শিষ্য হওয়া কঠিন
তাপসী ঘোষ
বছর কয়েক আগে পথ দুর্ঘটনায় পঙ্গু ও মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে মোহন।
মাধ্যমিকে জেলায় প্রথম স্থান অধিকারী নির্বাণ রায়ের পিতা মোহন। মোহন টিউশন পড়াতো। বিনা বেতনে পড়িয়েও অনেক ছাত্র ছাত্রীদের জীবনে সে সফলতা এনে দিয়েছে। কিন্তু তার অসুস্থতা আর আর্থিক অনটনের জন্য নির্বাণ-কে প্রায় বিনা টিউশনেই মাধ্যমিক পাশ করতে হলো। মোহন বিনা বেতনে যে সকল ছাত্র ছাত্রীদের পড়িয়ে ছিলো তাদের মধ্যে অনেকেই আজ শিক্ষকতায় বেশ সুনাম অর্জন করেছে। ওদের মধ্যে একজন হলো আনন্দ, মোহনের প্রতিবেশী ।
মোহন অসুস্থ হওয়ার পর একদিন আনন্দকে বলেছিলো, `নির্বাণের এবার ক্লাস নাইন, তুমি ওর পড়ার দায়ভার বছর দুয়েক নাও আনন্দ।`
নির্বাণকে পড়িয়ে দক্ষিনা পাওয়া যাবে না বুঝে গিয়ে আনন্দ অজুহাত দেখিয়ে ছিলো, যে তার টিউশন ব্যাচ ফুল এবং সময় হবে না। অসুস্থ মোহন আরও অসুস্থ হয়ে গেলো আনন্দর বিবেকের মৃত্যু দেখে ।
মাধ্যমিকে জেলায় প্রথম হওয়া নির্বাণ সাক্ষাৎকারে বলেছে, তার সাফল্যের পিছনে বাবা ও আনন্দ স্যারের অবদান রয়েছে। আনন্দ নির্বাণ কে জিজ্ঞেস করেছিলো, `তোকে তো আমি পড়াইনি তাহলে আমার অবদান কোথায়?`
- আপনি যখন টিউশন পড়াতে বসতেন আমি নিজের ঘরের থেকে কান পেতে সেই পড়াগুলো বুঝে নিতাম। সেই হিসাবে আপনি আমার গুরু। বাবার থেকে শিখেছিলাম যিনি শিক্ষা দেন তিনি গুরু, আর গুরুকে সময় মতো গুরু দক্ষিনা ফিরিয়ে দিতে হয়।
সমাজে আনন্দর নাম হলো, কিন্তু বিবেকের কাছে সে পরাজিত।

No comments:
Post a Comment