Tuesday, June 2, 2026


 

কবিতা নাচে তাতা থৈ থৈ 

রবীন বসু 

বড়রাস্তার মোড়ের চায়ের দোকান। সম্পদ মহান্তি মারা যাবার পর তার মেয়ে এখন দোকান চালায়। বাবার সময় তেমন ভিড় হত না, কিন্তু এখন চা-খাওয়ার থেকে মেয়েকে দেখতে ভিড় হয় বেশি। আমিও দেখি। এক কাপ চা বলে যশোদার মুখ বুক পাছা সব নিরীক্ষণ করি। নাভি দেখতে পারি না, কেননা, যশোদা শাড়ি পরে না। পুরনো জিন্সের সঙ্গে হাতকাটা টপ। বাহুমূল উন্মুক্ত থাকে। সেখানে পেলবতার কারুকাজ।  বিগত যৌবন আমার মধ্যে একটা সুড়সুড়ি জাগে। কাম ভাব। আত্মতৃপ্তির সেই সুড়ঙ্গ ধরে উন্মূল কবিতা চলে আসে। কবিতা মাথার মধ্যে লিখি। চোখ লেখে যশোদাকে। আর এই সমস্ত প্রক্রিয়াটা আমি সুচতুর উদাসীনতা, নির্মোহ অবসাদ নিয়ে চা-রিয়ে  চা-রিয়ে উপভোগ করি।

মধ্যাহ্ন গড়িয়ে গেলে যশোদা গলা চড়ায়, "ঝাঁপ বন্ধ হবে। কবিদাদা, শেষ চা খাবে নাকি?" চোখে ঝিলিক নিয়ে তাকাতো। সেখানে হাজার ব্ল্যাকহোলের চুম্বকীয় টান। আমার তখন মরণদশা। মাথার মধ্যে কবিতা জাপটে ধরেছে। চোখে এক নদী খিদে। রূপের বসতবাটি থেকে অ-রূপের মধ্যবিত্ত ফ্ল্যাট। সবচেয়ে দুর্বল ছেলের প্রতি মায়ের যেমন টান থাকে বেশি, তেমনই সব টেবিল খালি হলে, উনুনের কয়লা ফেলা হয়ে গেলে, শেষ ঝাঁপ ফেলার আগে যশোদা ডাকে, "আসেন। বাড়ি যাই। পেটের খিদের বড় টান। আপনার কবিতার টানের থেকেও।"


যশোদা সাইকেলে উঠে কী মনে করে একবার ঘাড় ঘুরিয়ে ঘণ্টি বাজায়। বাংলা কবিতা তখন ভরপেট খিদে নিয়ে শরীর বাজিয়ে নেচে ওঠে, তাতা থৈ থৈ!

No comments:

Post a Comment