Thursday, July 2, 2026


 

অন্ধকার এবং শুভ্রা 
তুহিন শুভ্র ভট্টাচার্য্য 

জানালারটার দিকে চেয়ে দাঁড়িয়ে আছে শুভ্রা। ঘরের বাইরে অন্ধকারে আষাঢ় মেঘে বৃষ্টি ঝরছে আর ঘরের ভেতরে অন্ধকার নিবিড় ভাবে জমে আছে।যখন তখন ঝরে পড়বে কান্না হয়ে।সেই বিষাদঘন অন্ধকারে শুভ্রা উদাস মনে গুনগুন করে উঠলো, ‘আকাশ কাঁদে হতাশসম,নাই যে...’ কথা গুলিয়ে,চোখ ভারী হয়ে এলো শুভ্রার। গান আর বেড়ালো না, বেড়িয়ে এলো চোখ গড়িয়ে একরাশ হতাশা আর অন্ধকার।
শুভ্রার বয়স আঠাশ পেরিয়ে পালাচ্ছে। প্রেম,সে তো এলোই না।শরীরে অন্ধকার জমে জমে এমন ক্ষত করে দিয়েছে, বিয়ের সম্বন্ধগুলো বারবার প্রত্যাখ্যান করছে। আর চাকরি-বাকরি, সেখানেও প্রত্যাখ্যান।শেষ ইন্টারভিউয়ে ডেমোটা এমন ভাবে ছড়িয়ে এসেছে শুভ্রা,সেই আফশোষ তাকে চেপে ধরছে বারবার।
বাবা-মা পাশে দাঁড়ায়, এগিয়ে যাওয়ার কথা বলে।অথবা এই মেয়েকে টানতেই হবে, ভেবে নিয়তির হাতে ছেড়ে দিয়েছে সব। প্রতিবেশীদের ফিসফিস আর কানে নেয় না শুভ্রা। শুধু সব দুঃখ-প্রত্যাখ্যান-না পাওয়া গুলো,অন্ধকার হয়ে জমে থাকে ওর ঘরটায়। আর সেই অন্ধকার-অবসাদ গায়ে জড়িয়ে,রক্তশূন্যতায় ভোগা সাদাটে মেয়েটা দিনযাপন করে।ওর ‘শুভ্রা’ নাম থেকে যেন সব শুভ্রতা গুলোই পালিয়ে যাচ্ছে। 
তবে আজ শুভ্রা নিজেও পালাবে বলে ঠিক করেছে। তাই তো সিলিং ফ্যানটায় কাঁথাস্টিচের ওড়নাটা ঝুলিয়েছে। জানালা থেকে এবার সেদিকে এগোবে শুভ্রা।জমে থাকা সব অন্ধকার থেকে আজ সে মুক্ত হবে, কাঁথাস্টিচের ওড়নাটার ফাঁসে।
হঠাৎ অন্য ঘর থেকে ভেসে এলো একটা ডাক,‘শুভ্রা...?’ মায়ের ডাক।শুভ্রার আর কাঁথার ওড়নাটায় গলা দেওয়া হলো না, খুলে ফেললো সেটা‌।ওই যে আগে বলা হয়েছিল,মা-বাবা পাশে দাঁড়ায়। শুভ্রার মনে পড়ে যায়, ছোটবেলায় মা বলতো, ‘শুভ্রা আমার শুভ্রতা ছড়ায়, শান্তি ছড়ায়,সব কালো,সব অন্ধকার দূর করে দেয়।’ এই দুটো মানুষ তো ওর দিকেই চেয়ে আছে,ওদের অন্ধকারে ফেলে কিভাবে পালাবে শুভ্রা!
চোখ মুছে অন্ধকার ঘর থেকে বেরিয়ে যায় শুভ্রা, সব অন্ধকার সয়ে নিয়ে একদিন সত্যিই হয়তো আলোর স্ফটিক হয়ে শুভ্রতা ছড়াবে সেই আশায়।

No comments:

Post a Comment