Tuesday, June 2, 2026


 

আলোর বেণু

পর্ণা চক্রবর্তী 


গড়ের মাঠে একটা লোক বাঁশি বাজাচ্ছিল।  ছুটির দিনে  নরম রোদ মেখে  রঙিন ভীড় জমেছে। একটা সিড়িংগে পানা লোক  ছোটো একটা ছেলের হাত ধরে লোকটার সামনে এসে দাঁড়ালো, 

"বাঁশি আছে , ভালো  বাঁশি এই খোকার জন্য?"

লোকটা  বাজানো থামিয়ে' দুজনকে ভালো করে দেখল,   

"ভালো বাঁশি মানে ? বাঁশির আবার ভালোমন্দ কি ?  বাঁশির কোনো ভালো মন্দ হয় না। যে বাজায় তার   ভালো মন্দ  হয়।  সেই মতো তার বাজনা ভালো খারাপ হয় ।"

লোকটা  তাল কেটে যাওয়াতে গম্ভীর।

"আহা খুঁত বাঁশি হলে সুর উঠবে কি করে?"

লোকটা সিড়িংগেকে ভালো করে দেখল। বিকেলের সাথে সন্ধ্যার দেখা হচ্ছে তখন। সন্ধিক্ষণের মায়াবী আলোয়  লোকটার মুখটা বড্ড নিষ্পাপ লাগে।   বড়ো বড়ো   কটা  চোখে   ফিকে নীল আকাশের ছায়া।  

লোকটা   হাসল, বলল, " খুঁত  বাঁশিও  বাজে। বাজাতে জানতে হয়।  তারপর এক সময় সুরের মধ্যে ডুবে গেলে ওর খুঁত  কেটে যায়। সিরিংগে  হ্যাঁ করে রইল।  খোকাও হাঁ করে শুনল। "তাছাড়া আমি বাঁশি বেচি না, বাজাই। শুনবে ?" 

"আচ্ছা বেশ।"  

সবুজ ঘাসে পা ছড়িয়ে বসে লোকটা। আরো কতগুলো লোক জুটে গেল। লোকটা বাঁশিতে ফুঁ দিল। একটা সুর  ফোয়ারা মতো ওপরে উঠে ছোটো  ছোটো ফুলকির মতো ঝরে পড়ল চারপাশে ।তার সাথে কতগুলো ফুল পাতা ঝরে পড়ল। চারটে  কিশোরী একটু আগে  নিজেদের মধ্যে ফিসফিস গুজগুজ করছিল আর চাপা হাসছিল। একজন বলছিল ," চোখদুটো দেখেছিস, বুকের ভেতরটা কেমন  ধড়াস  ধড়াস করল।" আরেকজন  বলল ,"আহা কৃষ্ণঠাকুর ! তুই হলি রাধা।"  হাসিটা একটু জোরে বাজছিল। তারা এখন সব হাসি ফেলে নিস্পন্দ হয়ে বাঁশি শুনছে। দুটো পকেটমার  দূরে দাঁড়িয়ে  লোকটাকে মন দিয়ে মাপছিল।  একজন বলল, "কেমন থাকতে পারে বলতো? "

অন্যজন উদাস হয়েছিল, বলল," কি জানি। জেনেই বা কি হবে চল ভীড় বাস খুঁজি।"  আগেরজন বলল  "দাঁড়া না  একটু শুনি।" এমন  অনেক লোক নানা রকমের চিন্তা আর মন নিয়ে জড়ো হয়ে  বাঁশি শুনতে লাগল।

 

সন্ধ্যা আরো ঘন হলো।বাঁশি শুনতে শুনতে  লোকটার সামনে একজন  ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল তারপর আরেক জন,তারপর  আরো একজন। লোকগুলো কেউ কথা বলছিল না। দিনের আলো নিভে যাওয়ার  সঙ্গে ওদের সব কথাগুলোও যেন নিভে গেল।  একটা  লম্বা ,সৌখিন চেহারার লোক  ফোনে  কাকে  খুব  গালাগালি করছিল।   বাঁশির সুরটা  ওর মাথার ভেতর    আলতো  করে ঢুকে  রাগটাকে এক লহমায় শুষে নিল যেন, এমন মনে হলো ওই লম্বা রাগী লোকটার।

আকাশে তখন  একটা দুটো করে তারা ফুটতে লেগেছে। আবছা আলো মেখে অনেকগুলো লোক বসে রইল ঘাসের ওপর নিঃশব্দে। ওরা  প্রত্যেকে ওদের মনের ভেতরের  নানান চিন্তা , ভাবনা, দুঃখ ভয়গুলোকে হাতড়ে  দেখছিল সব  ঠিকঠাক আছে কিনা।  কিন্তু  কেউ কিচ্ছু খুঁজে পাচ্ছিল না । ভেতরটা  কেমন খালি খালি লাগছিল লোক গুলোর।  অসুবিধা হচ্ছিল, এতদিন ধরে  রাগ, বিদ্বেষ দুঃখ, ভয়গুলোর সাথে থাকতে থাকতে একটা অভ্যেস হয়ে গিয়েছিল। একটা আনন্দ  ওদের  বুকের ভেতরে ঘুরপাক খাচ্ছিল  কিন্তু সেটা এত নতুন যে ওরা  বুঝতে পারছিল না এমন হলে কতটা আনন্দ হয়।  লোকটা শান্ত হয়ে খানিক  বসে রইল তারপর ওর ঝোলায় বাঁশিটা পুরে একবার পিছনে ফিরে কাদেরকে ডাকল  আর  সোজা হাঁটা লাগালো রেড রোডের দিকে।একটা দমকা হাওয়া  কতগুলো  শুকনো পাতা নিয়ে পাক খেতে খেতে লোকটার পিছন পিছন ছুটল ।


একটু দূরে থেকে বসন্ত প্রথম থেকে  পুরো ঘটনাটা মন দিয়ে লক্ষ করছিল।লোকগুলো হতভম্ব ভাবটাও দেখল।  নিজেকেও দেখল বসন্ত। একটু আগে কয়েকটা লোভ ওকে খুব জ্বালাচ্ছিল। কিন্তু লোকটার বাঁশির সুর ওকে কেমন আচ্ছন্ন করে তোলার পর  বসন্ত লোভগুলোকে অনেক খুঁজল  তারপর দেখল সেগুলো নেতিয়ে পড়ে আছে মনের এক কোণে।  বসন্ত হেঁটে  ভিক্টোরিয়ার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। কতগুলো লোক সেখানে  বাঁশিওয়ালাকে নিয়ে আলোচনা করছিল।আধবুড়ো একটা লোক বলছিল, " লোকটাকে আজকাল  মাঝে মাঝে দেখা যাচ্ছে। বেশি কথা বলেনা, খালি বাঁশি বাজায়। তবে ওর বাঁশি শুনলে কি  একটা হয়। সব কেমন বদলে যায়।"  বসন্ত  হাঁটতে হাঁটতে  জাদুঘরের দিকে গেল।  চারপাশটা ঘুরল কিন্তু লোকটাকে খুঁজে পেলনা। বসন্ত খুব অস্থির হয়ে উঠল। লোকটাকে ওর  খুঁজে পেতেই হবে, খুব দরকার । 


পরের সাতটা দিন বসন্ত গড়ের মাঠ আর তার চারপাশ চক্কর কাটল কিন্তু লোকটাকে দেখতেই পেল না। এদিকে বসন্তের শিরে সংক্রান্তি। ওর বন্ধু রাজার দূর সম্পর্কের  মামা পট  করে মরে গেল বিপুল সম্পত্তি রেখে।  সব কিছু রাজারই পাওয়ার কথা।  কিন্তু বুড়ো  উইল করে যায়নি । ব্যাংকে কোটি টাকা।  মরার খবর  কেউ জানে না। কে আর আছে যে জানবে।  বিদেশে ছিল বুড়ো। হঠাৎ করে মরে গেল ।তাই ওখানেই কোনো রকমে সৎকার করে রাজাকে খবর দিয়েছে বুড়োর চেনা এক জন। মন্দিরে পুজো দিয়ে কাজ সেরেছে রাজা। লোক জানার ভয়ে শ্রাদ্ধও করেনি।  বসন্ত সই নকল করতে ওস্তাদ। এ যাবৎ  লাখ পঞ্চাশ মতো টাকা তোলা হয়েছে। বসন্ত ভাগও পেয়েছে। কিন্তু এখনও আরো অনেক টাকা বাকি।   রাজা ছিনেজোঁকের মতো ওর পেছনে  লেগে আছে। কিন্তু বসন্তের লোভটা কেমন ফিকে হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। লোকটাকে বসন্ত দরকার।   হয় বহুত ঘোড়েল  মাল,নিশ্চয় কিছু ধান্দা আছে।  না হলে কোনো তান্ত্রিক হবে। লোকটার সাথে কথা বলতেই হবে। বসন্ত ছটফট করতে থাকে ।


প্রায় দশদিন বাদ তেলেপুকুর বস্তির কাছে  এক ঝলক দেখতে পেল লোকটাকে বসন্ত। একটু আগে দুটো বিরোধী দলের মধ্যে  ভয়ঙ্কর  মারামারি হয়েছে,বেশ কিছু লোক আহত। লোকটা  একটু দূরে একটা  মন্দিরের চাতালে বসে খুব আস্তে বাঁশি বাজাচ্ছিল আর বেশ কিছু লোক জড়ো হয়ে শুনছিল। চারপাশটা এত শান্ত হয়েছিল যে বোঝাই যাচ্ছিল না একটু আগে অমন মারামারি হয়েছে। বিরোধী দল দুটোর নেতারা খুব নরম সুরে কথা বলছিল টিভিতে। দুটো দলই  নিজেদের দোষের কথা স্বীকার করল। চারপাশে হইচই পড়ে গেল। জনগণ বলতে লাগল ," এ নিশ্চয় কোনো নতুন নাটক ।দুটি দলের ভেতর নিশ্চয়  কোনো সমঝোতা হয়েছে।" 


 তারপর থেকে শহরের নানান জায়গায় লোকটাকে দেখা  যেতে লাগল।  ভোট  নিয়ে কোনো কলেজে দুই দলের  সংঘর্ষ হচ্ছে,  কোনো  কারণে  পুলিশের সাথে কোনো  প্রতিবাদী গোষ্ঠীর  খন্ড যুদ্ধ হচ্ছে, যেখানেই হিংসা  হচ্ছে, অন্যায় কিছু ঘটছে লোকটাকে ঠিক  দেখা যাবে। তবে সবাই দেখতে পায়না। যারা পায়না তারা বাঁশির আওয়াজ শুনতে পায়।  কাগজে  টিভিতে  লোকটাকে  নিয়ে  নানা  আলোচনা শুরু হলো।  পাড়ায় রকে, ঘরে ঘরে  সেই একই গল্প চলতে লাগল।


শহর আগের থেকে অনেক শান্ত।  মারামারি খুনোখুনি  কমছে । সব থেকে বড় কথা শহরটার রাগ কমছে , ঘৃণা কমছে, কমছে লোভ। বসন্ত পাগলের মতো খুঁজে বেড়াচ্ছে লোকটাকে। আর বসন্তকে খুঁজছে রাজার দলবল। রাজার কথা না শুনলে হয়তো ওকে মেরেই দেবে ওরা। কিন্তু কিছুতেই মিলছে না লোকটা। যেদিন বসন্ত দক্ষিণে খোঁজে সেদিন খবর আসে  লোকটা পশ্চিমে ছিল। আবার উত্তরে লোকটাকে দেখা গেলে বসন্ত সেদিন  হয়তো  মধ্য কলকাতায় হন্যে হয়ে ঘুরছিল। লোকটা কখন কোথায় …কেউ জানে না।

বসন্ত পালিয়ে বেড়াচ্ছে।  কিছুদিন আগে রাজার লোক ওকে ধরেছিল।  বসন্ত খুব  চেয়েছিল লোকগুলো ওকে মারুক , তবে হয়তো লোকটা আসবে। কিন্তু ওরা মারল না  দুদিন সময়  দিয়ে শাসিয়ে গেছে। দুদিন পেরিয়ে গেছে, বসন্ত  ঠিক করল  শহর ছেড়ে পালাবে। সেইমতো খুব ভোরে উঠে বেরিয়ে পড়ল  ও বাড়ি থেকে।  মোড়ের মাথায় এসে থমকে দাঁড়ালো বসন্ত । রাস্তার ধারে  বন্ধ চায়ের  দোকানের সামনের  বেঞ্চে বসে আছে  সেই  লোকটা। কতগুলো কুকুরকে বিস্কুট  খাওয়াচ্ছে।

গত সপ্তাহে ,সরকারি কর্মচারীদের  মাইনে বাড়ানো, ডি এ বৃদ্ধি আর যোগ্য লোকজনদের চাকরির জন্য আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের তুমুল মারামারি হয়েছে। পুলিশ নির্মম ভাবে  নিরস্ত্রদের ওপর লাঠি চালিয়েছে।  সেদিন লোকটাকে কেউ দেখতে পায় নি তবে এই প্রথম অনেকক্ষণ  ওর  বাঁশির আওয়াজ শোনা গেছে।  সরকারের পক্ষ থেকে   আন্দোলন কারীদের সব দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। আর কিছু দোষী পুলিশ অফিসারদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। কারণ ওরা নিজেরাই নাকি  নিজেদের দোষ স্বীকার করে নিয়েছে।  খবরটা শোনার পর থেকে বসন্ত আরো অস্থির হয়ে পড়েছিল । কারণ  এরপর বেশি দেরি  করলে  রাজার দলবল আর কথা বলার সময় দেবে না কখন যে নিঃশব্দে খুন করে দেবে বসন্তও টের পাবেনা।

 

 লোকটা বসন্তকে  ডাকল ,"এসো তোমার জন্য বসে আছি"

" কেন বলতো?"

"আমাকে খুঁজছিলে তো"

" তুমি কি করে জানলে আর আমি যে এখানে থাকি তাই বা কি করে জানলে?"

 লোকটা হাসল,  ওর হাসির ছোঁয়া লেগে  ভোরটা  ঝলমল করে  উঠল।  

 "আমার  সাথে এসো "

লোকটা  হাঁটতে লাগল  গঙ্গার ঘাট ধরে। শীতের ভোরে, নির্জন  রাস্তায়  বসন্ত  কেমন বোধশূন্য হয়ে লোকটার পেছন পেছন চলতে লাগল। কুয়াশায় লোকটার দীর্ঘদেহ  ক্রমশ আবছা হয়ে এলে বসন্ত আরো জোরে  হাঁটতে থাকল। হঠাৎ করে ভোরের স্তব্ধতা ভেঙে  কতগুলো পায়ের আওয়াজ  জেগে উঠল। বসন্ত  পেছন ফিরে দেখেই ছুটতে  থাকল পাগলের মতো । চিৎকার করল " কোথায় গেলে  তুমি?  দেখতে পাচ্ছিনা যে, শুনছো?" ওর 

 মাথায় কে যেন জোর আঘাত করল।

 অর্ধচেতন  বসন্ত গভীর এক   ব্যথার মধ্যে ডুবে  যেতে যেতে  পুরো চেতনা হারিয়ে ফেলল ।

 

 আকাশে মেঘ জমেছে  । গঙ্গার  ধারে বসে আছে  বসন্ত। মাথাটা ভার।  কপালের কাছে জমে আছে রক্ত।লোকগুলো একটু আগে  শিশুর মতো কাঁদছিল। ওরা সব পাক্কা অপরাধী, ক্ষমা চেয়ে ফিরে গেছে। লোকটা গঙ্গার দিকে আনমনে তাকিয়ে ছিল ।  

বসন্ত বলল," তোমার জন্য  বেঁচে গেলাম।  না হলে….  ।" লোকটা একটু হাসল।

বলল ,"চলি।"  

"কোথায় যাবে ?  আর আসবে না?"

 "আমার কাজ আপাতত শেষ।  দরকার পড়লে আসতে হবে বৈকি।"   

উঠে দাঁড়ালো লোকটা  তারপর কাদেরকে হাত নেড়ে বলল," আমার পেছনে এসো।"

বসন্ত বলল," কেউ নেই তো ।কাদের কে ডাকছ ?" লোকটা বলল," ওই যে ওদেরকে। লোভ,ভয়, ঘৃণা,হিংসা।

তোমার ঐ কালো কালো ভয় আর  আধমরা লোভও আছে ওদের সাথে।"

"আসি এবার।"

বসন্তের  খুব একটা কষ্ট হলো ।

মরিয়া হয়ে বলে উঠল 

"তুমি কে বলত ? কেন এসেছ এখানে? কি কাজ তোমার?"

"তুমি কে বসন্ত? " 

লোকটা ওর  ঝকঝকে চোখদুটো  বসন্তের  চোখের ওপর রেখে দিল।

"তুমি কেন  এসেছ এই পৃথিবীতে , কি কাজ  তোমার , কখনো ভেবেছ?”

বসন্ত থতমত খেয়ে ভাবতে লাগল, এ আবার কি প্রশ্ন। কেন এসেছে সেসব ও কি করে জানবে ।

লোকটা বলল , “কি হলো? তুমি জানো কেন এসেছ?”

বসন্ত মাথা নাড়ল।

লোকটা বসন্তের সামনে দাঁড়িয়ে ওর ক্লান্ত হতাশ মুখটাকে নরম কোমল চোখে দেখল।

“যেদিন নিজেকে জানবে , কেন এসেছ, কি তোমার কাজ সব যখন বুঝতে পারবে সেদিন আমাকেও জানতে পারবে বসন্ত। "

 লোকটা ঝোলা থেকে বাঁশিটা বের করে বলল "এবার সত্যি আমাকে যেতে হবে, সময় কমে আসছে। " তারপর অদ্ভুত সুন্দর করে হাসল।

ওর হাসির থেকে  অজস্র রঙিন প্রজাপতির জন্ম হলো ,রামধনু ঝলসে উঠল । কত রকমারি রঙের সুর  ঝরে পড়তে লাগল  অজস্র ধারায়। বসন্ত নতজানু হয়ে বসে কাঁদতে  লাগল আকুল হয়ে।


আবার সেই আশ্চর্য্য বাঁশিটা বেজে উঠল । সমগ্র  চরাচর  ভেসে গেল সুরের বন্যায়। আচমকা  বাতাসে ঘূর্ণি উঠল , রাস্তার  সমস্ত আবর্জনা নিয়ে  সে ঘূর্ণি ছুটে  চলল বাঁশিওয়ালার  পেছনে। বসন্তের সামনের রাস্তাটা নরম মেঘলা রোদ মেখে আছে।  সেই রাস্তা ধরে আবছা হয়ে আসাএকটা চেহারার পেছনে ছুটতে ছুটতে  বসন্ত  বলে উঠল,

" কোথায় খুঁজব তোমাকে ?

 তুমি কোথায় থাকো ?"

 বাতাসে ভেসে  আসা ফিকে  বাঁশির সুর বলে উঠল " তোমার বুকের ভেতর।"

No comments:

Post a Comment