ভৌতিক গল্প
অলৌকিক
শুভেন্দু নন্দী
ভৌতিক গল্প
অলৌকিক
শুভেন্দু নন্দী
ভয় পাবেনা কেউ
মনোরঞ্জন ঘোষাল
জানালার ধারে আনমনে বসে লিখছি। হটাত কানে ভেসে এল পাতার খসখস শব্দ! কেউ যেন হেঁটে
চলেছে। ঠিক জানালার পাশ দিয়ে!
জানালা বন্ধ। তাড়াতাড়ি তা খুলে একবার উঁকি মেরে দেখলুম, কেউ কোথাও নেই।
তাজ্জব ব্যাপার! দিনের বেলায় এমন ভূতুড়ে কাণ্ড।
ভয় লাগছে না, জাগছে বিস্ময়!
আজকেই পাড়ার একজন মারা গেছে। মাঝে মধ্যে সে এই পথেই বাগানের দিকে যেত। তবে কি……!
ধ্যেত ! কি সব আজে বাজে ভাবছি। ও সব আবার কিছু হয় নাকি?
তা হলে এটা কি? ……
বিজ্ঞান অপবিজ্ঞান কেমন যেন সব গুলিয়ে যাচ্ছে। বাস্তব আর অবাস্তব আলাদা করতে পারছি না। দর্শন ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যতা কার উপরে আঙুল তুলে প্রশ্ন করব? মনের মধ্যে এমন নানান সতেরো প্রশ্ন এসে হাজির হচ্ছে। কিছুতেই তাদের সমাধান করতে পারছি না।
অনেকটা সময় আমাকে ওই ঘটনা বিচলিত করে রাখল। তার পর আমি ও সব ভুলে আবার নিজের কাজে মনোযোগ দেব ঠিক করেছি।
কানে ভেসে এল ফিসফিসানি আওয়াজ! ভাঙা ভাঙা গলায় কে যেন বলছে-
কি…রে কা…কা লে…খা প…ড়া ক…র…ছি…স?
শব্দ গুলো যেন কোন গভীর গহ্বর থেকে হালকা ঢাকনা খুলে বেরিয়ে এল। যেন বহু কষ্টে সে বেরিয়ে আসছে অন্দর থেকে।
শুনে আমি তো পাথর। হাত পা যেন নড়তে চাইছে না। ভয়ে অস্ফুত স্বরে মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল একটা শব্দ- ভূত। ভূত। ভূত।
আমার মনে হল আমি, চিৎকার করে বলছি, কিন্তু কানে কিছুই শুনতে পাচ্ছি না।
মুখের উপরে কে যেন অদৃশ্য হাত দিয়ে চেপে ধরেছে। শব্দ বের হতে দিচ্ছে না। আমিও প্রাণপণে শব্দ বের করার চেষ্টা করছি। যেন কি অসম্ভব শক্তি , আমি কিছুতেই তার সঙ্গে পেরে উঠতে পারছি না।
দু জনের কি বিশাল ধস্তাধস্তি। তার পরের কিছু আর মনে নেই।
বলল, নাকি লেখার বিছানায় পড়ে গোঁ গোঁ করছিলাম। সবাই ধরে ঘরে বিছানায় শুইয়ে দিয়েছিল। ঘণ্টা খানেক পর নাকে গোটা হলুদ পোড়া শোঁকাতে তবে চাঙ্গা হয়ে উঠি।
ভ্রমণ
চরৈবেতি (পর্ব উটি)
রণিতা দত্ত
সুনীল সাগরে, শ্যামল কিনারে
রাজমহল
বেলা দে
মেয়ের চাকুরীসূত্রে মালদা জেলার সামসী শহরে থেকেছি সাত বছর, প্রতিবেশীরা এতটাই মানবিক যে কয়েক দিনের মধ্যে আমাদের আপনজন হয়ে উঠেছে, বুঝতেই পারিনি ছোট্ট এক শিশুকে নিয়ে আমি ও মেয়ে বাড়িঘর ছেড়ে ৩০০ কি মি দূরে আছি,বিপদে আপদে সবসময় কাছে পেয়েছি। মেয়েকে সে পাড়ায় "নবোদয় সংঘ" নামে এক সাংস্কৃতিক সংস্থার সদস্য হিসেবে নিয়েছে, ওদের ব্যবস্থাপনায় নাটক নাচ সবেতেই অংশগ্রহন করে ছেলে মেয়ে। ওরা যখন মনস্থ করলেন একদিনের ট্যুরে বেরোবে প্রতিবেশিরা মিলে, বেড়াতে কার না ভালো লাগে, রাজি হয়ে গেলাম। বেরিয়ে পড়লাম ১০ই মার্চ। রবিবার উইক এন্ড সবাই যেতে পারবে, টান টান উত্তেজনা নিয়ে রওনা হলাম সর্বমোট ২০ জন। বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে গাড়ি উঠে পরলাম, যাব বিভাজিত বিহারের ঝাড়খন্ডের রাজমহল, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ছুটে চলেছে গাড়ি খুব ভোরে, আমাদের গাড়ির সাথে সাথে ছুটছে মুকুলায়িত আম্রকানন। জোরকদমে ঘড়ি আটটা ছুঁই ছুঁই যখন পৌঁছে গেল রতুয়া এরপরই খয়েরতলা, দেখতে দেখতে এসে গেল মানিকচক গঙ্গার ঘাট, ওপারে যাবার লঞ্চ তখনও ঘাটে ভেড়েনি। গঙ্গার পরপারে ঐতিহাসিক নগরী রাজমহল, লঞ্চ ছাড়ার নির্দেশিত সময় ১১ টা.
ঘাটপারের এক রেস্তোরাঁয় বসে চা জলখাবার খেয়ে একটু অপেক্ষা করতে না করতে এসে গেছে এসে গেছে বলে রৈ রৈ কান্ড জনতার, সব এগিয়ে চলেছে সামনের দিকে। ওপরে ওঠার খাড়া লোহার লম্বা সিড়ি, উঠতে গিয়ে প্রাণ প্রায় ওষ্ঠাগত, পায়েও প্রচন্ডরকম ব্যাথা। আরেকজন প্রবীণ মহিলার একই অবস্থা, কর্তৃপক্ষ আমাদের দুজনকে নিচের তলায় কোনও মতে জায়গা করে দিয়েছে, বাকিরা সবাই ওপরতলায়। আসলে বহু স্থানীয় লোকেরা ওপারে যায় কর্মসংস্থানে। সর্বনিম্নে লোহার পাটাতনে অজস্র বোল্ডার বোঝাই লরী, যাত্রী বোঝাই ছোট গাড়ি, সেইসাথে আমাদের গাড়িটা।
কবিতা
যেভাবে বাঁচি
পরাগ মিত্র
আমাদেরও জাগতে হবে
অশোক কুমার ঠাকুর
আমাদেরও জাগতে হবে,
জাগো জাগো জাগো রে ভাই
আর কতকাল, কাল কাটাবে
নাচন কোদন ছাড়ো রে ভাই
সংখ্যালঘু আছেন যারা,
কোন দেশে কে কেমন আছে
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখো
আজকে যারা যেমন আছে।
কাব্য চর্চা অনেক হলো
এবার বুকে আগুন জ্বালা
পুড়ছে নাকি বুকটা তোদের
সেই বুকে নেই আগুন-জ্বালা!
ওপার বঙ্গে সংখ্যা লঘু
ভয়ে পাথর, বুকে চাপেন
এপার বঙ্গে সংখ্যা লঘু
সংখ্যা গুরুর বুকে চাপেন।
কোথায় গেলো বুদ্ধিজীবী
মহাকবি লেখকেরা
'চাঁদ' না ধরে 'কান্না' ধরুন
জাগুক সমাজ দেখুক এরা ।
এক অজ্ঞাত বিকেল
অর্পিতা রায় আসোয়ার
মিরজাফর
উৎপলেন্দু পাল
পথের পথিক
কেতকী বসু
যথেষ্ট বা পর্যাপ্ত বলে ধরে নেওয়া কথা গুলো
চোখের সামনেই কেমন যেনো ফাঁকা আর অলস মনে হয়
দুর্দিনের ঘরে ব্যথা হয়
পড়ে থাকা রাস্তায় রাশি রাশি ধুলো
ইঁট,পাথরের কংক্রিটে মিশে গিয়ে
পথ হারালে
বেনামি পরিচয়ে নতুন করে ভাব হয়
রাস্তার গতিপথ মাপা হয় দৈর্ঘ্যে, প্রস্থে
আড়ম্বরের চমকে পিচ্ ঢালা হলে রাস্তার
নূন্যতম হিসেব বদলে যায়
বহু সমাগম আর নতুনের সূচনায় পথ তখন
আপন খেয়ালে বুকে নিয়ে বেড়ায় জমানো আনন্দ
দরকারি সমস্ত কাজ খুঁজে নিয়ে হিসাব মেটায়
সরকারি দপ্তরে
তারপর যথেষ্ট নাম নিয়ে তর্ক চলতে থাকলে
মিথ্যা হয় অজুহাত আর সমস্ত পরিকল্পনা
সন্ধ্যার আলো জ্বলে উঠলে রাস্তার উজ্জ্বলতা বেড়ে যায়
মনে পড়ে অন্ধকার পথের সমস্ত অন্ধ কথা গুলো।
মা
নবনীতা (সরকার)
মানুষ পোড়া গন্ধ
তমোহন হিয়াজ্যোতি
সম্রাট দাস