ফ্রড
Saturday, April 4, 2026
বর্ষ শেষ? নাকি শুরু নতুন দিন?
কবিতা (প্রথম পর্যায়)
তবুও কোথাও একটা
পুরোনো ঢাকের শব্দ বাজে,
মনের ভেতর লাল-সাদা একটা সকাল
নীরবে জেগে ওঠে।
শহরের ভিড়ে,
ক্যাফের কোণে,
অথবা ব্যস্ত অফিসের ডেস্কে—
খুঁজি একটুখানি পয়লা বৈশাখ,
এক চিলতে শিউলি গন্ধ,
এক কাপ মিষ্টি চা আর নতুন শুরুর সাহস।
তারপর, সব কিছু অভ্যাস হয়ে যায়।
প্রহসন
সূচিপত্রের সূচনা
কেতকী বসু
তোমার আসার দিন সংখ্যা গুনে রাখা হয়নি
ভোরের আলোর সাথে ভাব করে বলা হয়নি ভালোবাসার কথা
একটা দুটো বকুল ফুল তুলে মালা গাঁথার সময়
মনে পড়েনি তোমাকে
অযাচিত ভোরে দরজায় আবির ছড়িয়ে
বলা হয়নি ভালোবাসার কথা
এতদিন পরে
ভিজে চোখে কুয়াশা মেখে জড়িয়ে নিয়েছি যে ঠান্ডা বাতাস
সেখানে চাদরের সুখ পেতে গায়ে নিয়েছি
ওম সুখ
ভোরের আলোর ছায়া দেখে পার করেছি অনেক আলপথ
রোদ বাড়ার সাথে সাথে খুঁজে নিয়েছি বিশ্রামের আশ্রয়
তবু মনে হয়নি শান্ত হাত, শান্ত শরীরের স্পর্শ
সাথে একটু গলা ভেজানো জলের অপকারিতা
আর কিছু পাওয়ার জন্য হতাশ হয়ে চরণ ভিক্ষা করিনি
ভেঙেছি গড়েছি আবার নিজের মত করে
চলতে শুরু করেছি।
বিশ্বাসে বলি তাই
অলকানন্দা দে
বৈশাখ এক তীর্থের শুভ নাম
সঞ্জীবনী সুধার মতো বেলা
মনের স্বাস্থ্য মনোরমে চলো যাই
প্রিয় মাটিতে বসেছে রবীন্দ্র মেলা।
রাজকীয় সুর বাতাস পাগল করে
অভিমানী ফুল বৈশাখে ফুটে ধন্য
অবলম্বন তোলপাড়ে শুধু বলে
সব অনুভূতি বৈশাখটার জন্য!
দাবদাহের মাঝেই বিরাজ করে
শিশির-সিক্ত মনের উঠোনখানি
কবিকে বলে তোমার মতো সত্য
বসুন্ধরায় নেই আর কেউ জানি!
অমোচনীয় কালিতে লেখা নাম
মরমী সাধক শোনান অভয়কথা
বুকের মধ্যে ফুটে ওঠে সাত তারা
শোভা পায় চাঁদ, জ্যোৎস্না খরস্রোতা।
ধন্য হতে আর কি লাগে বলো!
পাতায় পাতায় সেই কথা কানাকানি
শালবন তাই গৌরবী হতে মরিয়া
সোনাঝুরি বন শোনায় নিজ কাহিনি।
নিরবধি এত আবেগের স্রোতধারা
আর কারো তরে বয় না তো কলরবে
রবীন্দ্রনাথ! কি যেন জপের নাম
জপে যেতে হয় সম্ভব অসম্ভবে।
নব সূর্যোদয়
সভ্যতার মূল্যবোধ
বর্ষ শেষ? নাকি শুরু নতুন দিন?
অণু গল্প
আজ নির্মলা মেয়ের সাথে তাঁর নতুন বাড়িতে এল। তাঁর নিজের বাড়ি। মেয়ে আত্মজার দৌলতে অবশেষে নিজের একটা ঘর পেলো জীবনের এই গোধূলি বেলায়। এই আনন্দ সে রাখবে কোথায় বুঝে পায় না। একটা ঘরের জন্য একসময় কম আকুল তো হয়নি সে। ভালোবাসার মানুষটির হাত ধরে সেই কবে তাঁর পুরুলিয়ার ঘর ছেড়েছিল, সেও নিজের একটা ঘর বাঁধবার আশায়। তখন কি ভেবেছিল সেই ভালোবাসার মানুষটিই শুধুমাত্র কিছু অর্থের লোভে তাঁকে এই পাঁকে ঠেলে দেবে .....কেনো যে মানুষ চিনতে ভুল করেছিল, আজও আত্মদগ্ধ হয় সে। বিগত পঁচিশ বছরের দমবন্ধ করা প্রতিটা রাত আর হতাশায় ভরা প্রতিটা দিন তাঁর কেটেছে লখনৌ-এর এই পতিতাপল্লীতে। গুমোট দরজার অন্দরে একটু ঠান্ডা বাতাস বয়ে আসতো আত্মজার 'মা' ডাকে। চারদেওয়ালের জমাট অন্ধকারে আশার আলোর রেখা উদ্ভাসিত হতো যখন দুদিকে বিনুনি দুলিয়ে আত্মজা স্কুল থেকে ফিরে এসে সারাদিনের গল্প শোনাতো। সেই ভালোবাসার মানুষটি জানেনি সে স্ত্রীর সাথে সন্তানকেও বিক্রি করেছিল। এই পতিতাপল্লীতে আসবার দিন কয়েক পরেই নির্মলা বুঝতে পেরেছিল সে সন্তানসম্ভবা। সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে গিয়েও নির্মলা তাঁর আত্মজাকে রক্ষা করেছে। আত্মজা ছোটবেলা থেকেই খুব সংবেদনশীল। মাকে কোনোদিন এমন কোনো প্রশ্ন করেনি যাতে মা কষ্ট পায়। মায়ের একটা নিজের বাড়ির ইচ্ছে, সেই ইচ্ছেকেই নিজের লক্ষ্য তৈরী করে এগিয়ে গেছে আত্মজা। এখন সে একজন রেভেনিউ অফিসার। চাকরি পেয়ে প্রথমেই লোন নিয়ে বাড়ি তৈরী করেছে আত্মজা, তাঁর নতুন বাড়ির আজ গৃহপ্রবেশ, বাড়ির নাম 'নির্মলা ভবন'।
গোপন কথা
মনোরঞ্জন ঘোষাল
সন্ধ্যার পর পুবের বাগানে যাওয়া বারণ। সেদিন রাতে শুনি জটলার শব্দ। টর্চটা নিয়ে যেতেই দেখি কিচ্ছু নেই। নিভিয়ে দিতেই সবাই হাজির। কানে এলো তাদের জটলার কারণ।
ওদের গোসা হয়েছে, আগেই তো পুড়িয়ে, গোরে দিয়ে দেহটা বাতিল করেছে, এবার যা-ও এক-দু’জনের নাম কাগজে লেখা ছিল তাও বাদ দিচ্ছে! ভারী অন্যায়।
শুনলাম ওরা বড় আন্দোলনে নামবে।
বর্ষ শেষ? নাকি শুরু নতুন দিন?
বেড়ানো
বসন্ত দুপুরে বড়দীঘি টি এসেস্টে
জয়িতা সরকার
সাজসজ্জার প্রতিটি কোণে ঔপনিবেশিকতার পাশাপাশি দেশীয় ঐতিহ্যের মেলবন্ধন চোখে পড়বে, এমনই একটি বাংলোর উদ্দেশ্যে আমাদের ঝটিকা সফর। গরুমারার জঙ্গলের ফাগুন হাওয়া গায়ে মাখিয়ে বেশ বেলার দিকে পৌঁছলাম বড়দীঘি চা বাগানের টি বাংলোতে। চা বাগানের মাঝবরাবর মাটির রাস্তা দিয়ে বেশ খানিকটা পথ যেতেই সাদা বাংলোটি প্রাচীণতার কথা মনে করিয়ে দেয়। ১৮৯১ সালে তৈরি হওয়া বড়দীঘি এসেস্ট এবং পরবর্তীতে তৈরি টি-বাংলো বর্তমানে টি-ট্যুরিজমের অন্যতম। প্রবেশপথের দু'পাশে গাছের সারি, আর বাহারি বোগেনভিলিয়ারা আপনাকে সযত্নে আপন করে নেবে। বসন্তবেলায় পুরো বাংলো জুড়ে ফুলেদের আনাগোনা। মরসুমি ফুল - পাতাবাহার - বড় গাছেদের সহাবস্থানে বাংলোর সৌন্দর্যে অনুঘটকের কাজ করেছে তা বলাই বাহুল্য। বাংলো জুড়ে অ্যান্টিকের সম্ভার, গাড়ি থেকে টেলিফোন, ক্যামেরা থেকে শো-পিজ, সবকিছুতেই যেন একটা আভিজাত্যের ছোঁয়া। দ্বিতল বাংলোর ওপরের অংশে রয়েছে রাত্রিবাসের সুবিধে। নির্জনতা ঘিরে থাকা এই চা- বাংলো অবশ্যই একরাতের সেরা ঠিকানা হয়ে উঠতে পারে।
বাংলোতে প্রবেশ করতেই নীচতলায় থাকা বিরাট বারান্দা মন কাড়বে সহজেই, প্রতিটি কোণার সাজসজ্জায় যে আলাদা করে নজরদারি আছে তা সুস্পষ্ট। আধুনিকতার মিশেল রয়েছে তা বোঝা যায় সুইমিংপুলের দিকে তাকালেই। আমরা খানিকটা সময় সেখানে কাটিয়ে ফিরে এলাম বারান্দায়, আড্ডা গল্পে জমজমাট দুপুর। দায়িত্বে থাকা কর্মীরা আগেই খাবারের অর্ডার নিয়ে গিয়েছিল, লাঞ্চ এলো বেশ অনেকটা সময় পর। নিজেদের পছন্দ মত খাবার খেয়ে আমরা আবার আড্ডা জমালাম সামনের ফুলঘেরা বাগানে। বিকেল হতেই বাড়ি ফেরার তাড়া, বড়দীঘি টি-বাংলোর পেছনে সবুজ চা গালিচায় পড়ন্ত বিকেলের সূর্য, পাখিদের ঘরে ফেরার গান, আমরা বাংলোকে পেছনে ফেলে গেটের দিকে এগোতেই পথ আটকালো ময়ূর, রাস্তা পারাপার করছে সে, আবার খানিকটা এগিয়ে আসতেই আরও একটি, এভাবে পনের মিনিটে সাতখানা ময়ূর দর্শন। চা বাগানের মাটির রাস্তা ছেড়ে আমরা পাকা রাস্তায় উঠলাম।
বড়দীঘি টি- বাংলোকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া টি-ট্যুরিজমের তালিকায় রয়েছে টি-ফ্যাক্টরি পরিদর্শন থেকে নদীর ধারে সান্ধ্য ভ্রমণ। গরুমারা চাপরামারি সাফারি থেকে বার্ড ওয়াচিং, সবটা মিলিয়ে উত্তরবঙ্গের পরিচিত পাহাড় নদী ভ্রমণের মাঝে নতুনের ছোঁয়া এই টি- ট্যুরিজম। চা বাগানের নৈঃশব্দের মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলা কিংবা খুঁজে পাওয়ার ঠিকানা এমন সব সবুজেরা ছড়িয়ে আছে তরাই থেকে ডুয়ার্সের আনাচে-কানাচে। নিরালা- নিস্তব্ধতা প্রিয় মানুষেরা অনায়াসে কাটিয়ে দিতে পারেন দু-একদিন,মালবাজার কিংবা জলপাইগুড়ি থেকে অনায়াসেই পৌঁছে যাওয়া যায় বড়দীঘি টি- বাংলোতে। রাত্রি যাপন করতে না চাইলে আমাদের মত একটা দুপুর কাটিয়ে গরুমারায় বিকেলের সাফারি শেষে ফিরে যেতে পারেন সহজেই। জঙ্গল আর সবুজঘেরা চা বাগানের মাঝে একটা দুপুর কিংবা সারাদিনের জন্য হারিয়ে যাওয়ার সেরা ঠিকানা হতে পারে বড়দীঘির টি-বাংলো।
বর্ষ শেষ? নাকি শুরু নতুন দিন?
কবিতা (দ্বিতীয় পর্যায়)
হাওয়া চলাচল
বাতাসের শরীর
শিশির আজম
শেষের মাঝে শুরু
মহঃ সা নো য়া র
শেষের শুরু
অবুঝ বালক
চৈত্রের শেষে ঝরা পাতার বিষণ্নতা,
ধুলোমাখা পথে নামে বিদায়ের নীরবতা।
রোদে পোড়া বিকেলে ক্লান্ত দিনের শেষ,
অস্তরাগে নিভে আসে স্মৃতির আবেশ।
নীরব হাওয়ায় ভাসে অতীতের মৃদু গান,
দূরের মেঘে জাগে ওঠে আগামীর আহ্বান।
হঠাৎ ঝড়ে কেঁপে ওঠে স্তব্ধ সময়ের গতি,
বৈশাখ আসে—নতুন প্রাণ, নতুন পথের জ্যোতি।
কৃষ্ণচূড়ার অগ্নিরঙে জ্বলে ওঠে প্রাণ,
পলাশ ডাকে—“ভেঙে দাও সব, শুরু হোক নতুন গান!”
শেষ আর শুরুর মাঝে সময় দাঁড়ায় নীরব সেতু,
প্রতি বৈশাখে জীবন জাগে—নতুন স্বপ্নের রূপে রূপান্তরিত।
কালবৈশাখী
মিত্রা রায় চৌধুরী
চৈত্রের শেষে দিক চক্রবালে আচম্বীতে





