার মায়ামাখা মুখখানি ! কিন্তু কই... মারলো না তো লোকটা | চোখ চাইতেই দেখলেন এক অদ্ভূত দৃশ্য | লোকটার হাত থেকে বাশঁটা খসে পড়েছে ৷ দুহাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরেছে সে | রক্তে ভেসে যাচ্ছে মুখটা খুনীটার | আর পিছনে একটা থান ইট হাতে দাঁড়িয়ে সেই নীল সোয়েটার | ধপাস করে কাটা কলাগাছের মতো মুখ থুবড়ে পড়লো খুনীটা | - " রাজেস... স্যার কে তোল‌ !" পিছন থেকে সমবয়সী আর একটা ছেলে এসে তোলার চেষ্টা করলো তাঁকে | ইট-টা ফেলে দিয়ে বন্ধুকে সাহায্য করার জন্য হাত লাগালো বিনোদ | -" তাড়াতাড়ি কর ! শয়তানটার জ্ঞান ফেরার আগেই পালাতে হবে..." ! দুই নরেনের কাঁধে ভর করে যখন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন মানববাবু, একবার পিছন ফিরে তাকালেন বিবেকানন্দের মূর্তিটার দিকে ৷ স্পষ্ট দেখতে পেলেন মূর্তিটা মৃদু মৃদু হাসছে... ঠোঁটের কোণ দিয়ে ঝরে পড়ছে যেন নিখাদ পরিতৃপ্তি ...

Wednesday, January 11, 2017

মিলনের উষ্ণতা
____________
ফিরোজ আখতার


পিতলের বাটিটা বেশ জোরেই লাগলো নাটুর মাথায় ৷ সঙ্গে সঙ্গে মাগো বলে মাথার পিছনে হাত দিয়ে বারান্দায় বসে পড়লো নাটু I হাতটা মুখের সামনে এনে একবার দেখলো, রক্ত বেরোচ্ছে নাকি ! হাত রক্তশূণ্য দেখে যেন একটু স্বস্তি পেল সে ৷ কিন্তু যন্ত্রণা কমে নি একেবারেই ৷ মাথার পিছনটা ফুলে আলু হয়ে গেছে ৷ বিড়বিড় করে গাল পাড়লো সে- " শালী... হারামজাদী ! দাঁড়া, দেখাচ্ছি তোকে..." ৷ কিন্তু রান্না ঘরে গিয়ে মিঠুর জ্বলন্ত চোখ আর হাতে আঁশ বটিটা দেখে আবার বারান্দায় এসে বসে পড়লো সে | বেশি চিল্লামেল্লি করে লাভ নেই | আশেপাশের লোক জানতে পারলে তার ইজ্জত ধুলোয় মিশে যাবে ৷ বউয়ের হাতে মার খেয়েছে শুনলে লোকে যত না হাসবে তার থেকে তার গায়ে থুথু দেবে বেশি ! তার থেকে চেপে যাওয়াই ভালো ! পরে মাগীকে দেখে নেবে ৷ একদলা থুথু ফেললো সে |
ঘটনার সূত্রপাত অাজ বিকেল চারটেয় ৷ ভ্যান রিকসা চালিয়ে ঐ সময়েই ফেরে নাটু | সঙ্গে থাকে আগুনের মতো খিদে | তখন মনে হয় পারলে পুরো পৃথিবীটাই পেটে পুরে সে... | মিঠু বাবুদের বাড়ি থেকে কাজ সেরে ফেরে ঐ সময় | ওকে কতবার বলেছে একটু আগে ফিরে রান্না চাপাতে I কিন্ত কে শোনে কার কথা? আজ বাড়ি ফিরে যখন নাটু দেখলো মিঠু সবে ভাত চড়িয়েছে রক্ত চড়ে গেলো মাথায় ৷
_"কিরে , তোর বাবুর বাড়ি কোন আদিখ্যেতা করছিলি শুনি? "
-"পিরিত করছিলাম গো... পিরিত" |
আর স্থির থাকতে পারলো না নাটু I চুলের মুঠি ধরে পিঠে বসিয়ে দিলো এক রামকিল... !
-" দাঁড়া, তোর পিরিত করা বার কচ্ছি..." ৷ হাতের কাছে যে কটা হাঁড়ি বাসন ছিল তুলে নিলো সে লহমায় ৷
মিঠু জানতো এরপর কি হবে... থালাবাসনগুলো নাটু গিয়ে ফেলে দিয়ে আসবে পাশের এঁদো পুকুরে ৷ তারপর মিঠুকে গিয়ে তুলে আনতে হবে সেগুলো ৷ তাই আজ আর সে দেরি করলো না | বারান্দা থেকে নামার আগেই নিখুঁত টিপে ছুঁড়ে মারলো বাটিটা | আগে কতবার সে একটিপে আম পেড়েছে... | টিপ-টা তার আগের মতোই আছে দেখে মনে একটু খুশী জাগলো |
থালা বাসনগুলি বারান্দা থেকে তুলে নিয়ে এসে এবার রান্না বসিয়ে দিলো | বিশেষ কিছু না... পুঁই ডাঁটা দিয়ে মাছের মাথা আর বেগুন আলুর তরকারি | আড় চোখে একবার দেখে নিলো নাটুকে | এখনো একই জায়গায় বসে আছে আর বিড় বিড় করে গাল পাড়ছে | নিজের অজান্তেই ঠোঁটে একটা হালকা হাসি ফুটে উঠলো মিঠুর | এক বছর আগে বিয়ে হয়েছে ওদের I প্রেম করে বিয়ে | লোকটার একটা ভালো গুণ হলো মদ ছোঁয়না একেবারে | তবে রেগে গেলে মার দেয় খুব | আবার রাতে বিছানাতে মিঠুর সব ক্ষত সারিয়ে দেয় একেবারে | ভালবাসতেও পারে লোকটা !
একবাটি মুড়ি আর দুটো কাঁচালঙ্কা পেঁয়াজ নাটুর পাশে ঠকাস করে রেখে দিয়ে আসলো মিঠু | আজ পাল্টা মার খেয়ে মুখ একেবারে আমসি হয়ে গেছে ! ফিক করে হেসে ফেললো মিঠু |
বউয়ের দিকে একটা জ্বলন্ত দৃষ্টি হেনে কি করে এর শোধ নেওয়া যায় তাই ভাবতে লাগলো মুড়ি চিবাতে চিবাতে ...।
রাত দশটা ৷ খেয়েদেয়ে উঠলো দুজনে | এর মধ্যে মাথার ফোলাটা কমেছে নাটুর | ব্যাথাটাও | মিঠু এসে বরফ লাগিয়ে দিয়েছে একটু আগে ৷ একটা চুমুও দিয়েছে | তাই নাটুর মনটা একেবারে হাল্কা হয়ে এসেছে | মিঠু এখন বাসনগুলো মাজছে ৷ চুপি চুপি ঘর থেকে বেরিয়ে দু টো মিঠা পান কিনে আনলো নাটু I
আলোটা কিছুক্ষণ হলো নিভিয়ে দিয়েছে মিঠু | ঘরে এখন শুধু দুটি শরীরের মিলনের উষ্ণতা | সঙ্গে মিঠা পানের আসমানী সুবাস...

Monday, January 9, 2017


 ল্যাব
বীর কান্তি পাল
ল্যাবরেটরী সব জানালা খুলে দেবার পর গুমোট গন্ধ চলে গেলো!
প্রত্যেক ফানেলের ভেতর নানা জায়গার জল ,এবং প্রতিটিতে লেখা কোথাকার জল স্টিকার দিয়ে ,ভাবা যায় সমগ্র মানব গোষ্টির পানীয় জলের কি অবস্তা ,আর্সেনিক আয়রন আরো কতো জীবাণু ! 700ফুট
জল গুলোও বিষাক্ত ,এই সব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে কনুইয়ে গুতো লেগে ctc অর্থাত কার্বন টেট্রা ক্লোরাইড এর বোতল সেল্ফ থেকে পরে ভাঙ্গল ,দীপার মুখ থেকে অজান্তে বেড়িয়ে এলো- যা!
বোতলের লেবেল ভেঙ্গেও চক চক করছে e -merk ,অর্থাত জার্মানি কম্পানী হলদেটে লেবেল কাল লেখা ,আর ওই যে
সিল্ভর নাইট্রেট B D H কম্পানী
ব্রিটিশ ড্রাগ হাউস ,ভাবা যায় লাল মুখ মানুষের দেশ যারা আমাদের 200বছর পরাধীন করে রেখে ছিল আর ওদেরই কেমিক্যাল আমাদের ব্যাবহার করতে হয় এই দুটো কম্পানী পৃথিবীর আজ সেরা ,এছাড়া লোভা ,sds ,glasxo তো আছেই ,এসব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে একটি কাঁচের টুকরো দীপার হাতে ঢুকলো ,সঙ্গে সঙ্গে ব্লাড ,ল্যাবরেটরীর কালো বিড়ালটা ওর পাশে বসে এমন ভাবে তাকাল যেনো ওর চোখে বিস্ময়
যা ,দীপা হেসে ফেললো ,আঙ্গুলে তুলো গুঁজে ওকে আদর করতে করতে জোরে হাঁক পারলো চম্পা
,,,,!
চম্পা এসে সব পরিষ্কার করে
দিয়ে গেলো ;
আসতে আসতে ল্যাবরেটরিতে কেমিস্ট্রী ডিপার্টমেন্টে সকলের প্রবেশ ,প্রতিদিনের মতো কাজ শুরু !
জলের পর জল পরীক্ষা হাওড়া,
সালকিয়া ,বেলুড় ,কলকতা, শিবপুর, আমতা আরো কতো ,,,
দীপা একটু আবেগ প্রবণ ,ওর উচিত ছিল না সাইন্স নিয়ে পড়া বরং সাহিত্যের দরজা খোলাই ছিল ,অনেক পত্রিকায় ওর
কবিতাগল্প প্রবন্ধ জায়গাও করে নিয়েছে ,পূজা সংখা এলেই দিদি আমাদের একটা চাই ,ভালোও লাগে ,ওর কষ্ট হলেও রাত জেগে লেখে ,মা খাইয়ে দেয় ও লেখে ,
বাথরুমে ঢুকে গল্পের চরিত্র ভাবা ,পথ চলতে মানুষের মুখে ফ্যাল -ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা ,ঘামে ভেজা বয়স্ক লোকের গায়ের ঘ্রাণ নেয়া ,এমন সব অভ্যাস ,আবীর এগুল সব তোর থেকে শিখেছি তুই ছাড়া আমার সাহিত্য বিগ জিরো ,
হাওড়া ডিস্ট্রিক্ট লাইব্রেরি অন্ধকার ঝিমানো রুম টায় বসতাম ,মাঝে মাঝে জয় কৃষ্ণ লাইব্রেরি ,অথবা গঙ্গার পারে !ঘণ্টার পর ঘণ্টা !!
দীপা আমাকে লিখেই দেখাত ,আবীর দেখতো আমার এটা পরে শোনা -গঙ্গার কাদা জলে ও তাকিয়ে আমি পড়ছি ওর কবিতা
অর্জুন গাছ 🌿🌿🌿
বলিষ্ঠ বেদ পুরান পরে তবুও কিছু হলনা ,অর্জুন গাছটার !
ওর ডান হাতে গ্রন্থাগার ,বা হাতে কোর্ট ,
আইনের চোখে ধুলো দিয়ে ধর্ষণ করে চলেছে লাল পলাশ গাছ টাকে !
শিখর ওর বহু দূর , - বিশাল বাহু ,
দানবের মতো --
পাড়ার মোড়ে ,সারাদিন জলন্ত সূর্য
পারেনি পোড়াতে একটি পাতাও ,
রক্ত বীজের ঝাড় ,আগুন জল হজম করে প্রতিদিন ,
নিন্দুকেরা মাঝে মাঝে ওর গায়ের ছাল ছাড়িয়ে জল খায় ,
কেউ যদি পারে ওর মতো সু -পুরুষ হতে !!
অর্জুন গাছ টার উপড় সবার রাগ ,পুঞ্জীভূত
অথচ লাল পলাশকে কেউ দোষ
দেয় না ,,
এতো রাগ যে চড়াইপাখী হেগে
যায় দু -বেলা !
সাদা কালো পোষাক পরা উকিল
ওরি ছায়ায় বসে ক্লাইন্ট কে বলে ,
-আরে ছাড়ুন তো ,টাকা মারুন আমি কোর্ট -এ বুঝে নেবো !
গ্রন্থাগার অনতি দূরে ,মাথা গুঁজে সায় দেয় ,,সব ঠিক হ্যায় বস্ ,,
মহা ঔষধি গুণ ,দূর্বলতা একটুকুত
আছেই !!
🌿🌿🌿🌿🌿🌿
এই তুই কি পাজি দীপা
- কেনো
হাসে ,কাল অর্জুন গাছটায় ,হাত বোলাতে বোলাতে তুই যখন বললি দীপা এই হলো প্রকৃত পুরুষ ,এর সাতে প্রেম কর জীবন পাবি !তখন মাথায় এলো ,সাহিত্যের অর্জুন তুই -- তাই আর কি !
-- তুই কি ভয়ংকর অনুরূপ জানলে আমায় ক্যালাবে -
দীপা হাসে ,বললাম কি হলো ?
- সত্যি তোর লেখার তোর মুখের ভাষা কতো সাবলীল অথচ কি গূঢ় রহস্য থাকে ভাবতেই পারিনা
দেবদারু কাম খাবি
তবু জাম খাবি না
কামের থেকে জামের
দাগ বেশী !দাগ উঠবে না !!
আমি হাসি !সত্যি কিনা বল ,শরীর তার ছবি আঁকে মুখে ,খুব ভালো করে দেখলেই বোঝা যায় কার মন কি চায় !
দীপা বলল এবার চল ,
-হ্যা ওঠ
-আবীর
-তুই আমায় ভালোবাসিস তাই না ?
- শোন দীপা ,অবশ্যই ভালোবাসি
তাই ভাল দেখতে চাই ,মুশকিল কি জানিস ভালবাসা মানে ভালো থাকতে দেয়া ,তুই যেদিন বললি তুই অন্য কাউকে ভালো বাসিস সেদিন আমার ভালবাসা পূর্ণতা পেয়ছে ,আমি খুশী তুই খুশী বলে ,
-আর শরীর ,দীপা বলে !
- হ্যা এটা একটা অভিধান ,যার ভেতর বহু প্রশ্নের মানে খুঁজে পাবি ,কিন্তু "মন "সেখানে অনুভব টাই খাটে ,তুই চলে গেলে সব সময় খুঁজব এটাই ,,,
-তোর সাতে কথায় পারব না ,তুই আমার গর্ভ ,কথা দিলাম কোনদিন ,কারো কাছে প্রকাশ করব না অথচ প্রতিদিন পূজা করব !
দীপা চলে যায় ,
বহুদূরে আজ ও !! এখনো সে কবিতা লেখে আবীরের জন্য ,
আবীর লেখে face booker জন্য
🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸
একটু  উষ্ণতার জন্য
    মন্দিরা ঘোষ


কত গ্রাম গঞ্জ নিকোন উঠোন  ঘর বাথান ছুঁয়ে
কত নদীর  শীর্ণ  শরীরে জলজ বাতাস ভরে 
আলোকরশ্মির পথ  গেছে সোজা 
বন্ধুহীন একা বসে আছি মেরু দেশে 
অন্ধকারে বরফের নিচে 
মোমের আলো জ্বেলে দুধসাদা পৃথিবীর বুকে 
আলপনা আঁকি
অজস্র বরফ কুচি উপত্যকার ক্ষিদে মেপে রাখে 
ক্যানভাসে ছেঁড়া  ছেঁড়া  বরফের ফেনা 
ছবিগুলো সব হিমশৈলর মত 
অপেক্ষারত  একটু উষ্ণতার জন্য

Sunday, January 8, 2017


রেপড কেস
ফিরোজ আখতার 

একটি মেয়ে ধর্ষিতা হয়েছিল কাল রাতে হাসপাতালে যখন নিয়ে আসা হল- নাম জানতো না কেউ তার… শুধু জানতো মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়েছিল । নার্স থেকে ডাক্টার, কেরানি থেকে ঝাড়ুদার সবাই জানলো, হাসপাতালে একটা রেপড কেস এসেছে ।
ডাক্তারবাবু এসে নার্সকে জিগ্যেস করলেন… রেপড কেসটা কত নম্বর বেডে আছে ? মেয়েটির মা-বাবা আত্মীয়রা যখন ছুটে এলেন… তাদের জিগ্যেস করা হল… আপনারা কি রেপড কেসের বাড়ির লোক ? চমকে ওঠার সময়টুকুও পেল না সেই রেপড কেসের বাড়ির লোকজন ! মেয়েটির নামটা যেন কি ছিল ?
পুলিশ এলো সেদিনই । সঙ্গে গুটিকয়েক সাংবাদিক… সবাই এসেছে রেপড কেসটি কভার করতে । ডাক্তারের অনুমতিতে পুলিশ রেপড মেয়েটির বয়ান নিয়ে বেরিয়ে গেলেন – আর, খুব ভালভাবে লিখে নিলেন, মেয়েটির কোথায় কোথায় আঘাতের দাগ ছিল… আর দাগগুলো কতখানি গভীর । শুধু রেপড মেয়েটির মনের দাগগুলি বাদ চলে গেলো । মেয়েটির নামটি যেন কি ছিল ?
পরদিন সকালের খবরের কাগজে প্রথম পাতায় স্থান পেল খবরটি । সকলে খুব মনোযোগ সহকারে পড়লেন রেপড মেয়েটির খবর অনেকে চাইলেন রেপিস্টরা যেন উপযুক্ত শাস্তি পায় । মেয়েটির বাবা-মা পেলেন কত সহানুভূতি- তাঁরা যে এখন একটি রেপড মেয়ের বাবা-মা । পাড়ায় যে কোন লোকই একডাকে বলে দিতে পারবে রেপড কেসের বাড়িটা কোনটা ? মেয়েটির নামটা যেন কি ছিল ?
এরপর কেটে গেছে বেশ কিছু দিন… ধরা পড়েছে নরকের কীটগুলো । মনের জোর ছিল বটে রেপড মেয়েটির… আদালতে শনাক্ত করলো সবকটাকে আর, উকিলের জেরায় বলে গেলো সে পরপর ঘটে চলা ঘটনাগুলি বলতে হল তাকে ঠিক কীভাবে এবং কতবার… মেয়েটি যেন কতবার রেপড হল ?


কবিতার ভাষা 
শ্রীকান্ত ভট্টাচার্য্য 



যে বোধ এসেও এলো 
না,
শব্দে লিখি তাকে 
হয়তো কবিতা। 

২  

যৌবন আর বার্ধক্যে কখনো 
ফিরে দেখা, এসব 
আলো  জ্বলে ওঠা বিস্তৃত  
উচ্ছাসগুলো কবিতা।

Thursday, January 5, 2017

@ বিপাশা-কে নিয়ে......... 

শব্দরূপ : রাহুল

------------------------------------------------------- না-প্রশ্নে কতোটা না। অথবা কতোটা কিছুর শাপলা - খবর। চলমান দেওয়াল চলছে চলুক। ছিঁড়ে যাক যোনীজ অপমান। পেরেক সময়। মুছছে মুছুক। খোঁড়া হোক জ্যা-ঘুঙ্গুর।
নদীবর্তী আপেল খাঁজে - বুঝি না নীলতমা চুমুক।।
উঃফ্............বিপাশা। তোমায়।শুধু তোমাকেই।গভীর।গভীরতর।একমাত্র। ডাক-টিকিট!!!!
হিমবর্ণা কবরের ঠোঁট থেকে ছাড়িয়ে দাও প্রেমিকের ঠোঁট। ব্যবধানে মরচে পড়ুক - রাতটুকু বাতিলের সোহাগ। যেমন আদিম মশাগুলোর সহবাস। ..........ঠিক মানুষেরই মতো।
হাওয়ায় বৃদ্ধ হচ্ছে হর্ষকামী ধোঁয়া - সকলে প্রবঞ্চক।।

মেয়েটি…
======= ফিরোজ আখতার
=============
মেয়েটি… প্রতি রাতে সেজে ওঠে যেন নব বধূ, প্রিয়তম যদি আসে, খোঁজে তারে শুধু । প্রতি রাতে ছিঁড়ে খায় কিছু নর পশু অপেক্ষা অনন্ত, তবু আশা রাখে কিছু । মেয়েটি… বুক ভরা ভালোবাসা, দেবে সে তা কাকে সব, সুখ খুঁজে ফেরে তার দেহটার বাঁকে । টলমল প্রেমের জল, পাথর চাপা বুকে পানের অপেক্ষা অসীম, অধরের চুমুকে ।

সীমারেখার বিরুদ্ধে
উদয় সাহা


পৃথিবী মানচিত্রের সীমারেখাগুলো আমাকে
বিব্রত করে।
আমার অস্বস্তি হয়
আমার বিরক্তি হয়
এই ভেবে যে আমি কিছুই জানিনা
ফ্লোরিডা থেকে আমস্টারডাম কিংবা লস এঞ্জেলস থেকে কুয়েত--
পড়ার টেবিলে গোলোক দেখে ইচ্ছে করে
এলোমেলো অগোছালো হয়ে ঘুড়ে বেড়াই
ইস্তাম্বুলের পথে পথে
কথা বলি মানুষের সাথে আমার বাঙাল ভাষায়।
কিশোরের মতন ইচ্ছে হয়
DN17 বা L238 বাসে প্যারিস পৌছাই।
এবং
একটি মাত্র ঘন নীলাকাশ
নাক বরাবর হাঁটব , সাথে থাকবে আমার ক্যানভাস।
  

Wednesday, January 4, 2017

সম্পাদকের কথা


মুজনাই সাহিত্য পত্রিকার নতুন তৈরী হওয়া ব্লগে সবাইকে স্বাগত। নতুন বছরে সবার জন্য শুভেচ্ছা ও শুভকামনা। হঠাৎ আমরা ব্লগে কেন? গত শতকের আশির দশক থেকে মুজনাই যাত্রা শুরু করেছিল সাবেক জলপাইগুড়ি জেলার ফালাকাটা থেকে। তখন ইন্টারনেট অনেক দূরের ব্যাপার। সাড়া জাগানো বেশ কিছু সংখ্যা প্রকাশের পর ফালাকাটার নদী মুজনাইয়ের মতোই শুকিয়ে যায় পত্রিকাটি। বন্ধ হয়ে যায় প্রকাশনা। বহুদিন পর ফেসবুকের সুবিধে নিয়ে গ্রুপ করে শুরু হয় আবার মুজনাইয়ের যাত্রা। অচিরেই এতো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সে যে আমরা ধারণা করতে পারিনি। এতো সাড়া আমাদের বাধ্য করে আবার পত্রিকা প্রকাশে। খুলতে হয় মুজনাইয়ের আলাদা প্রোফাইল। আবার প্রকাশ পেতে শুরু করে মুজনাইয়ের ছাপা সংখ্যাও। তবু...তবু শুধুমাত্র ফেসবুকে আটকে না থেকে আমরা ঠিক করি মুজনাইয়ে যাঁরা লিখছেন তাঁদের সবার লেখাকে আরও একটু ছড়িয়ে দিতে। তাই এই সিদ্ধান্ত। তাই ব্লগে আসা ফেসবুকের পাশাপাশি মুজনাই তাই ব্লগেও এখন। মুজনাই সাহিত্য পত্রিকার ফেসবুক গ্রুপ "মুজনাই" ও "ছোটদের মুজনাই" একইরকম থাকছে। থাকছে মুজনাই সাহিত্য পত্রিকার ফেসবুক প্রোফাইল। পাশাপাশি এই নতুন ব্লগ। ব্লগে লেখা পাঠান mujnaisahityopotrika@gmail.com ঠিকানায়। ফেসবুকের গ্রুপে পোস্ট করুন। যদিও ব্লগের ক্ষেত্রে আমরা একটু বাছাই করছি লেখা।
ব্লগে যেসব লেখা প্রকাশ পাবে তার লিঙ্ক দেওয়া থাকছে মুজনাই সাহিত্য পত্রিকার ফেসবুকের টাইমলাইনে। আপনার প্রকাশিত লেখা, পছন্দের লেখা শেয়ার করুন, অন্যদের উৎসাহিত করুন মুজনাই সাহিত্য পত্রিকার ফেসবুক গ্রুপ বা ব্লগে পোস্ট করতে।

নিশিপদ্ম

কল্যাণ বিশ্বাস

ডাক দিয়েছে জোনাকিরা গোবরে পোকা
গঙ্গাফরিং রা আসেনি, ফুটেছে অনেকক্ষণ আগেই - গন্ধের রেশ কেটে গেছে হয়তো
বা ঝড়ে যাবে, জোনাকিরা আলো জ্বালেনী, পদ্মের শোভা নিশীথের আলোয় পঞ্চমির পূর্ণিমার মতন, রজনীগন্ধা আমাবস্যায় ফুটেছিলো, জলসাঘরের পর আনাগোনা - শিল্পি জোনাকিদের, কেন উবে যাও সূর্যোদয়ের   আগেই - সূর্যাস্তর আপেক্ষায় নিশিপদ্ম ।

উৎপত্তিস্থল বিষ্ণু পদ্মলাভ হলে নামে ব্রহ্মকমল য়ুক্তি আছে কি ? উপেক্ষা করে আপেক্ষা - আচেণা সুরে বাঊল গানে উদাসিন মন ম্লান, ভ্রমর এখন তোমার কাছে হে নিশিপদ্ম ।

                                                                 
                




নিষিদ্ধ রজনীগন্ধার গন্ধ
কৌশিক চক্রবর্ত্তী

ভুঁইফোড় আমিত্বের বোধ আজও উত্তর চায়... যে দিনটা গলির অন্ধকারে মুছে গেছে যুগের উত্তরণের সাথে সাথে, চলে গেছে আনমনের স্মৃতি শুধু মোছেনি জমানো খেদ আর মখমলে নিষিদ্ধ রজনীগন্ধার গন্ধ!
সেদিন গলির ভেতরটা ঘুটঘুটে অন্ধকার ছিল নিজের সাথে যুদ্ধে এমন দীর্ঘায়ত অন্ধকার গিলে খেতে আসে না রোজ! মোহ নেই, মায়া নেই শুধু কর্ম আর কর্ম - এই এক বিষের মধ্যেই বিষিয়ে থাকার দুর্বিনীত সংগ্রাম! আমিত্বের যুদ্ধে শুধু ব্রতী কিছু মাঝরাতের সাঁঝবাতি আর নরম শরীরের সাত্ত্বিক নিদান! কোথা থেকে ছুটে আসে যেন নখদন্তহহীন স্বৈরাচারীর দল, অত্যাচার করে, লুণ্ঠন করে বয়ে নিয়ে যায় শুধু আমিত্ব... আমিত্ব... আর আমিত্বকে তবু এককোণে পড়ে পড়ে অমরত্ব খোঁজে ঘরকুনো বেশ আর নিষিদ্ধ রজনীগন্ধার গন্ধ!
বিধিত্বের আহ্লাদে কেটে গেছে বহু যুগ আজও নারীর চোখে জৈব বন্ধকী থাকে.. শুধু মুছে যায় গলির ভয়ার্ত অন্ধকার, ছলভাঙা শরীর আর সাধ্যের স্রোতে ভেজা ভয়হীন, নিদ্রাহীন আমিত্ব! সেই আড়াল শুধু সৌধের মত আগলে রাখে ঘরময় এলোমেলো নিষিদ্ধ রজনীগন্ধার গন্ধ!
সেটা ছিল ঝলমলে সকাল রাস্তাজুড়ে লোক, যান আর অতন্দ্র ব্যস্ততা - চিরচেনা শুধু সেই কানাগলি অন্ধকার হয়ত গ্রাস করেনি এখনো বাড়ির লালচে দালান গুলো.. অচেনা শুধু ইতিউতি জোড়ো হওয়া একটা চাপা গুঞ্জন, কেউ বলে, কেউ শোনে, আজ নাকি মরেছে এক অসমর্থ মাগি... ফেলে দেওয়া জীর্ণ ভাঙা খাট বরাদ্দ হয়েছে তার জন্য ফুল নেই, চন্দন নেই, নিদেনপক্ষে একটা ধূপও নেই এ গুলো যে তার জন্মের শোধবোধ, সামর্থ্যের বারোমাস্যা! কি হবে তার শেষযাত্রা সাজিয়ে? এখনো তো লেগে আছে হাতে বিদেশী আতরের ছাপ, মুখ জুড়ে রংকালির আস্তরণ আর শরীরময় রগরগে নিষিদ্ধ রজনীগন্ধার গন্ধ!
যে সামর্থ্য তাকে বেশ্যা বানায়,
অকথ্য গালাগালির সত্যে বসতে শেখায় লালচে দালানটা জুড়ে...
যে পৌরুষের বিধি তাকে আঁকড়ে ধরে আকাঙ্ক্ষা দেয় এজন্মের আড়ষ্টতা ভেঙে সে বাঁধন নশ্বর, বেলাগাম পুরুষত্বের ছন্দ... বাবুর মানটা শুধু বেপরোয়া দাবী করে চলে গলির অভিশাপ আর নিষিদ্ধ রজনীগন্ধার গন্ধ।

মেঘের ভেলা // সুদীপ্তা


মন খারাপী মেঘের আজ চোখের কোনে জল 
ভাসতে ভাসতে দিনের শেষে একই খেলার ছল
আজকে নাহয় ভুল করে মেঘ থাকবি শুধুই ভেসে
উড়তে উড়তে না হয় যাবি সব পেয়েছির দেশে
ফেলে আসা দিনের কথা হয়ত পড়বে মনে
খেলার ছলে যাস যদি তুই শৈশবেরই দিনে
বর্ষা দিনের উদাস হাওয়া কালবৈশাখী ঝড়
ছু কিতকিত কানামাছি সারাটা দিন ভর
--চালচিত্র  ----
আবদুস সালাম

বর্ণহীন সাতকাহন শুকোয় রোডে
ক্রমশঃ মাকড়সার জালে জড়ায় সুখ
সুনামী তান্ডব চালায় সবুজ দ্বীপে
বিস্তীর্ণ উলঙ্গ লোনা জল
লবনের সাথে মিলেছে নীল
ভালোবাসার আকাশ ধূলোয় মলিন

সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় আঁকা হয় বৈভবিক সমাজের ইতিবৃত্ত্----

Monday, January 2, 2017


" বেলা অবেলার গদ্য পদ্যের কাব্য " ০৩-১২-২০১৬। প্রবীর কুমার চৌধুরী ।
(গদ্য-১ ) চল না একবার চেষ্টা করি , একবার চেষ্টা করে দেখি এলাকার যত আবর্জনা - যত নোংরা, ব্যর্থ রাতে পাক খেতে খেতে- কুণ্ডলী পাকাচ্ছে প্রতিটি মনের অন্দরে। সদ্যজাত সমস্ত শিশুর বেড়ে ওঠার পথকে করছে অবরুদ্ধ। আমি তুমি আমরা কজন , বিবেকটাকে খুঁচিয়ে - জীবনের গান গাইতে গাইতে , মনুষত্বের ঝাঁটা হাতে বেরিয়ে পড়ি- অবক্ষয়ের পোকাগুলোকে বিদেয় করতে ।
( পদ্য-১ ) লোভের পারদ চড়ছে , ক্রোধের সীমা বাড়ছে - অসহায়ের কান্নায় আকাশ বাতাস ভরছে। ছয় বিধাতা আড়াল থেকে মিটিমিটি হাসছে, পেটের ক্ষিধে পেটে চেপে লক্ষ্য শিশু কাঁদছে ।
সুখিরামের সেই মেয়েটা চোখের সামনে বাড়লো, সিঁদুর মুছে আজ দেখি সে আমার কাছে কাঁদল । স্বামী নামের পশুগুলো টাকায় ভীষন লোভ - পন না পেয়ে লোকঢ়োকানোর , দেয় বেশ্যা হওয়ার টোপ।
( গদ্য -২) চল না প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে একবার বলি- একতায় বাঁচো , বিভেদের বেড়াজাল টপকে- প্রলোভনের ফাঁদে পা না দিয়ে , আত্মবিশ্বাসের ভাতকে- দুইজনের টা তিনজনে ভাগ করে খাই , আনন্দটাকে সবার মাঝে ভাগ করে নাও । জীবনের আবশিষ্ট সুখ ,শান্তি- ঘরের আয়রন চেষ্ট থেকে বের করে ছড়িয়ে দাও- এঁদো গলির অন্ধকারে ।অসংখ্য কান্নাকে - শান্তির জলে ধুয়ে, তৃপ্তিগুলো ছড়িয়ে দিয়ে , মুখে মুখে হাসি ফেরাও একবার অন্তত মানবতার মুখ দেখুক এ দুঃখি পৃথিবী ।
(পদ্-২য ) জাত, ধর্মের অন্ধকারে সৃষ্টি হয় অস্পৃশ্য- অশিক্ষার এতো দাপট সয়না এ দৃশ্য, পথে ,ঘাটে মার খাচ্ছে দলিত অসহায় - ফেসবুকেতে দেখছি ছবি দেশ ভরেছে অবক্ষয়। কত আইন শিশুর জন্য তবু চলে শিশুশ্রম , চায়ের দোকান ,পথের হোটেল অবাধ পরাক্রম । পনপ্রথা বন্ধ কর দেশ জুড়ে স্লোগান - সোনার মেয়ে খুন হচ্ছে তুমি আছো ভগবান ?
( গদ্য -৩) পড়ন্ত বেলায় যারা ধুঁকছে না পাওয়ার ব্যর্থতায় - চল নিঃশব্দে দ্বিতীয় বসন্তকে - ঘারে ধরে পৌঁছে দিয়ে আসি তাদের অশান্ত জীবনে । যে সুখের স্বপ্নগুলো অকালে ঝড়ে যায় প্রতিটি প্রভাতে, অনাহূতের মত বারে বারে ফিরে যায় যত নীলকণ্ঠ পাখি , সব পাওয়ার আনন্দগুলো মালা গেঁথে তাদের ফিরিয়ে দিয়ে আসি । দরজার কড়া নারি অনাথাশ্রমের , ঘুম থেকে তুলে কোলে নিয়ে- চুম্বনে মুছে দিই দুচোখের বেদনার জল , নিষ্পাপ হাসি খেলে যাক প্রতিটি অনাথ শিশুর মুখে , যারা প্রতিটি বোবা রাতে কান্না লুকিয়ে স্বজন খোঁজে নীরবে...।
চল না একবার উঁকি মারি বৃদ্ধাশ্রমে - দেখি শেষবেলার মানুষগুলো কিসের প্রতিক্ষায় - অধীর আগ্রহে দিন গুনছে । হয়তো নাড়ির টান- দশ্ মাসের গর্ভজাতকে শেষ দেখার ব্যকুলতা, স্মৃতির পাতাকে জাগিয়ে তুলছে , ভারাক্রান্ত সন্ধ্যায় । চল না সান্তনায় কোলে মাথা দিয়ে একবার বলি - মাগো এসেছি ফিরে , চোখ মেলে দেখ , মুখ ভরা হাসি, বুক ভরা আসা,চোখে গঙ্গা- পদ্মার প্লাবন, উচ্চারিত হবে ব্যকরন " এতদিন বাদে পড়ল মাকে মনে ? তোকে না দেখে কেঁদে কেঁদে আজ হয়েছি অন্ধ ...।
( পদ্য-৩ ) চোখের জলে স্নান করাবো মুখে দেবো মিষ্টি , মনের সুখে মা বলবো আমরা তোমার সৃষ্টি । একখানি থান পড়িয়ে দিয়ে দেখবো তোমার অরুপ - জন্মকালে মা হাড়িয়েছি , বুঝিনি তোমার সরূপ । তোমার কাপড় জড়িয়ে মুখে শুঁকবো মায়ের গন্ধ , চোখের জলে রাত কেটেছে মা ডাক ছিল বন্ধ । পথে ঘাটের সকল নারী সবাই দেখি মা-ই- বোকারা সব বিভেদ দেখে । মায়ের কোন জাত নাই ।
( গদ্য -৪) সন্ত্রাস বাদের হাওয়া এসে ছিড়ে দেয় সুখের নিশান , বন্ধুর নামে শোষন করে প্রতিবেশি। হাল ভাঙা , পাল ছেঁড়া নৌকায় উল্টো স্রোতের জীবন - কোনমতে বেঁচে থাকার অন্বেষণ । তবু ,মৃত্যুকে দুহাতে চেপে দুঃসহ বিপদের পাহাড় টপকাই, - প্রতিটি সকালে উল্লসিত কলরব, দুহাতে প্রদীপ জ্বালাই । প্রতিবাদের মিছিল চলে এখনও প্রতিদিন নিরুদ্বেগ শান্ত মনে জন্মায় শিশু, ফোটে ফুল ,ফল , প্রান আছে , প্রান আছে , ব্যর্থ বুলেট , সন্ত্রাস ...।

  • ধ্বংসের ভ্রূণ
    মন্দিরা ঘোষ
    পৃথিবী তার বল্কল খুলে রাখে সৃষ্টিকর্তার পায়ের তলায়। চাঁদের পাংশু মুখে দীর্ঘতর কলঙ্কের ছায়া। সমস্ত প্রেমিক প্রেমিকার স্তবগান জমা পড়ে অন্ধকার চাঁদের গুহায়।
    যান্ত্রিক আলোয় যুবতীর নগ্ন শরীরে বৃশ্চিকদংশনের ক্ষত। ধর্ষকাম পুরুষের বিষে নীল নাভিপদ্ম। লালিত্যহীন রমনের ইতিহাস লিখে রাখে নিশাচরী বসুধার কোমল বুক। স্বার্থের লালায় স্যাঁতসেঁতে পিচ্ছিল তীর্থপথে মায়াবী ওড়নার জাল পাতা। সৃষ্টিকর্তার চোখ বিস্ময়জলে ধুয়ে যায়। সযত্নে বল্কলের সব অপমান তুলে নেয়; ভরে দেয় ধ্বংসের ভ্রূণ পৃথিবীর গর্ভেগৃহে।।