Monday, July 10, 2017














মধ্যরাতের খন্ড কবিতা - ১২
      লক্ষ্মী নন্দী

তুই কাছে এলে
অামার কষ্টরা
অাড়মোড়া ভেঙ্গে
মৃত্যুর মত শান্ত
হয়ে যায়।
অামার ভীতর তন্নিষ্ঠ
বিভোর হয়ে ওঠে
তোর মিতি সমারোহ।
তুই কাছে এলে
অামার একনিষ্ঠ 
উন্মোচন ঘটে- 
নিশিযাপনে। 
তোর অমোঘ 
সম্মোহনে অামি 
এগিয়ে যাই------
প্রকরণ থেকে প্রসঙ্গে। 
অামার সৃষ্টি - ধ্যান
গ্রহণ - বর্জন
নির্জনবাস- বিশ্বভ্রমন
বহিবিশ্ব- অন্তর্লোক
কাজ - বিশ্রাম 
সবকিছুই একাকার
হয়ে যায় -------
তুই কাছে এলে
তোর মধ্যরাতের 
পারাবারে। 















প্রবন্ধ 

স্বাধীনতা ও বিচ্ছিন্নতাবাদ
সুকান্ত পাল
.
স্বাধীনতা শব্দটি স্ব + অধীনতা -এর মিলনে গঠিত যার আক্ষরিক অর্থ হল নিজের অধীনে থাকা। সেই প্রসঙ্গে ভারতের স্বাধীনতার সঠিক মূল্যায়ন করলে সবসময় একটা প্রশ্নচিহ্ন থেকে যায় আমার মনের মাঝে, " আমরা আদেও স্বাধীন হতে পেরেছি তো " ? মনের মাঝে দ্বন্দ্ব যাই থাকুক না কেন, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস ঘাটলে অনেক বড় বড় কথাই ইতিহাসের পাতায় মুক্তাক্ষরে দেখতে পাবেন | অনেক সামান্য ঘটনাও যে বড় ব্যাপার হয়ে উঠেছে তা বিচার বুদ্ধি দিয়ে বিশ্লেষণ করলেই বুঝতে পারবেন। ঘটনাগুলি এমনভাবে সব সাজানো হয়েছে যে, দেখলেই  মনে হয় হিন্দু-মুসলমান, খ্রিস্টান-বৌদ্ধ নির্বিশেষে সকল ধর্মের মানুষ একসাথে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল | কিন্তু বাস্তবে সত্যি কি তাই ? আসুন দেখা যাক আমার কলম আর আপনাদের বোধ-বুদ্ধি কি বলে ?
প্রথমেই আসি মহাবিদ্রোহ প্রসঙ্গে। ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রহে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকল ধর্মের মানুষ একজোটে ব্রিটিশ বিরোধিতা করেছিল। বিভিন্ন ঐতিহাসিক এটাকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ বলে সগর্বে প্রচার করে থাকলেও, ঘটনাটা কি আদেও ঠিক ? সামান্য এক গুজবে কান দিয়ে তৎকালীন সমাজের সিপাহীরা ধর্ম সংকোটে পড়ে যায় ! শোনা যায় গরু আর শুওরের চর্বি মিশ্রিত কার্তুজ দাঁতে কাটবার ফলেই নাকি  হিন্দু ও মুসলমানের ধর্মানুভুতি আহত হয়েছিল | আর তাই জাত খোয়ানোর ভয়ে তাঁরা এন্ডফিল রাইফেল ব্যবহার করতে আপত্তি জানিয়ে সিপাহী বিদ্রোহের সূচনা করে | সিপাহীরা এরপর ব্রিটিশ নারী পুরুষদের হত্যা করতে লাগলো | যদিও সামান্য গরু আর শুওরের চর্বি মিশ্রিত কার্তুজ দাঁতে কেটে জাত খুয়ানোর চেয়ে মানুষের প্রানের দাম অ-নে-ক কমই হয়ে উঠে সিপাহীদের কাছে, তাই এই বিদ্রোহটা ভারতের একটা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বলা চলে | প্রতিটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা যেমন ধর্ম নিয়ে শুরু হয় , তেমনি এটাও শুরু হয়েছিল মূলত ধর্ম হারানোর ভয় নিয়ে | আর দেশীয় রাজারা এই সুযোগে ঘোলাজলে মাছ ধরতে নেমে গেলেন । ঠিক আজকের পলিটিশিয়ানদের সাথে এর মিল পাওয়া যায় | এই বিদ্রোহে বিদ্রোহী সিপাহীরা যে অমানবিক নির্দয়তার পরিচয় দিয়েছিল নিরীহ ইংরেজ নারী-পুরুষদের হত্যার মাধ্যমে, তার সাথে ৪৭ এর দাঙ্গা, গুজরাটের গোধরার দাঙ্গা, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর মুম্বাইয়ের দাঙ্গার বেশ মিল পাওয়া যায় | মিলটা হলো ধর্মানুভুতি আহত হলেই নরহত্যা করে প্রতিশোধ নেয়া হবে | সিপাহিদের নিরীহ ইংরাজ নারী পুরুষ হত্যার কথাটা কিন্তু ফলাও করে কখনো বলা বা লেখা হয় না ইতিহাসের পাতায় | বরং হলওয়েলের অন্ধকূপ হত্যার তত্ব যে বানানো কথা সেটা প্রমান করতে সবাই উঠেপড়ে লেগে যান | এমনকি মঙ্গল পান্ডের ফাঁসির উপরে সিনেমা বানানো হয় | তাছাড়া তো সাম্প্রতিক বজরঙ্গী ভাইজান তো আছেই। আসলে নানা সাহেব-তাতিয়া টুপি-রানী লক্ষীবাই, ইত্যাদি দেশীয় রাজন্যবর্গ যে নিজ নিজ রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি করতে তত্পর সেদিকে ইতিহাস ফিরেও দেখেনা বরং ফলাও করে রানী লক্ষী-বাই তাঁর ঝাঁসীর দুর্গ রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ হারান সে খবর আমাদের কাছে তুলে ধরে| দমনের শেষ পর্বে বাকি সমস্ত রাজারা তাদের নিজেদের সময় সুবিধা মাফিক ইংরেজদের দলে ভিড়ে গেলেন | ব্যাস, মহাবিদ্রোহের ঐখানেই শেষ | চলুন এবার যাওয়া যাক তৎকালীন পরাধীন ভারতের রাজনৈতিক পার্টির প্রসঙ্গে । সেই সময় পরাধীন ভারতে বেশ কয়েকটি পার্টি ছিল | প্রত্যেকের পৃথক পৃথক উদ্দেশ্য ছিল | আমি পার্টি গুলো ও তাদের উদ্দেশ্যকে পর পর সাজিয়ে এগিয়ে চলার চেষ্টা করছি.
 প্রথমেই বলা চলে কংগ্রেসের কথা | এই দলটি অ্যালেন অক্টাভিয়ান হিউম নামক এক ব্রিটিশ তৈরী করেছিল | এর মূল উদ্দেশ্যটাই ছিল সেফটি ভালভের মতো কাজ করা | অর্থাৎ দেশীয় জনতার যত রাগ বা ক্ষোভ আছে সব শান্তিপূর্ণ ভাবে বের করে দেয়াই এই দলটির প্রধান ও মুখ্য কাজ | এরপরে ১৯০৬ সালে তৈরী হয় মুসলিম লীগ | এই দলটির মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল মুসলিমদের ধর্ম , ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির রক্ষা করা | এছাড়া এর দ্বিতীয় কোনো উদ্দেশ্য ছিল না | সম্ভবত এটি ভারতের প্রথম ধর্মীয় রাজনৈতিক দল | এই দলটিকে ইংরেজরা এসেম্বলির সদস্য করে | প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে এর উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ প্রশাসনে মুসলিম যুবকদের বেশি করে ঢোকানো | তাই এরা বেশি বেশি মুসলিম যুবকদের প্রশাসনে ঢোকায় | ব্রিটিশদের সাথে এদের ভালো সম্পর্ক ছিল | ৮০% মুসলিম এর কথায় চলত | আর তাই  ব্রিটিশ বিরোধী সহিংস আন্দোলনে এরা অংশ নেয় নি । মুসলিম লীগের এইরকম আগ্রাসী মনোভাব হিন্দুদের ভীত করে তোলে | দেশটা আবার মুসলিমদের হাতে চলে যাবার ভয় যত না ছিল তার চেয়ে বেশি ধর্মের ভয় | সেই ভয় থেকে ১৯০৯ সালে জন্ম নেয় হিন্দু মহাসভা | এই দলটির উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু ধর্ম, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে রক্ষা করা | এটি দ্বিতীয় ধর্মীয় রজনৈতিক দল | কংগ্রেসের সাথে এই দলটি প্রতিযোগিতা করতে শুরু করে | এর উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসনে হিন্দু যুবকদের বেশি করে ঢোকানো | এরই একটা সাথী ছিল, বা বলা যেতে পারে অ্যাকশন গ্রুপ ছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ , যা ১৯২৫ সালে তৈরী হয় | এই হিন্দু মহাসভার সদস্য ডক্টর বি কে মুঞ্জে লন্ডনে গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দিতে যান | ফেরার পথে ইতালিতে মুসোলিনির ফ্যাসিবাদী কার্যকলাপে আকৃষ্ট হন এবং হিন্দু যুবকদের সমরশিক্ষা দানের জন্য সেন্ট্রাল হিন্দু মিলিটারি একাডেমী তৈরী করেন | এছাড়া আর এস এসের গুরু সদাশিব গোলওয়াল্কর হিটলারের আর্য রক্তের কনসেপ্টকে খুব পছন্দ করেন | হিন্দু মহাসভার সাভার্কারের নেতৃত্বে অহিন্দুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হয় |হিন্দু মহাসভা পাঞ্জাব ও উত্তর পশ্চিম অঞ্চলে মুসলমানদের ও শিখদের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক কার্যকলাপ শুরু করে যা পরে দেশভাগের জমি প্রস্তুত করে | এরাও ব্রিটিশ সরকারের সাথে সহযোগিতাই করেছিল | ব্রিটিশ এদেরকেও এসেম্বলির সদস্য করে | ব্রিটিশ বিরোধী সহিংস আন্দোলনে এরা অংশ নেয় নি | প্রায় ৮০% হিন্দু এদের কথায় চলত । এই দুই দলের কার্যকলাপ একটা বিষয় পরিস্কার করে যে কেন ভারতে সহিংস বিপ্লবীর সংখ্যা এত কম ছিল | ধর্মই আমাদের ব্রিটিশের বিরোধিতা করতে দেয় নি | যদি দিত তাহলে আমরা আরো আগে স্বাধীন হতাম | ভালো রে ভাই ভালো ,  ধর্মই বেঁচে থাক চিরকাল, মানুষ আর সমাজ না হয় চুলোয় যাক | গোপন সুত্রে জানা যায় এই হিন্দু মহাসভা ও মুসলিম লীগের ছেলেদের ব্রিটিশ প্রশাসনে অনুপ্রবেশ দেশভাগে সহায়তা করেছিল ] এই রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে যে হাস্যকর রকমের প্রতিযোগিতা চলছিল তা বলা-বাহুল্য  | কংগ্রেসের ভারত ছাড় আন্দোলনে হিন্দু মহাসভা ও মুসলিম লীগ কেউই অংশ নেই নি | কংগ্রেসের তেরঙ্গা ঝান্ডা হিন্দু মহাসভা সমর্থন করে নি, তারা চেয়েছিল গেরুয়া ঝান্ডা | কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানও হিন্দু মহাসভা পছন্দ করে নি | তারা চেয়েছিল মনুসংহিতার আদলে সংবিধান | আর এস এসের সদস্য নাথুরাম গড সে তো কংগ্রেসের গান্ধীকে হত্যাই করলো | মুসলিম লীগ খিলাফত আন্দোলনেও অংশ নেয় নি , যেহেতু সেটা ব্রিটিশ বিরোধী ছিল | তারা এর বিরোধিতা করে | কংগ্রেস অখন্ড ভারত চাইলে মুসলিম লীগ পাকিস্তান চায় | আবার হিন্দু মহাসভা ও মুসলিম লীগের উগ্র ধর্মীয় কার্যকলাপের বিরোধিতা করে কংগ্রেস | সব মিলিয়ে আজকের রাজনৈতিক পার্টিদের কোন্দলের মতই পরিস্থিতি | স্বদেশপ্রেম, স্বাধীনতা ইত্যাদির কোনো গল্পই ছিল না । 
চলুন এবার ভারতের সহিংস আন্দোলন কেমন ছিল দেখা যাক | ভারতের সহিংস আন্দোলন শুরু হয় ১৮৫৭র মহাযুদ্ধ দিয়ে | সেটা যে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক কারণে হয়েছিল সেটা তো আগেই বলেছি | এরপরে সহিংস আন্দোলনে বাংলার বিপ্লবীদের কথা আসে | ১৯০৫ সালে অনুশীলন সমিতি ঢাকায় তৈরী হয় ৮০ জন হিন্দু যুবককে নিয়ে| এই সমিতির সদস্যরা ব্রিটিশদের উপর সহিংস হামলা করত । চাপেকার ভাইরা মহারাষ্ট্রে রান্ড আর আয়ার্স্ট নাম দুই ইংরাজকে মেরেছিল। ভগত সিং এন্ড কোং পাঞ্জাবে পার্লামেন্ট-এ বোম মেরেছিল । এরা হিন্দুস্তান রিপাবলিকান এসোসিয়েশন-এর সদস্য ছিল । বিনয়-বাদল-দিনেশ নেতাজীর বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স গ্রুপের সদস্য ছিল | তারা লোমান নামে এক ইংরাজ অফিসার আর রাইটার্স-এ সিম্পসন নামে এক অফিসারকে মারে | স যাই হোক সহিংস আন্দোলনে নেতাজীর ভূমিকার কথা না বললে অন্যায় করা হয় | নেতাজিই একমাত্র ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব | তিনিই আঞ্চলিক-ধর্মীয়-গোষ্ঠী স্বার্থ-এর মত সংকীর্ণ বিষয়ের উর্ধ্বে সর্বভারতীয় ভাব আনতে পেরেছিলেন | তার আজাদ হিন্দ ফৌজে সব জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে লোক যোগদান করেছিল | অথচ তিনিই স্বাধীন ভারতে পাত্তা পেলেন না | এর পিছনে নেহেরুর কংগ্রেসী রাজনীতি কাজ করছিল | এখন অবশ্য রাজনৈতিক দলগুলি তাঁকে নিয়ে খুব ব্যস্ত | এছাড়াও বহু সহিংস আন্দোলন হয়েছিল যা বিচ্ছিন্ন ও অসংগঠিত হবার দরুন আরামসে দমন করা গেছিল | তবে এই বিপ্লবীদের কয়েকটি কাজ একদম সমর্থন যোগ্য নয় | ক্ষুদিরাম কিংসলি সাহেবের বউ ও মেয়েকে মারে | ভগত সিং লালাজির হত্যাকারী হিসেবে সন্ডার্স নাম নির্দোষ ইংরাজকে মারে , বিনয়-বাদল-দিনেশ রাইটার্স-এ সিম্পসনের পাশাপাশি বহু নির্দোষ ইংরাজ অফিসারকে মারে | গোটা আন্দোলনটাই ছিল বিচ্ছিন্ন | কোনো সুসংগঠিত ভাব ছিল না | সর্বভারতীয় ভাব একমাত্র নেতাজি ছাড়া কথাও ছিল না | তবে ওদের এই সহিংস আক্রমনে ব্রিটিশ সরকার মোটেই ভয় পায়নি | যদিও দেশীয় ব্যবসায়ীরা কিন্তু স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেননি | কেননা তারা তখন ব্যবসায়িক ফায়দা লুটছিলেন | যেমন কংগ্রেস-এর ভারত ছাড় আন্দোলনের সময় খদ্দরের চাহিদা বেড়েছিল | সেই সময় আগুন দরে খদ্দর বেচে বস্ত্র ব্যবসায়ীরা লাভ করেছিলেন | দু-দুটো মহাযুদ্ধে ব্রিটিশকে নানা জিনিসের যোগান দিয়ে দেশীয় ব্যবসায়ী টাটা-বিড়লারা খুবই লাভ করেছিল | স্বাধীনতা আন্দোলনের নেশা ওদের ছিল না| সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে দেখা যাচ্ছে যে সর্বভারতীয় স্তরে শুধু এক নেতাজি ছাড়া কেউই আন্দোলন করেনি | তাহলে ভারত কিকরে স্বাধীন হলো ? এটা সম্পূর্ণ পরিস্থিতির কারণে হয়েছে | দু-দুটো মহাযুদ্ধে ব্রিটেন সাংঘাতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় | তার অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়ে | এই বিশাল সাম্রাজ্য রক্ষার ব্যয়ভার আর সে বহন করতে পারেনি | তাই বাধ্য হয়ে ভারতকে স্বাধীন করে ।
আশাকরি এটা স্পষ্ট যে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে কোনো পলিটিকাল পার্টিই কোনো উল্লেখযোগ্য কাজ করেনি | আসলে কাউকেই ব্রিটিশরা পাত্তা দেয় নি | সহিংস বিপ্লবীরাও ব্রিটিশদের ভয় পাওয়াতে পারেনি | আর সংখ্যাগুরু হিন্দু মহাসভা, মুসলিম লীগ, কংগ্রেস ব্রিটিশ বিরোধী ছিল না | সংখ্যালঘু অসংগঠিত সহিংস বিপ্লবীদের আরামসে মারা গেছিল | সুতরাং স্বাধীনতার যুদ্ধে ব্রিটিশদের সেরকম কঠোর প্রতিপক্ষ কেউ ছিল না | ব্রিটিশরা ভারত ছেড়েছে সম্পূর্ণ অন্য কারণে | দু-দুটো মহাযুদ্ধে আর্থিক ভাবে সর্বস্বান্ত হবার পর তারা ভারত ছেড়েছে নইলে ছাড়ত না | এখন অবশ্য পলিটিকাল পার্টিরা স্বাধীনতা যুদ্ধের ক্রেডিট দাবি করে | কিন্তু তাদেরকে ব্রিটিশরা গ্রাহ্য করে নি | পরিশেষে একটাই কথা বলে রাখি ধর্মের গোড়ামী আমাদের স্বাধীনতায় আজও হস্তক্ষেপ করে By hook or by crook !









তুমি কি ভালো আছো প্রিয়
দেবব্রত তাঁতী

চিতার আগুনে পুড়ছে সবাই
দিকে দিকে ক্রন্দন আর 
আত্মীয় স্বজন হারানোর হাহাকার চিৎকার 

এ শশ্মানের দেশে
তুমি কি ভালো আছো প্রিয় ?

গুলি বোমাবর্ষনের আওয়াজে ঘুম আসেনা
ধর্মবিদ্বেষীদের দাঙ্গার ছাইচাপা আগুণ
বাঁচার আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে

এ স্বার্থের দেশে
তুমি কি ভালো আছো প্রিয় ?

চাপ চাপ রক্ত , লাশ ঘরে শুয়ে আর
মাথার ওপর প্রখর উত্তাপ 
আর ক্ষুধার্ত শকুনদলের চোখ এদিকে

এ ভাগারের দেশে
তুমি কি ভালো আছো প্রিয় ?

বাতাসে ধুলিকণার মতো ঘুরছে জীবানুরা
সুযোগসন্ধানী , যা ইচ্ছে তাই করে বেড়াবে
অপরের মৃত্যু আর নিজেদের বংশবৃদ্ধি

এ জীবাণুদের দেশে
তুমি কি ভালো আছো প্রিয় ?

তুমি রানী , অথচ অজুহাতে বুড়ো আঙুল 
দেখিয়ে নোংরা মানসিকতা বাসা বাঁধছে
প্রজাদের চেতনে অবচেতনে

এ সংকীর্ণতার দেশে
রাজশ্রী , তুমি কি ভালো আছো ?

কর্পূরের মতো উবে গেছে প্রেম তাই
ঈশ্বরের কাছে হাত পেতে ভিক্ষা চাইছি
ভিক্টোরিয়ার ডানা দাও , উড়ে যাওয়ার জন্য

এ প্রেমহীন হিংসার দেশে 
তুমি কি ভালো আছো প্রিয় ?











"সম্প্রীতি"
সমীরণ চক্রবর্ত্তী


জ্বলছে আগুন বুকের ভেতর
জ্বলছে আগুন পাড়ায়
কারা যেন উত্তেজনার
পারদ শুধু বাড়ায়।

গুজব ছোটে হাওয়ার বেগে
হিংসে ছড়ায় কারা ?
কোথায় যেন থমথমে ভাব
জ্বলছে কাদের পাড়া ?

ওরা কারা ? দাঙ্গা লাগায়...
রাম-রহিমের দেশে
উটকো যত রাজনীতি সঙ
মুখ-মুখোশের বেশে ।

পড়শি আমার স্বজন সুজন
তবে কিসের ভয় ?
যারা দাঙ্গা বাঁধায়, আখের গোছায়
ধর্ম তাদের নয়।









সামাজিক বাস্তবতা
দীপশিখা চক্রবর্তী

জীবন আমার সুখের বড়,নেইকো দুখের ছায়া,
হৃদয় জুড়ে ছড়িয়ে আছে ভালবাসার মায়া।
হঠাৎ এল বাণ আমার সুখী মনের কোণে,
মন আমার ক্ষতবিক্ষত কটূক্তির বাণে। 
সমাজ শুধোয় কবে আমার কোলটি হবে আলো?
আমি বাঁজা মেয়ে,আমার মুখ দেখা নয় ভালো;
স্বামী আমার ভালমানুষ, নেয় না এসব কানে,
আগলে রেখে বলে চলতে আপন মনের টানে।
কোল জুড়ে এল আমার ছোট্ট একটি পরী,
আনন্দেতে ভাসছে সবাই,ভেবে পায় না কি করি!
হায় রে সমাজ!এর পরেও হল না মুখ বন্ধ,
দেখতে আসে মনে নিয়ে কতরকম দ্বন্দ্ব;
হবে কেমন দেখতে সে যে,গায়ের রং কেমন,
মনকে বোঝানো দায়,কটূক্তি সমাজেরই ধরণ।
সমাজের এই কালো রুপ মনে জাগায় ভয়,
আনন্দের মাঝেও জেগে ওঠে মাতৃরুপি সংশয়।










স্বপ্ন 
নির্মাল্য ঘোষ 

একটার পরে একটা ঘুমের স্তর... তারপর গভীরে  তুমি,
সবুজের হাতছানি।

মনের মেঘ কেটে গিয়ে পরিষ্কার সব... স্বচ্ছ নীল আকাশ,চেতনার চৈতন্য।

চারিদিকে শান্তির বাতাবরণ,
হাজার বছরের তপস্যার লহমায় সিদ্ধিলাভ,গৈরিক রঙ।

তারপর আবার মেঘে ফিরে আসা,স্তরে স্তরে উত্তীর্ণ হয়ে, সূর্য ডাকছে।










স্বপ্নবালিকা।
সুপ্রীতি বর্মন


রোগাপ্যাংলা একরত্তি শরীর যেন কোন উজান গাঙে অস্থিরমতি যৌবনের নতুন সাঁকো। ছাপোষা মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে তাই টাকা সঞ্চয়ে বাতিক ভাবে হাতের নস্যি করে তার অপোগন্ড পিতা যেমন কেচ্ছাবিলাসে উড়িয়ে দিয়েছে অফুরন্ত বালি তরঙ্গোচ্ছ্বাসে সংসারের লালিমা আর আধিক্য এক লহমায়।ছাদ ফুঁড়ে মাথায় বজ্রপাত ভাগ্যের পরিহাস এই টানাপোড়েন। তাই সুদীপ খসে পড়েছে ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত কবে হবে তার তারা হওয়ার দিন।এদিকে বলা নেই কওয়া নেই তার মাথার উপর অনাবিল স্রোত ক্রেডিট নেওয়া যার স্তুপ কমে যাওয়ার বদলে ক্রমবর্ধমান তার গতি।স্বত্তাগুলো ব্যার্থতার দিনগুলোতে নখের আঁচড়ে যবনিকা পতন হল প্রায়।চারচাকার উইন্ডস্ক্রীনের আবছা কাঁচের ফ্ল্যাশ তার অন্তস্থলে প্রতীকী তার স্বপ্নবালিকা।
তার কি অপরূপ কায়া কি মন্ত্রমুগ্ধ দৃষ্টির চাউনি শক লাগলো শরীর বেয়ে বিদ্যুৎ এ আবিষ্ট হয়ে যায় সে অন্তর্বাসে।ইলশে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি তার উত্তরনের দিশা শৈল্পিক সুষমায় অজন্তা ইলোরার অঙ্গের খাঁজে সে আত্মতৃপ্ত ঐ অপরূপ সোঁদা মাটির ঘ্রান সতেজ হল যেন সে।মড়ক লাগা গাছগাছালি শুষ্ক আলজিভে অভিসারের অধরাতে রসে বিহ্বল থই পায় না আলাপচারিতায় হুটোপাটি।হাজার দুর্বিপাকে অস্থিরমতি harrass করা উচাটন খেয়াল আর কথায় কথায় তার overreact but in no sense.
তবুও প্রতি অধরাতে তার উচ্ছিষ্ট পাওনা তাচ্ছিল্যের হাসি।গা ছমছমে মানসিক দুর্বলতা হাজার গোছা রক্ষাকবচ ঝুলতে লেগেছে ঢ্যাঙার মতন।সুখ অসুখের দ্বিচারিতা নির্বিকারভাবে বিড়বিড় প্রলাপ।পরিত্যক্ত প্রাঙ্গনে বৈরাগ্যের বাতাস মেঘ ছেঁড়া বিদ্যুতের প্রশয় বৃষ্টির স্নিগ্ধ পরশ তার একঘেঁয়েমি তার লাগে অনবরত ধাক্কা খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে ধারাপাতে।ওদিকে আধডোবা মনে বেজে উঠতে লেগেছে ধামসা মাদল আর লাল সুড়কি চৌরাস্তার বাঁকে এক অপরূপ তন্বী।আনন্দে আপ্লুত আর ভ্রুপল্লব মেলে উড়াল মরালীরা।আজ যেন ছুটির সঙ্গে অন্যরকম বোঝাপড়া চায়ের দোকানে বাউন্ডুলে বাতাস আর জমাটি আড্ডায় সিগরেটের ধোঁয়ায় নেশার মজলিস আর পরকীয়া চা।প্রবল ঝড় আর বৃষ্টিতে গা হিম আর শেষ মাথা গোঁজার ঠাঁই ঝাঁপ ফেলে দেবার উপক্রম।ধিকিধিকি আগুনে নববধূর সীমান্ত রাঙানো ভয় শুধু সিঁদুরে কোলাজ দৃশ্য আমার স্বপ্নবালিকা।ওদিকে দগ্ধ ঠোঁটে তার নিরীক্ষনের আধিক্য।ওদিকে জমাটি মেঘ আনমনে পকেটে দেয় হাত আর পায় তার দীর্ঘদিনের সঞ্চয় সেই চুম্বনে সিক্ত আকাচা রুমাল।চিবুকে বসায় পায় আদ্যোপান্ত চুকিতকিত শৈশবের ইচ্ছেনদী।হঠাৎ ঝাপসা স্মৃতির হাতছানি।দূরে মড়ক লাগা গাছগাছালির অস্তরাগের ফাঁকে তরঙ্গোচ্ছাসে উথাল পাতাল স্বপ্নবালিকা।যেন কোন আকর্ষনে ধেয়ে গেলাম তার দিকে।দগ্ধ ঠোঁট দীর্ঘদিনের শুষ্ক আলজিভ অভিসারের মাদকতায় liplock e hangover. নেলপালিশের রঙীন বিদ্যুত হৃদয় তমসার সাঁঝে আর দীর্ঘক্ষন আমি আবিষ্ট আত্মসাৎ আমার সাবধানী স্বত্তা তোমার অন্তর্বাসে।

Tuesday, July 4, 2017















দুটি টুকরো 
উদয় সাহা


(১)মেঘেরা

আমার কথারা বিন্দু বিন্দু হ'য়ে
বায়ুমণ্ডলের স্তরগুলো ভেদ ক'রে
তোমার নীল রাস্তার পাড়ায় মিছিল ক'রে অনশন করছে
কথাগুলো প্রতিক্রিয়াহীন ফ্যাকাসে,অপেক্ষমাণ
তোমাকে তাদের রঙে রাঙাবে।
আনন্দ তখন শীতল। আনন্দ তখন ঝিরিঝিরি ঝড়বে।

(২)পেজমার্ক

একটা শীর্ণকায় কায়া।
মুখবন্ধ সহ গোটা তিরিশ সবুজ পাতা।
প্রতি পাতায় বিশৃঙ্খলা, বিচ্ছিন্নতাবাদ,অসংহতির আগুন।
তাপ খুব বেশী মনে হ'লে উঠে আসি।
গুঁজে রাখি শান্তিমাখা তোমার একটা ছবি--
আমার পেজমার্ক।















নিশ্চিত আশ্রয়।

সুপ্রীতি বর্মন।




রৌদ্রদগ্ধ গনগনে আঁচ
তোমাতেই আমার অবগাহন।



নবাঙ্কুর শৈশবের
জলকেলি সমুদ্র সৈকতে।



পশ্চাদভাগ ভারবহ
ক্লান্তি সঙ্গপনে।



অকাল বার্ধক্য জটাজুট
অগ্রিম পাওনা হাতে।



গোধূলির কুঁচবরন
কন্যার নয়নাভিরাম।



আকর্ষনে মহিয়সী
মরিচীকার চ্ছদ্দ
প্রবেশ।



অনতিক্রম্য কুৎসিত
কালো কোকিলের



কর্কশ নিনাদী স্বর আকাশ
বাতাস অথৈ জলে।



থাকছে নিঃশব্দ বিশাল
আদিগন্ত।



চুপিসারে কৌশলী
সুরাপানে মত্ত রবি
সোহাগ শেষে।



গোধূলির লাল ঠোঁটের
চুম্বনে ধরেছে আকাশের
তলটাকে।



পরিশেষে অবশেষ ফেলে ডুব
দেয় পাটে।



বালি আমি অসহায়
পরিত্যক্ত সমুদ্র
সৈকতে।



কবে থেকে স্থগিত
বিস্তৃত সমুদ্রতটে।



শ্বাপদ শঙ্কুলের
পদপৃষ্ঠের দপাদপ সদর্প
বিচরন।



সহনের অনতিক্রম্য মম
জীবন যৌবন।



নীল সমুদ্র তার চঞ্চল
চপট বাচালতা।



বারংবার নিষেধাঞ্জা
নিত্য তার যাওয়া আসা।



সহাস্য ঢেউগুলো
ঝাপিয়ে পড়ে আমার
বক্ষে।



সবটুকু রস নিগড়ে নিয়ে
যেতে চাও সঙ্গপনে।



ফেলে যাও অবশেষ সান্দ্র
আমি।



সোহাগের ভারে ক্লান্ত



রিক্ত পরিত্যক্ত মোর
যন্ত্রনা।



তবুও কখনো হয়ে যাই
সিক্ত



অলক্ষ্যে তোমার।



কাচুঁলির ফাঁকে ফাঁকে
আমার সহবাস।



নিশ্চিত আশ্রয় পেয়ে
আমি এতটুকুতেই ধন্য।



মনপ্রান উজাড়ে
তোমাতেই সোহাগে
ব্যস্ত।



কিন্তু কখনো ভাবিনি
তুমি হয়ে যাবে
অস্থির।



কচকচানি আমার কর্কশ
শরীর।



আনে তব বলিরেখা ললাটে
ভ্রূকুটি।



যদি পড়ে যায় কোন
আঁচড়।



সুন্দরতায় আনবে অমলিন
দাগ



দীর্ঘায়ু হবে আবার।



তোমার আননে কেমন
স্বস্তির অবকাশ
পরিশেষে।



যা হোক বাবা পরিত্রান
চিরতরে।



পোষায় না আর এই
অস্বস্তির লেশ।



স্তনযুগল ঘর্মে
অস্বস্তিতে ছটফট।



নাভিমূলে নিশ্চিত
গুপ্ত প্রেম।



কিন্তু দৈবাৎ সেখানেও
থাকা দায়।



অগভীর নীল সাগর বড়
শয়তান।



ঘাপটি মেরে বসে আছে



অলেখ্য তার আচরন।



ঝাপিয়ে পড়ে কেড়ে
নেবে



আমার শেষটুকু আবদার।



আবার গড়াতে থেকে
পরিশেষে



আমার আশ্রয় ঐ ঘৃন্য
পরিত্যক্ত



সকলের পদপৃষ্টে।



চিকচিক করে উঠে আমার
সর্বাঙ্গ।



রন্ধ্রে রন্ধ্রে
সহবাস।



আমাতেই তোমার
পূর্ণ্যস্নান।



সেইটুকু লেশ সঞ্চিত
কনা।



ধরে রাখতে চাই আমরন



বঞ্চিত করোনা।



আমার এই রূপের লাবন্য



আহামরি দেখবে লোকে।



কিন্তু তাতেও সয় না
তোমার



দৃষ্টিশূল ঐ মৃগতৃষ্ণা
নক্ষত্রখচিত
হৃদয়াঙ্গম।



তুমি রবে নীরবে।



আগামী দিনমনি সেইটুকু
সহাবস্থান নেবে
কেড়ে।



এইটুকু সন্দিহান



হঠাৎ শঙ্খচিল যায়
ডেকে।



বিবস্ত্র মোর
দৈন্যদশা।



আত্মগোপনে অস্থিরতা।



নেই কোন নিষ্কৃতি



তবুও জানি নিশ্চিত
একদিন পাবো দেখা।



এসো দেবী স্নান করি
আবার।



পশ্চাদগমনে সঙ্গপনে
নতুন করে আরেকবার।



নবকনের গৃহপ্রবেশ
পদাঙ্কুরের আঁচলে।



শুভারম্ভ তোমার আমার
প্রেম।



বিস্তৃতির অতলে।