পালাচ্ছে
তুহিন শুভ্র ভট্টাচার্য্য
আকাশ জুড়ে গহন মেঘ, এবছর এ অঞ্চলে বসন্ত আর গ্রীষ্মের মাঝে পথিক মেঘ বর্ষা নিয়ে এসেছে।এমনি এক মেঘলা রাতে নির্জন পথে আনমনে হেঁটে চলেছে এক ছেলে। সে পালাচ্ছে,তার এই পঁচিশ বছরের জীবনের নানা দুঃখ-অসুখ-সংক্রমণের ভয়-ব্যার্থতা-বেকারত্বের সূচগুলো স্বযত্নে রুমালে বেঁধে,বজ্ররবের দিকনির্দেশনায় সে পালাচ্ছে।
সেই পথেই ছুটে আসছে একটা বাইক। আরোহী বছর চল্লিশের। বাইকটার গতি অতিদ্রুত। অফিসের চাপ-লোন-দাম্পত্য কলহ-সাংসারিক জটিলতা যেন আরোহীর পেছনে অনুসরণরত আর সে দিকবিদিক শূন্য হয়ে বাইক ছুটিয়ে পালাচ্ছে।
এই পালাতে চাওয়া দুজন মুখোমুখি হতেই ঘটে গেল সংঘর্ষ। আনমনা ছেলের রক্তাক্ত দেহটা পরে রইলো একদিকে আর বাইক আরোহীর দেহটা আরেকদিকে।
ক্ষানিক চুপ। তারপর আকাশ ভেঙে ঝরে পড়লো অনিবার জল আর সে জলের ধারায় দুজনের রক্ত মিলেমিশে দিব্যি এবার একসঙ্গে পালাচ্ছে, দূরে পালাচ্ছে।

No comments:
Post a Comment