রাণীর কাছাকাছি
অর্পিতা মুখার্জী চক্রবর্তী
প্রতিবছর জুন মাসের এক টুকরো অবকাশের মরসুমে বাড়ির বাইরে থাকা ছেলেমেয়ে যখন ঘরে ফেরে, বাবা- মায়েদের কোথায় বেড়াতে নিয়ে যাবে তা নিয়ে ওদের উৎসাহ, উদ্দীপনা থাকে তুঙ্গে। আসবার আগে থেকেই নানান পরিকল্পনা চলে ফোনে, মেসেজে। তবে ঋতু যেহেতু বর্ষা, তাই শখ পূরণে বাদ সাধে অনেক কিছুই। তাই এবারের গন্তব্য একরকম স্থির হয়েও আবার জায়গা বদলাতে হলো শুধুমাত্র বর্ষার রমরমাকে মনে রেখে। সিকিমের কোনো এক অফবিট ডেস্টিনেশনকে আপাতত মুলতুবি রেখে সর্বসম্মতিক্রমে নেপালের কন্যম যাওয়ার কথা স্থির হলো।
খুব সকাল সকাল বেরিয়ে পড়লাম আমরা শিলিগুড়ির পথ ধরে। কখনো হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি আবার কখনো রোদের আভাসকে সঙ্গে করে বাগডোগরা হয়ে আমাদের যাত্রা জারি রইলো। যাবার পথেই খানিক বিরতি নিয়ে প্রাতরাশ সেরে নিলাম। দেখা হলো মেচি নদীর সঙ্গে। এরপর চেকিং, পারমিট সবকিছুর আনুষ্ঠানিকতার শেষে নেপালের সীমান্ত ধরে গাড়ি এগিয়ে চলল কন্যমের পথে।
হাতের এতটাই কাছে অথচ ভৌগলিক সীমারেখা অনুযায়ী অন্য একটি দেশে প্রবেশ করেছি ভাবতেই কেমন রোমাঞ্চ হচ্ছিল। ভারতের সীমারেখা পার করতেই পথের দুধারের দৃশ্যগুলো বদলে যাচ্ছিল খুব দ্রুত। বাড়িঘর গুলো কেমন আলাদা রকম দেখতে হয়ে যায় জায়গা ভেদে সর্বত্রই। এখানেও তার পার্থক্য ছিল না। দুপাশের বাড়িঘর, গাছগাছালি, বাজারহাট, দোকানপাট, স্থানীয় মানুষ সবকিছুকে প্রত্যক্ষ করতে করতে অনেকটা সমতল পথ এগিয়ে চলেছিল গন্তব্যের দিকে।
দূরে গাছপালার ফাঁক দিয়ে উঁকি দেওয়া পাহাড় একসময় হাতের নাগালে চলে এলো। শুরু হলো পাকদন্ডী পথ। দুপাশের দৃশ্য এত চমৎকার যে ভাষা কম পড়ে প্রকাশের জন্য। প্রকৃতি নিজেকে ঢেলে সাজিয়েছে সবটুকু লাবণ্য জড়ো করে। পাহাড় ছুঁয়ে গাড়ি এগিয়ে চলেছে পাশের মনোমুগ্ধকর শোভাকে মুঠোবন্দী করে। আবাসগৃহ গুলি তাদের রংবাহারি ফুলের বাগান গুলি নিয়ে যেন একেকটি সুন্দর স্বপ্ন। বেশিরভাগ বাড়ির সামনে দোকানঘর। গৃহপালিত পশু পাখিরা আনন্দে বিচরণ করছে বাড়ির গা ঘেঁষে। ঘোরানো পাহাড়ি পথ কোনো অস্বস্তি সৃষ্টি করে না শরীরে। ফুরফুরে মনের সঙ্গে সঙ্গে চনমনে সুস্থ শরীর নিয়েই অতিক্রম করা যায় অনায়াসেই এই সুন্দর গন্তব্যকে। একসময় ড্রাইভার দাদা দূরে অঙুলি নির্দেশ করে বললেন "ওই যে মেঘে ঢাকা জায়গাটা দেখছেন, এরপর আমাদের গাড়ি সেখান দিয়ে যাবে।"
সে এক আশ্চর্য অভিজ্ঞতা। সামনে সবটাই ঘোলাটে। গাড়ির জানালার কাচ ঘেঁষে মেঘের সারি। সেগুলো ভেদ করে গাড়ি এগিয়ে চলেছে তার লক্ষ্যে। ওয়াইপার কাজ করে চলেছে নিজের মতো। আবার হঠাৎ মেঘ সরে গিয়ে দৃশ্যমান হচ্ছে মনোরম এক দিন। আবার মেঘ এসে মস্করা করে একসঙ্গে মাথা ঢেকে নিচ্ছে গুটিসুটি পায়ে। এরপর খানিকক্ষণ চলল বৃষ্টির রিমঝিম বোল। পাহাড়ি পথে সেও এক অনন্য ভালোলাগা।
হোটেলে পৌঁছে ফ্রেশ হয়ে হোটেলের দোতলায় রেস্টুরেন্টে চলে এলাম সবাই দুপুরের খাবার সেরে নিতে। সেখানকার সাজানো গোছানো সুন্দর পরিবেশ মন কেড়ে নিল নিমেষেই। কিছুক্ষণের মধ্যেই বুঝতে পারলাম হোটেল ও সংলগ্ন রেস্টুরেন্টটির দায়িত্বে রয়েছে বেশ কয়েকজন তরুণী। তাদের অমায়িক মিষ্টি সৌজন্য, আন্তরিক আতিথেয়তা, সহবত, দায়িত্ববোধ, নিপুণ ভাবে খাবার পরিবেশন কোনোটাই ভুলবার নয়। একেকদিনের ব্যস্ত সময়সূচীর তালিকায় সকাল ছটা থেকে রাত নটা পর্যন্ত ডিউটি করেও তাদের মুখের হাসিটি কোন জাদুমন্ত্রে অম্লান থাকে, কন্যমের কন্যারাই জানে সেটা।
আমরা নেপালী থালি নিয়েছিলাম দুপুরের পাতে। সঙ্গে যে যার মতো পছন্দের আমিষ ডিশ। লেবুর মিষ্টি গন্ধে মৈত মন মাতিয়ে দিয়েছিল পানীয়র বিভাগে। হালকা বৃষ্টিকে সঙ্গে করে বেরিয়ে পড়েছিলাম আশপাশের জায়গাগুলো ঘুরে দেখতে। নেপালের রাণীর মুখভার ছিল সেই বেলা। বিকেলের সঙ্গে অমিমাংসিত কোনো এক বিবাদের জেরে মেঘলা মুখে অভিমানে আবছায়া হয়ে ধরা দিয়েও দিল না সেদিন কন্যম। একটানা বৃষ্টির মধ্যেই ঢেউ খেলানো চা- বাগান আর পাইনবনকে কখনো হালকা দৃশ্যমান আবার কখনো পুরো অদৃশ্য করে রেখেছিল প্রকৃতি। বিকেলের একফালি আলো রাণীর মানভঞ্জনের ব্যর্থ চেষ্টা করে আবার মেঘের আড়ালে অদৃশ্য হয়েছিল। মুঠোফোন ও ক্যামেরা বন্দী করছিল সব মুহূর্তদেরই।
ফিক্কাল বাজারে এসে এরপর গাড়ি থামল আমাদের। এই বাজারটি ইলাম শহরের একটি উল্লেখযোগ্য ও ব্যস্ততম বাণিজ্যকেন্দ্র। এখানকার স্থানীয় চা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। কাছেই নানান রঙের ঘোড়াদের একটি আখড়া। সহিসরা নানান কায়দায় সেগুলিকে চালিয়ে পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন অনবরত। অনেকেই সওয়ার হচ্ছেন তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে। রাজকীয় চালে ঘোড়াদের এগিয়ে চলার সে দৃশ্য অত্যন্ত মনোগ্রাহী। বিস্তৃত জায়গাটি মেঘলা বিকেলের আলো গায়ে মেখে মায়াবী পোশাকে গা ঢাকা দিয়েছে। সামান্য একটু দূরের দৃশ্য মুহূর্তে উধাও হয়ে যাচ্ছে কোন জাদুকাঠির ছোঁয়ায়। আবার পরক্ষণেই মেঘ আংশিক কেটে গিয়ে কিছুটা দৃশ্যমান করছে তাকে। অতিরিক্ত ঠাণ্ডা না থাকলেও হালকা এক শৈত্যপ্রবাহ থাকায় সকলের গায়েই কম বেশি শীতের পোশাক। কুয়াশা পেরিয়ে এগিয়ে আসা গাড়ির হেডলাইট রহস্য সিরিজের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল নিঝুম সেই সন্ধেবেলা।
অদ্ভুত এক নির্জনতা চারিদিকে। এত লোকের মাঝেও, এত পথচারী, স্থানীয় মানুষজন, টুরিস্ট সকলের মাঝেও কন্যম কেমন একান্তই নিজের মতো নিজের। নির্দিষ্ট এক ঘেরাটোপে বন্দী সে। সকলের মাঝে থেকেও নিজের আবর্তে নিজের মতো করে নিজের ধ্যানে মগ্ন।
খুব সুন্দর একটি ক্যাফেতে গিয়ে কফি আর স্ন্যাক্স খেলাম আমরা সবাই মিলে। ফেরার পথে আবারও কিছু দৃশ্যের সঙ্গে নিজেদের মেলে ধরে ক্যামেরায় বন্দী করে রাখার পালা চলল কিছুক্ষণ। পথে লোকজন কমে আসছিল ক্রমশ। আমরাও হোটেল মুখী হলাম। হোটেলের মন ভালো করা আতিথেয়তায় রাতের খাবার পাটও খুব সুন্দর করে মিটল। সবাই সবার ঘরে গিয়ে গল্পগাছা ও শেষ রাতে মেসির দুর্দান্ত খেলা দেখে ঘুমোতে গেলাম সবাই যে যার মতো।
ভোর পাঁচটা থেকে ঘর সংলগ্ন ব্যালকনিতে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলাম সূর্যোদয় দেখার আশায়। বৃষ্টি না থাকলেও আকাশের গায়ে আবারও গল্প লিখছিল একটি মেঘলা দিন। সামান্য দূরের সবকিছু ছিল পুরো ঝাপসা। মন এবার সত্যিকারের খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। কারণ মেয়ে বলেছিল আবহাওয়া সহায় থাকলে ওই ব্যালকনি থেকে সূর্যোদয় তো দেখা যাবেই সঙ্গে আলোর মুকুট মাথায় পাহাড়ের শোভা থেকে যাবে উপরি পাওনা হয়ে। এর কোনোটাই হবার নয় মনে হচ্ছিল সেই মেঘলা সকালের দিকে চেয়ে। কন্যমের কাছেই প্রার্থনা জারি ছিল তার নিজস্ব সুন্দর রূপটিকে দেখবার সামান্যতম সুযোগ করে দেওয়ার।
ইতিমধ্যেই একটু একটু করে সাড়া জাগছিল সামনের পথে, উল্টোদিকের বাসগৃহ গুলিতে। তবুও আলোর দেখা মিলছিল না। অন্যমনস্ক হয়ে পড়তে পড়তে হঠাৎ দেখেছিলাম আকাশের গায়ে রাংতার মোড়ক যেন। গা চিরে বেরিয়ে আসছে আলোর দ্যুতি। একটু আগের ঝাপসা ঘরবাড়ি, গাছপালা, মানুষজন সব দারুণ উজ্জ্বল, প্রাণময় সেই আলোর ছটায়। দূরের পাহাড় এক লহমায় মেঘের চাদর ঝেড়ে ফেলে দিয়ে প্রথম আলোর বর্ণমালায় লিখছে বিজয়ের নাম।
মন ভালো করা এই আলোর সকালের সদ্ব্যবহার করতে তড়িঘড়ি আমরা রওনা হয়েছিলাম ভিউ পয়েন্টের উদ্দেশ্যে। খামখেয়ালি রাণীর মনে কী আছে কে জানে! আবার কখন গোসাঘরে খিল দেবে সে! অনির্বচনীয় সৌন্দর্যের সাক্ষী করেছিল সে সকাল দিগন্ত বিস্তৃত গালিচার মতো উজ্জ্বল সবুজ চা বাগান আর পাইন বনের মনোরম আবেশে। ভিউ পয়েন্টের অতখানি সিঁড়ি ধরে উঠেও বেশ ফুরফুরে লাগছিল প্রকৃতির অমৃত ছোঁয়ায়। অনেকটা সময় সেখানে কাটিয়ে হোটেলে ফিরে স্নান, জলখাবার সেরে রিসেপশনে সেখানকার কর্মী মেয়ে গুলির সঙ্গে কিছুটা সময় একসাথে থেকে বেরিয়ে পড়লাম বুদ্ধ পার্কের উদ্দেশ্যে।
যাওয়ার রাস্তাটি ছিল অত্যন্ত সুন্দর। এখানে আসা ইস্তক কত যে রংবেরঙের ফুল দেখেছি ঠিক নেই। এই পথে বাড়িগুলি যেন আরও সুদৃশ্য আর তাদের ফুলের বাগান যেন আরও মনোরম। কখনো রোদ কখনো মেঘের স্তর পার করে একসময় নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছলাম আমরা।
গাড়ি থেকে নামতেই একদিকে সবুজ গালিচার ওপর ছবির মতো পাইন বন দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। ওপরে তাকাতেই ঝলমলে বুদ্ধ মূর্তি মন কেড়ে নিল সকলের। হাওয়ায় উড়ছিল সাদা বৌদ্ধ পতাকা গুলি শান্তির বাণী হয়ে। কাছেই সুদৃশ্য ঝকঝকে সবুজ ঘাসে চড়ে বেড়াচ্ছিল একটি ঘোড়া। সিঁড়ি বেয়ে ওঠা পথটি হাতছানি দিচ্ছিল কাছে যাবার জন্য। হঠাৎ দেখি কেউ কোত্থাও নেই। একটু আগের সে দেখা তবে কি চোখের ভ্রম! সাদা এক সিফন শাড়ির মতো মেঘ এসে ঢেকে দিয়েছে যাবতীয়। বেট ফেলে কেউ বলতেই পারে যেন, এখানে কিচ্ছু ছিল না তো! এতবড় পাইনবনকে চুরি করে, বুদ্ধ মূর্তিকে আড়াল করে মেঘ তখন কারসাজি করছে নিজের মতো করে। একটু পরেই আবার টুংটাং ঘন্টি গলায় ঘোড়া মাটি ফুঁড়ে জেগে উঠল। বেরিয়ে পড়ল পাইনবন মেঘের চোরা থলের ভেতর থেকে। মেঘস্নান সেরে মূর্ত তখন বুদ্ধমূর্তিও। চললাম সামনে থেকে সবকিছুকে দেখে শুনে মোবাইলের ক্যামেরা বন্দী করতে।
অপরূপ সেই বুদ্ধমূর্তি মোহিত করে মনকে। সেদিকে তাকিয়েই কাটিয়ে দেওয়া যায় অনেকটা সময়। মাঝখানে বিস্তৃত জায়গাটির একদিকে বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রার্থনার চক্রটি। আর একদিকে কিছু খাবারের দোকান, ছবি তোলার প্রেক্ষাপট,সুন্দর একটি ব্রিজ। ব্রিজ পেরোলে চা বাগান, পাইন বনের মেলবন্ধনে মনোমুগ্ধকর একটি জায়গা সিঁড়ির ধাপে ধাপে একরাশ সৌন্দর্য নিয়ে বসত করছে। ঘুরতে আসা মানুষজন সেই সময়টুকুকেই পুরোপুরি উপভোগ করে নিতে চাইছেন মনপ্রাণ ভরে। যে যার মতো ছবি তুলে ধরে রাখছেন সেই সুন্দর পরিবেশকে, নিজেকে, নিজের প্রিয় মানুষকে। ছোট্ট এক মিষ্টি ছেলে আর এক কথা বলা পাখির সঙ্গে দেখা হয়েছিল এই বুদ্ধ পার্কেই।
নীচে নেমে দুপুরের খাওয়া সেরে রওনা হয়েছিলাম আবার পরবর্তী গন্তব্যে। 'কন্যম' কথাটি লেখা একটি ভিউ পয়েন্টে এসে স্তব্ধ হয়ে গেছিলাম নয়নাভিরাম প্রকৃতির রূপলাবণ্যকে সামনে থেকে ছুঁয়ে। চা বাগান যে কত সুন্দর হতে পারে, সাজানো হতে পারে নিজের চোখে এখানে এসে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। পাইন গাছগুলো তালে তাল মিলিয়ে সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছে যেন। কন্যম নিজেও দিশেহারা কাকে সেরার শিরোপা দেবে। শুধু চেয়ে থাকা আর চেয়ে থাকা। আলোর আস্কারা সঙ্গে ছিল সেই মেঘ কেটে যাবার পর থেকেই। সেজন্যই আরও সুন্দর করে পাওয়া হলো সারাটি দিনের কন্যমকে।
তবে রাণীর মেজাজ বোঝা ভার। আবার কখন খামখেয়ালি মেঘের ওড়নায় গা ঢাকা দিয়েছেন তিনি বুঝতেও পারিনি। তাই স্কাই ওয়াক আর হলো না নির্দিষ্ট জায়গাটিতে পৌঁছেও। বেলা পড়ে আসায় অধরা রয়ে গেল সুন্দর একটি লেকের সঙ্গে দেখা। পাহাড়ি চড়াই উৎরাই বেয়ে শ্রান্তও তখন সবাই। ঘরের পথে রওনা হলো গাড়ি। সঙ্গে সঙ্গে চলল সবাই মিলে সুন্দর করে কাটানো বেশ কিছুটা সময়, সুন্দর কিছু অভিজ্ঞতা, প্রকৃতির থেকে পাওয়া অসামান্য কিছু উপলব্ধি আর সবচেয়ে বড় যা পেয়েছি তা হলো আশ্চর্য এক প্রশান্তি।
খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া ছোট্ট এই সফর জীবনের খুব দামি একটি কথা শিখিয়ে গেল। চোখের সামনে না থাকলেও, হঠাৎ মিলিয়ে গেলেও অস্তিত্বে ঠিকই রয়ে যায় যা একসময় ভীষণরকম দৃশ্যমান ছিল, কাছের ছিল। বন্ধ চোখের পাতা খুললে কোনো এক রূপকথার মতো হঠাৎ করে আবারও মূর্ত হতে পারে সে সবটুকু ভালোলাগা নিয়ে। সেই আলোর আশা নিয়েই তো পথচলা। পথ চাওয়া আবার কবে চোখ খুললেই স্বপ্ন সত্যি হবার মতো করে দূরে থাকা ছেলেমেয়েদের ঘরের দরজায় দেখতে পাব। কন্যমের সেই ঘোড়ার গলার ঘন্টির মতো টুংটাং খুশির জলতরঙ্গ তুলবে যারা আমাদের ছোট হয়ে আসতে থাকা নির্জন জীবনের বাঁকে বাঁকে।







No comments:
Post a Comment