দক্ষিণের চালচিত্র
বেলা দে
সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ বাতাসে পুজো গন্ধি আবহ প্রকৃতিতেই বাদলের ছাপ, কুমোরটুলিতে প্রতিমা গড়ার কাজ চলছে পুরোদমে, মনস্থ করলাম সপরিবারে চেন্নাই যাব, যার পূর্ব নাম ছিল মাদ্রাজ ১৯৫৬ সালে ২৩ শে জানুয়ারি সরকারি ভাষায় আইন পাশ হয়ে মাদ্রাজ নামকরণ হয়েছে। যাই দেখে আসি ও দেশের চালচিত্র সাহিত্য সংস্কৃতি ও ধর্মীয় স্থানগুলি, বাই রোড রওনা হয়েছি ভাড়া গাড়িতে বাগডোগরা এয়ারপোর্ট যাব আসলে সময় বাঁচাতে এই উদ্যোগ উড়ে যাওয়ার ব্যবস্থা। ছুটি হাতে খুব কম দুপুর একটায় পৌছালাম এয়ারপোর্টে তিনটায় রাইট টাইম এনাউন্স হওয়ার পর ফ্লাইটে বসে ঘড়ি দেখি তিনটে বাজে বিমান সেবিকার নিয়মাবলী ঘোষিত হওয়ার পর বিমান আস্তে-ধীরে আকাশে উঠলো, রানওয়ে ছেড়ে।বঙ্গোপসাগর যেন লাল টিপ পড়ে আছে সিঁদুরের তখন সন্ধ্যা ছয়টা। পাখিরাও ফিরে গেছে তাদের নীড়ে Spice jet উড়ে চলেছে অনন্ত শূন্যতায়, সন্ধ্যা সাতটায় সান্ধ্যকালীন খাবার এলো বিমানসেবিকার সযত্নরক্ষিত পেলব হাত দিয়ে। চেন্নাইতে কামরাজ ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দরে উড়ান নামল সাতটা কুড়িতে, ঘোষণা হল আবহাওয়া, ইহাকা তাপমান", সাতাশ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এয়ারপোর্টের বাসে বাইরে এসে দরদাম করে ট্যাক্সি নেওয়া হল, উঠলাম এপেলো হসপিটালের উল্টো দিকে " মডার্ন গেস্ট হাউসে "বেশ আধুনিকতায় সজ্জ্বিত, নীচে নামলে সব হাতের কাছে। জনবহুল জায়গাটায় যেন এক অদ্ভুত শান্তি বিরাজ করছে। রকমারি ফলের জুস খুব সস্তায় বিক্রি হচ্ছে।
পরের দিন রবিবার সকালে ব্রেকফাস্ট করে রওনা হলাম Marina Beach এর উদ্দেশ্যে রাস্তায় পড়ল চিপক স্টেডিয়াম " এবং চেন্নাই ইউনিভার্সিটি। সবগুলো বাইরে থেকে দেখে নিলাম কারণ সেদিন রবিবার সব বন্ধ আমরা ব্যস্ত রাস্তা বাঁচিয়ে সাবওয়ে দিয়ে সরাসরি বিচে পৌঁছালাম বিচের উপর সমস্ত নানা রংবেরঙের ফুলের বাহার সাজিয়ে রাখা, এদিকে দুপুর বারোটা বাজতেই সূর্য যেন মাথায় গলছে, সেই চাঁদিফাটা রোদ্দুরে আর বালির চড়া ভেঙ্গে সমুদ্দুর পর্যন্ত গেলাম না বিকেলে বেরিয়ে সি বিচের মনোরম সৌন্দর্য উপভোগ করেছি, সমুদ্র যেন কত্থক নৃত্য পরিবেশন করে ভ্রমণপিপাসুদের দেখাচ্ছে। পান করছিলাম আকণ্ঠ ঢেউয়ের ছন্দ, উচ্ছল যৌবনা কন্যার নাচের নানা বিভঙ্গ, দেখে সার্থক হয়ে গেল চক্ষুদ্বয়। দর্শনার্থীদের সঙ্গে মাউন্ট রোডের রাস্তা ধরে সমুদ্র বাতাস সঙ্গে করে হাঁটতে শুরু করি।অচেনা পথে হাঁটতে বেশ লাগছিল এই রাস্তাটার উপর নাকি গোটা চেন্নাই শহর দাঁড়িয়ে আছে, স্থানীয় একজনের মুখে শুনলাম , চারদিকে ছড়িয়ে আছে তার ডালপালা, জনারন্যের মধ্যে চলতে চলতে পৌঁছে গেলাম পন্ডি বাজারে, বিরাট বড় বাজার কি নেই সেখানে বাইরে বেরিয়েছি স্বজনের জন্য কিছু কেনাকাটা তো করতেই হবে। কিনলাম অনেক গিফট, নিজেদের এবং আত্মীয়-স্বজনের। পরের দিন গন্তব্য পন্ডিচেরি অরবিন্দ আশ্রম অরভিল। তাড়াতাড়ি ফিরে এলাম লজে।
অ্যাপেলো হসপিটালের সামনেই দাঁড়িয়ে রয়েছে টুরিস্ট বাসটি। গাইড কাম কন্ডাক্টর কি কি সব ওদের ভাষায় বলছে ইন্ডারা, মিন্ডারা, সিংহভাগ বাঙালি টুরিস্ট বুঝতে পারছে না ওদের কথা। ওরা হিন্দিতেও বলছে না এক ভদ্রমহিলা বলেন "পারলে আপনারা ইংলিশে বলুন" পরে সেই কন্ডাকটর ইংলিশ বলতে শুরু করে, আরও বোঝা যায় না তার কথা। যাইহোক পথশোভা দেখতে দেখতে পৌছে গেলাম পন্ডিচেরী আশ্রম। শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে এলো মহান এক সন্ন্যাসীর নিস্তব্ধ সুন্দর সাজানো আশ্রমটি দেখে, তিনি একাধারে সমাজসেবী, স্বাধীনতা সংগ্রামী, দার্শনিক, আধ্যাত্মিক, কি নেই তার স্বভাবে, একমাত্র তার কারণে বন্দে মাতরমের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা, যা কিনা সারা বিশ্বে, দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ৩০ শে জুলাই বন্দে মাতরম পত্রিকা অফিস তল্লাশি চালায় ইংরেজ শাসক। ইংরেজরা তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। অবশেষে তার ৩৫ তম জন্মদিনের আগেই তাকে গ্রেফতার করে ১৫ দিন কারাবাসের পর তিনি মুক্তি পান। লড়াকু সৈনিক লালা লাজপত রায়ের দীপান্তরী হওয়া শেষপর্যন্ত বন্ধ করেন। তিনি বলেন "দেশ শুধু একখণ্ড মাটি নয় আমাদের মা, এই মাকে ভক্তি কর পূজা কর সে পুজার নাম বন্দে মাতরম "। এই বীর সন্ন্যাসীকে জীবনে অজস্র বার কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে হয়েছে, ১৮৭২ সালে ১৫ আগস্ট অরবিন্দ জন্মগ্রহণ করেন পিতা কৃষ্ণধন ঘোষ মাতা স্বর্ণলতা দেবী, শৈশবে তিনি দার্জিলিং লরেটো কনভেন্ট স্কুলে দুই বছর এবং ১৮৭৯ থেকে পাঁচ বছর ম্যানচেস্টারে পরে ছয় বছর লন্ডনে এবং শেষ তিন বছর কেমব্রিজে পড়াশোনা করেন। তিনি অর্জন করেছেন প্রচুর বৈদেশিক ভাষা। কারাবাস করেছেন বন্দেমাতরম, পত্রিকায় লেখা "নেকড়ে তার ডোরাকাটা দাগ অবশেষে ঢাকতে ব্যর্থ হল।" যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক গ্রেফতার হওয়ার পর স্বভাবতই ভীত হয়েছিল বৃটিশ রাজশক্তি। তবু্ও রাজদ্রোহিতার অভিযোগে কারাবরণ করেছেন তিনি, জীবন তাকে শেষপর্যন্ত ধর্মমুখী করে দেয়, আলিপুর বোমা মামলায় এক বছর কারাবাসের সময় নিস্পত্তি করেন ব্যরিস্টার চিত্তরঞ্জন দাস, ততদিনে তিনি ঋষি অরবিন্দতে রূপান্তরিত। ছাড়া পেয়ে তিনি ঐতিহাসিক বক্তৃতা দেন উত্তরপাড়ায়। পুনরায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে ভগিনী নিবেদিতা তাকে ছাড়িয়ে ফরাসি অধিকৃত চন্দন নগর নিয়ে যান, সেখান থেকেই শুরু পন্ডিচেরী যাপন, শান্ত সমাহিত এক যোগী ঋষির দূর দ্রষ্টার মহাজীবন।অরবিন্দ আশ্রমের শান্ত নিবিড় নীরব পরিবেশ, সূচ পড়া শব্দও কান ধরতে পারে, অন্তরের কলুষতাও যেন ধুয়ে মুছে আত্মস্থ করে দেয়, অন্তরে আধ্যাত্ম চেতনায় স্বর্গ ছুঁয়ে যায়। সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে মন চাইছিল না। তবু আসতে তো হবেই সময় বলে কথা। সময় বেঁধে দিয়েছে গাড়িওয়ালা। এমন একজন দেশপ্রেমিক, সুবিদ্বান, আধ্যাত্মিক চেতনসম্পন্ন মানুষের কাছাকাছি হওয়ায় নিজেকে ধন্য মনে হল, আরেকবার তাঁকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে রওনা হলাম।
পন্ডিচেরী আশ্রমে দাঁড়িয়ে এক যোগী সন্যাসীর মুখে এই পর্যন্ত শুনে বেরিয়ে আসার পথে দেখি এক বিরাট গনেশ মন্দির সামনে, প্রনাম করে যেইমাত্র বাইরে আসি সামনে দাঁড়িয়ে একটা হাতি শূড় বাড়িয়ে পয়সা চাইছে, দিলাম আমরা তিনজনে, সে ওই পয়সা নিয়ে তুলে দিচ্ছে তার মাহুত ভাইকে। সেখান থেকে বেরিয়ে দেখি বাইরে অপেক্ষা করছে আমাদের বাহক, উঠে বসি যে যার সীটে এবারের গন্তব্য শ্রীমায়ের মাতৃমন্দির অরভিল। সেখানে ৭টি দেশের ৬০ হাজার মানুষের বসবাস। ভিন্ন ভিন্ন দেশ থেকে তৈরী করেছে সুদৃশ্য কটেজ, কেউ কেউ পাকা বাড়ি, সেখানেই স্থানীয় বাসিন্দা হয়ে গেছে বছরের পর বছর ধরে। শ্রী শ্রী মায়ের তত্বাবধানে বহু বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই মাতৃমন্দির। সোনার পাতে মোড়ানো অনেকটা গ্লোবের আকৃতিতে গড়া। সপ্তাহে দুদিন খোলা থাকে। তবে পর্যটকদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা, সেখানে দেবদেবীর পূজো আরতি নয় ধ্যানই সাধনা। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ঋষি অরবিন্দ কয়েকটি বছর আত্মগোপন করে ছিলেন শ্রী শ্রী মা অর্থাৎ মীরা আলফাসা ১৯৬৫ তে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ইউনোস্কতে এই শহর তৈরীর প্রস্তাব পেশ করেন। অবশেষে ১৯৬৮ তে এর গোড়াপত্তন হয়। অনেক কয়েকটি দেশের জন্মভূমির মাটি সংগ্রহ এবং একত্র করে এটি তৈরী হয়। বর্তমানে ৩০০০ মানুষের বসবাস সেখানে। পরবর্তীকালে মানবধর্মের শহর তৈরী হয় সর্বসন্মতিক্রমে।অরভিল তামিলনাড়ুর ভিল্লুপুরম জেলার কিছু অংশ এবং কেন্দ্রশাসিত পুদুচারির কিছু অংশ, চেন্নাই থেকে দেড়শ কিলোমিটার দূরে এক স্বপ্নের শহর, মাদার বলেন "অরভিল কারো একার নয় সর্বজনের মিলিত এক সাঁকো।" শহর চলে সৌরবিদ্যুতে, থাকা খাওয়ার কোনো খরচ লাগে না। নেই কোনো দেশ জাতি বৈষম্য। মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসা পরম ধর্ম বলে মা বিশ্বাস করতেন। বিশ্বমানবতার প্রতীক অরভিলে অর্থের লেনদেন বা সরকারি ব্যবস্থা নেই, যৌথ তহবিল ও অনুদানের মাধ্যমে চালিত। আধ্যাত্মিক গুরু ঋষি অরবিন্দের নামানুসারে এই শহরের নামকরণ। মাতৃমন্দির অরভিল ধ্যানের জন্য নির্ধারিত। মীরা আলফাসা তাঁর গুর অরবিন্দের স্বপ্ন সার্থক রূপ দিতে এই নগর পত্তন করেন। আরেক অর্থে ফরাসি ভাষায় aurore শব্দের অর্থ ভোর আর ভিল হল নগরী সেই অর্থে "ভোরের শহর"।
সূর্য পশ্চিমে ঘুরেছে গাইড জোরদার তাগাদা দিয়ে চলেছে, ফিরে এসে গাড়িতে উঠি সন্ধ্যা ছয়টা ঘড়িতে, হোটেলে ঢুকেছি রাত দশটায়। পরের দিন ভোর পাঁচটায় উঠে তৈরী হয়ে নিয়েছি সেদিনের যাত্রাপথ অনেকটা দূর বিবেকানন্দের অমূল্য স্মৃতি ধন্য কন্যাকুমারী। চেন্নাই ট্রান্সপোর্ট থেকে ট্রাভেলস বাসে রওনা হলাম বারো ঘন্টার পথ। বেশ আরামদায়ক বাস, দুপুরে কিছুই খাওয়া হল না সে পথে কোনোরকম খাবার চোখে পড়ে নি, ব্যাগে থাকা ফ্রাস্টফুড যা ছিল সেটা খেয়ে দুপুর কেটে গেল। রাত দশটায় মাদুরাই বাস স্টপে এসে গাড়ি জানালো বাস খারাপ আর যেতে পারবে না, যাত্রীরা সবাই নাজেহাল কে কোথায় যাবে অত রাতে। খাবারই বা কোথা থেকে জোটাবে, রাতে আর বাস নেই। ছোটমত একটা হোটেল পেয়ে গেলাম আমরা। রাতে পরস্পর আলোচনা করে নিলাম একবার ভাগ্য যখন আমাদের এখানে নিয়ে এসেছে একবার মীনাক্ষী দেবী দর্শন করেই যাব। সেখানে বিভিন্ন মূল্যের লাইন, বেশি মূল্যের লাইনে দাঁড়ালে খুব দ্রুত দেবীদর্শন ও পুজোর ব্যবস্থা সে ক্ষেত্রে মূল্যবান লাইনে দাঁড়িয়ে পূজো দিতে হল কারণ সময় খুব কম পরের দিন আমাদের ফ্লাইটের টিকিট কাটা আছে। সক্কাল সক্কাল পূজো দিয়ে মায়ের পায়ের স্নিগ্ধ শান্তির পরশ নিয়ে রওনা হয়ে গেলাম কন্যাকুমারী স্বামী বিবেকানন্দের সিদ্ধপীঠে। নেমে চলেছে গাড়ি পুণ্যাত্মা বিবেকানন্দের সৃষ্টির কাছে, সেখানে সূর্যের উত্তাপ যেমন মাত্রাতিরিক্ত তেমনি ফুরফুরে অনাবিল হাসি বাতাসের। কন্যাকুমারী নামটি এসেছে হিন্দু দেবী কন্যাকুমারীর নামে স্থানীয় নাম "কুমারী আম্মান"। আরব সাগর, ভারত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগর পরস্পর মিলিত হয়েছে সেখানেই দেবী কুমারীর মন্দির। ত্রিসাগরের মিলনস্থলে স্নান সেরে এবার ওপারে যাব স্বামীজির কাছাকাছি, লাইফ জ্যাকেট পড়ে নিয়েছি, এবার ডাক এলো যাবার। কিছুক্ষণের মধ্যে পৌঁছে গেলাম তাঁর কাছে ",,বিবেকানন্দ রক মেমোরিয়াল " যার স্থাপনকাল ১৮৯২ সালের ডিসেম্বর। এই শিলাখন্ডের কাছে বসে সুদীর্ঘ সময় ধ্যান করেছেন তিনি। গান্ধীজির চিতাভষ্মও সেখানে রাখা ছিল। বিবেকানন্দের রক মেমোরিয়াল ১৯৭০ সালে নির্মিত এবং স্বামী বিবেকানন্দকে উৎসর্গীকৃত। উত্তাল সমুদ্র সাঁতরে পেরিয়ে চলেছে তাঁর সাধনা, সাধন ক্ষেত্রে ওঁ এই ব্রক্ষ্ম শব্দ উচ্চারণে শিউরে উঠছিল সমস্ত শরীর, সুতীব্র গভীর এক অনুভূতি। সে মহান মনীষীর উদ্দেশ্যে আরেকবার প্রনাম জানিয়ে রওনা হলাম চেন্নাই শহরের দিকে, পরের দিন আমাদের ফ্লাইট, সুতরাং সাত তাড়াতাড়ি বিছানা নিলাম। ঘোরাঘুরি অর্থাৎ টই টই এবার শেষ এখন বাড়ি ফিরে যাবার পালা। পরের দিন ল্যাগেজ গুছিয়ে সোজা এয়ারপোর্টে, বাগডোগরায় নেমে ভাড়া গাড়ি একটা নিয়ে আমার জলপাইগুড়ি শহরে আবার।
ভ্রমণের আনন্দ পরিজনদের সাথে ভাগ করে নেওয়ার জন্য পেট ভুটভুট করছে, খালি করতে হবে এবার।।

No comments:
Post a Comment