হারায় নি কিছুই
শুভেন্দু নন্দী
তারাভরা নীলাকাশের দিকে তাকিয়ে মন্থর গতিতে হেঁটে চলেছেন জ্যোতিপ্রকাশ। একসময়ে তিনি যেন অতীতে হারিয়ে গেলেন। ..... কী ভালোই না বাসতেন ফুটবল খেলতে! বাঁ- পায়ে ছিল দুরন্ত গতি। সবাই বলতো তিনি না কী ড্রিবলিং এ ছিলেন তুখোড়। জেলা স্তর থেকে একেবারে জাতীয় পর্যায়ে ফুটবল খেলায় দিয়েছিলেন তিনি নেতৃত্ব।
কতবার যে তাঁর দুরন্ত শটে বল গোলপোস্টের জাল ভেদ করে বাইরে চলে যেতো, তার ইয়ত্তা নেই। জাতীয় স্তরে খেলবার সময় প্রতিপক্ষের এক ফুটবলারের সাথে খেলোয়াড় সুলভ সংঘর্ষে পড়লেন ছিটকে একবার মাঠের একধারে। তারপর তাঁর আর কিছু মনে নেই। জ্ঞান হতেই দেখলেন হাসপাতালের বেডে। অস্ত্রোপচারের পরেও বা -পা দুর্বল ও অশক্তই রয়ে গেলো।
... সকালবেলা। কলিংবেলের আওয়াজে সবাই সচকিত হয়ে উঠলো। আলোকা,জ্যোতির স্ত্রী, দরজা খুলে অবাক হয়ে বলে
উঠলেন, " আরে! প্রবীরদা.......?"
- খবর নিতে এলাম, তোমাদের।
-আরে! ভালো আছিস তো, প্রবীর?
জ্যোতির মুখে যেন প্রবীরের আগমনে একরাশ চাঁপাফুলের মিষ্টি সুবাস ছড়িয়ে পড়ল । তাঁর নিস্তরঙ্গ জীবন যেন মন্দাকিনীর জোয়ারে ভেসে উঠলো,
-হ্যাঁ ভালো আছি। তোর কথা আমরা মানে আলোক,মধু,বিপুল সবার কথাই ভাবিরে। আমাদের আড্ডার স্থলের কথা মনে আছে তোর?
-আমার কথা বলে, তারা?
-বিলক্ষণ। তুই মানসিক অবসাদে ভুগছিস মনে হচ্ছে?
- সবাই তো এখন আমরা সংসার সমুদ্রে ভাসছি। আমি আজ উঠি। আর একদিন এসে জমিয়ে আড্ডা দেওয়া যাবে,কী বলিস।
জ্যোতির সহসা উপলব্ধি "সময়ই শুধু বদলেছে। হারায়নি কিছুই।"

No comments:
Post a Comment