Friday, January 3, 2025


 

গল্প 


নতুন জীবন

আকাশলীনা ঢোল


তখন ভোর চারটে-সাড়ে চারটে হবে। পূর্ব দিগন্তে আলোর লেশমাত্র নেই। ‘ক্যামেলিয়া রিসোর্টে’র বাইরের দিকটায় কারা যেন আগুন জ্বালিয়ে গল্প করছে, মাঝে-মধ্যে ভেসে আসছে দু-একটা গানের কলিও। কাছাকাছি কোথাও থেকে শোনা যাচ্ছে দাঁতালের গর্জন। অজানা অস্বস্তিতে ঘুম ভেঙে গেল রিয়াঙ্কার। বিছানা ছেড়ে উঠে ঘরের আলো জ্বালল। বিছানায় তখন কম্বল মুড়ি দিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে রয়েছে রোটন। রিয়াঙ্কা হাউসকোটের ওপর একটা শাল জড়িয়ে ব্যালকনিতে এসে দাঁড়াল। সঙ্গে সঙ্গে একটা দমকা হাওয়া জড়িয়ে ধরল তার শরীর। ধীরে ধীরে রিয়াঙ্কার মনের মধ্যে জমে থাকা অবসাদটা কেটে যেতে লাগল।

আজ ইংরেজি বছরের প্রথমদিন। গতকাল, অর্থাৎ ৩১ শে ডিসেম্বর দুপুরের দিকে রিয়াঙ্কা এসে পৌঁছেছে লাটাগুড়ির এই রিসোর্টে তার আট বছরের ছেলে রোটনকে সঙ্গে নিয়ে। অবশ্য এখানে আসার জন্য তাকে কম কাঠ-খড় পোড়াতে হয়নি। রিয়াঙ্কার বিয়ে হয়েছে দশ বছর হল, স্বামী বিদেশে চাকরি করে, রিয়াঙ্কা একটি বেসরকারি স্কুলের ইংরেজির শিক্ষিকা। গত দশ বছরে তার স্বামীর সঙ্গে কয়দিন দেখা হয়েছে, তা বোধহয় রিয়াঙ্কা হাতে গুণে বলে দিতে পারে। আত্মীয়- বন্ধুরা তাকে বহুবার অনুরোধ করেছে রোটনকে নিয়ে বিদেশে চলে যেতে। কিন্তু, তাদের অনুরোধ যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়নি রিয়াঙ্কার। সে বিদেশে চলে গেলে তার আর চাকরি করা হবে না, একথা কিন্তু কেউই ভাবেনি কোনওদিন। কেউ তার স্বামীকে অনুরোধ করেনি, চাকরি ছেড়ে এসে স্ত্রীকে সঙ্গ দিতে, এমন উল্টো কথা তাই কি বলে কেউ? কিন্তু, দাম্পত্য-জীবনে খুব নিঃসঙ্গ বোধ করে রিয়াঙ্কা। স্কুল-বাড়ি-সন্তানকে নিয়ে তার দিন কোনওরকমে কেটে যায়, কিন্তু এই জীবন থেকে সে খুঁজে পায় না বেঁচে থাকার রসদ। কোথাও বেড়াতে যাওয়া, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সিনেমা দেখা, এমনকি মনের কথা বলা, সবকিছু থেকেই বঞ্চিত হয় সে, কারণ তার ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই। হাতে অর্থ আছে কিন্তু পরিবারের তরফ থেকে অনুমতি নেই একা একা অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে যাওয়ার, অপ্রয়োজনে আনন্দ করার। গত দশ বছর ধরে রিয়াঙ্কা সবকিছুই সহ্য করেছে মুখ বুজে। অবশেষে, একদিন স্কুল থেকে ফিরে রোটন যখন জেদ ধরে বসল, এবার বড়দিনের ছুটিতে তাকে বেড়াতে নিয়ে যেতেই হবে, তখন রিয়াঙ্কার মধ্যেও জেগে উঠল এক প্রতিবাদী সত্তা। সে কাউকে কিছু না জানিয়েই সব ব্যবস্থা করে ফেলল। সবাই সবকিছু জানতে পারল তার রওনা হওয়ার দিন। সঙ্গে সঙ্গে যেন হাজারটা টর্নেডো আক্রমণ করে বসল রিয়াঙ্কাকে। অনেক অশান্তি, অনেক অপমানের শিকার হল সে, কিন্তু, এবার সে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, পরাজয় আর কিছুতেই স্বীকার করবে না। অবশ্য, সবার কথাই যে যুক্তিহীন তেমনটা নয়, অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিল নারীর নিরাপত্তা নিয়ে। রিয়াঙ্কার চোখ ফেটে জল বেরিয়ে এসেছিল, তার মনে হচ্ছিল ভারতবর্ষ আদৌ কি কোনওদিনস্বাধীন হয়েছিল? তাহলে, এদেশে আজ পরাধীনতার গ্লানি কেন সহ্য করতে হয় মানুষকে? কেন আজও এত অভাব নারীর নিরাপত্তার? যে দেশ একদিকে নারীকে মা বলে পুজো করে, সেই দেশই কি অপরদিকে নারীকে মানুষের পর্যায়ে ফেলে না? নাকি এটা কেবল একটা দেশের নয়, একটা পৃথিবীরই নিয়ম? হাজার একটা চিন্তার মধ্যে ডুবে গিয়েছিল রিয়াঙ্কা, চিন্তায় ছেদ পড়ল অজানা এক পাখির ডাকে। চিন্তা-ভাবনায় কখন যেন কেটে গিয়েছে অনেকটা সময়, পূব-আকাশে আলোর রেখা দেখা দিয়েছে, সূর্য উঠতে এখনও কিছুটা দেরি। ঘরে ঢুকে রিয়াঙ্কা দেখে রোটন তখনও ঘুমিয়ে রয়েছে।


স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল রিয়াঙ্কা। কলকাতা থেকে এতদূরে একা একা সে প্রথমবার এসেছে। অজানা-অচেনা জায়গা, ভয় যে প্রথমটা লাগেনি তেমনটা নয়, বিশেষ করে ‘ক্যামেলিয়া রিসোর্টে’র কর্মচারী বিশুবাবুর হাবভাব একদমই ভাল লাগেনি রিয়াঙ্কার, লোকটি বড্ড বেশি যেন গায়ে পড়া। কিন্তু, রাত্রে খাওয়াদাওয়ার পর যখন রোটন অসুস্থ হয়ে পড়ল, তখন বিশুবাবুই অত রাতে বাইক নিয়ে বনজঙ্গল পেরিয়ে শহর থেকে ডাক্তার ডেকে আনে, ওষুধ এনে দেয় রোটনের জন্য, রিসোর্টের ওপর এক কর্মী সন্ধ্যা এসে বারবার খোঁজ নিয়ে যায়। রিয়াঙ্কার মনে হতে থাকে পৃথিবীতে ভাল মানুষের অভাব বোধহয় এখনও হয়নি। এভাবেই রাত কেটে যায়। কুয়াশার আচ্ছাদনটা সরে যাওয়ায় ঠাণ্ডার দাপট বাড়তে থাকে। নিজেকে আপাদমস্তক শীতবস্ত্রে ঢেকে নেয় রিয়াঙ্কা। দরজা খুলে বাইরে আসতেই দেখে সন্ধ্যা হাজির, সন্ধ্যাকে রোটনের পাশে বসিয়ে ধীরে ধীরে রিসোর্টের বাইরে বেরিয়ে আসে। হাঁটতে হাঁটতে এগিয়ে যায় মূর্তি নদীর দিকে। কনকনে ঠাণ্ডা হাওয়া, পাতা ঝরার শব্দ আর পাহাড়ি নদীর কুলকুল ধ্বনি, মুগ্ধ করে দেয় রিয়াঙ্কার চিত্তকে। কিছুক্ষণ নদীর ধারে বসে থাকার পর, রিয়াঙ্কা যখন ফেরার পথ ধরে, তখন পূব-আকাশে নতুন বছরের নতুন সূর্য তাকে যেন ডাক পাঠাচ্ছে নতুন জীবন আরম্ভ করার। অবশ্য, এখন থেকে তো রিয়াঙ্কার জীবনে আরম্ভ হবে এক নতুন অধ্যায়। যে মানুষগুলো তার জীবনে প্রতিকূলতা সৃষ্টি করেছিল, তাদের মুখ সে আর দেখতে চায় না, ফিরতে চায় না সেই বন্দী জীবনে। রিয়াঙ্কা এও জানে যে, সামান্য কারণে শ্বশুরবাড়ির দরজা তার জন্য চিরতরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে, রিয়াঙ্কাও ছক কষে নিয়েছে মনে মনে, নতুন জীবন শুরু করার ছক। সেই জীবনে থাকবে কেবল রিয়াঙ্কা আর রোটন। পুরনো স্মৃতিকে হৃদয়ে স্থান দিয়েই তারা হেঁটে যাবে নতুনের পথে, নতুনকে জানাবে স্বাগত। স্মিতমুখে হাঁটতে হাঁটতে রিয়াঙ্কা মনে মনে গুনগুনিয়ে ওঠে- ‘এখন বাতাস ছুটুক, তুফান উঠুক, ফিরব না গো আর- আমাদের যাত্রা হল শুরু...’



 

ব্যক্তিগত গদ্য 


স্বাগত নবীন, পুরনো থাক মনে 
              সুদীপা ঘোষ 


দিন আসে, দিন যায়। দিন বদলের সাথে বদলে যায় আমাদের চারপাশ। এই পরিবর্তনকে কখনো আমরা মন থেকে হাসিমুখে মেনে নিই, কখনো মেনে নিতে বাধ্য হই, আবার কখনো পুরনোকেই আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু নতুনকে উপেক্ষা করে শুধু পুরনো নিয়ে এগিয়ে  চলতে গেলে হোঁচট খেতে হয় বারবার । নতুনকে জায়গা দিতে গিয়ে দোলাচল মনে অস্তিত্ব সংকটের আশঙ্কা জাগে।  নিজের অস্তিত্বকে গুরুত্ব দিতে আমরা প্রায়ই ভুলে যাই যে- "এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান"। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে নতুন তো তার জায়গা করে নেবে ঠিকই। তবে কেন আমরা মুখ ফিরিয়ে থাকি? কেন বারবার পিছন ফিরে চাই? আসলে যা কিছু নতুন আমাদেরকে আনন্দ দেয় ,তাকে আমরা সহজেই বরণ করে নিতে পারি। প্রত্যেকবার নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে একসাথে সবাই হুল্লোড়ে মাতি, স্কুল -কলেজ- বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নবীনদেরকে বরণ করতে নবীন বরণ উৎসবের আয়োজন করি, পরিবারে নতুন শিশুর আগমনকে স্বাগত জানাতে খুশির জোয়ারে ভাসি। অথচ নতুন কোন পরিবেশে গিয়ে বেশ কিছুদিন থাকতে হবে ভাবলেই সম্ভব অসম্ভব অনেক কিছুই মনে উঁকি দেয়। নতুন প্রযুক্তিকে মেনে নিতে অনেকেরই একটু সময় লাগে। পুরোনোটাই যেন বেশি ভালো ছিল ।বর্তমান যুগেও ফেসবুক থেকে বিমুখ অনেকেই। ইমেইলের পরিবর্তে কাগজে-কলমে যোগাযোগ করতেই সাবলীল এখনো অনেকে। প্রতিদিন নিত্য নতুন আবিষ্কার, ঘরে -বাইরে নানা পরিবর্তন -অনেক সময়েই  সহজভাবে মেনে নিতে অসুবিধা হয়। অথচ পুরনোকে সম্মানের সাথে মনের স্মৃতিকোঠায় আগলে রেখে ইতিবাচক ভাবনা নিয়ে নবীনকে স্বাগত জানাতে পারলে আমাদের রোজকার  দিনযাপন অনেকটা সহজ হয়ে যায়। তাই নিজেদের প্রয়োজনেই নতুন বছরের শপথ হোক - "স্বাগত নবীন, পুরনো থাক মনে"।


 


ব্যক্তিগত গদ্য


স্বাগত নবীন, পুরনো থাক মনে

বেলা দে



দিন যেতে যেতে যেমন বলে যায় চিন্তা কোরো না আঁধার ফুরোলে প্রভাত হবেই। চৈত্রের ঝরাপাতা ঝরতে ঝরতে জায়গা করে দেয় নবাগতের।আবার আসে নব কিশলয়। পার্থিব জীবনেরা তেমনই চায়
আমাদের সময়কাল তো ফুরিয়ে এসেছে এবার নতুনেরা আসুক, শুরু হোক নব্য প্রজন্মের স্বপ্ন ও সাধনা, সার্থক হোক চাওয়া পাওয়া। অনেক অনেক  উপহার দিও সর্বক্ষেত্রে, মান উন্নত কোরো দেশের আর দশের। শিক্ষা, শিল্প,সাহিত্য, সংস্কৃতি,কলা খেলাধুলা  কিংবা প্রযুক্তিবিদ্যায়। অনেকের মুখে শোনা যায় এই যুগ হাইব্রিড শিশুদের জন্ম দিচ্ছে, ডিজিটাল দুনিয়া তোমাদের হাতের মুঠোয়, প্রযুক্তির মুকুটের
শিরোপা মাথায় নিয়ে উন্নততর তথ্যকেন্দ্রিক পরিসেবক হবে দেশের। তোমাদের কাছে চাইবার আছে অনেক। পুরাতনীর কাল শেষ হয়ে গেলেও স্মৃতির পিঞ্জরে সঞ্চিত রেখো তাদের অবদান যা করে গেছে তারা সেটুকু বুঝতে পারলেই হবে, প্রবাদ বলে "পুরনো চাল ভাতে বাড়ে" সত্যিই শিক্ষনীয় যুক্তি, ওদের থেকে জীবনপাঠ নিলে বরং উপকৃতই হবে।একেবারে ভুলবে না প্রাচীনেরা যা করে গেছে অবশ্যই তোমাদের মঙ্গল চেয়ে। তারা প্রদীপের পলতে জ্বেলে যাপনের মস্ত কর্মযজ্ঞ পালন করে গেছে। আবাহন করি তোমাদের দেশের ভাষা, সাহিত্য সংস্কৃতি, শিল্পকলা তোমার সম্পদ, অস্তগামী হতে দেবে না কোনদিনও অশুভশক্তির প্রলয়ঙ্কর ঝড় উঠলেও না।


 

নিবন্ধ 


স্বাগত নবীন, পুরনো থাক মনে
শুভেন্দু নন্দী 

নবজাতককে ঘিরে শঙ্খধ্বনি বেজে ওঠে। মাতৃজঠর থেকে ভূমিষ্ট হয় সে, তার অজানা অদেখা এই বিরাট পৃথিবীতে। কেঁদে সে আকুল  হয়ে ওঠে ।সমগ্র ধরনী তা দেখে আনন্দে হেসে ওঠে। তাকে "নবীন শিশু" বলে স্বাগত জানায়। মা-বাবার তাকে ঘিরে অনেক স্বপ্ন, প্রত্যাশা জেগে ওঠে। মনের মত তাকে লালন-পালন করতে চেষ্টার ত্রুটি করেননা তাঁরা ।তাঁদের স্নেহে, আদরে, ভালোবাসায় ধীরে ধীরে সে বেড়ে ওঠে ও বড়ো হয়। ঠিক যেমন ছোট্ট বীজের মধ্যে বিরাট গাছ নিহিত থাকে। মানুষের ভালোবাসায়,পরিচর্যায় প্রথমে জন্ম নেয় চারাগাছ। তারপর অনুকূল পরিবেশে, মানুষের ছত্রছায়ায় তা থেকে কচি ডালপালা,পাতা গজায়। আস্তে আস্তে বড় বড় শাখা-প্রশাখায়,ফুলে-ফলে এবং একসময়ে বিরাট গাছের সে পরিনতি লাভ করে। আর বৃক্ষ কেমন - তা ফলেন পরিচয়তে। অর্থাৎ 'নবীন অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে 'প্রবীণ 'গাছে তার রূপান্তর।  নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফুলে,ফলে পল্লবিত হয়ে এক সময়ে
শাখা-প্রশাখা যুক্ত এক বিরাট মহিরুহে তার প্রকাশ ঘটে যায়। জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা থেকে শিশুও ক্রমশঃ পরিনত--প্রাপ্ত হয়। বাবা-মায়ের শিক্ষাদীক্ষায় সে নবীন থেকে আস্তে আস্তে শিশু, কৈশোর,যৌবন থেকে বার্ধক্যে উপনীত হয়।  তার প্রবীণত্ত্ব প্রকাশ পায়। জীবনের সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার জন্য বাবা-মা তাকে অনুপ্রেরণা , সাহস জোগান। সাফল্যের উঁচু সোপানে পৌঁছুতে  অনেক বুদ্ধি,সাহস,পরিশ্রম, মেধা,জ্ঞানের প্রয়োজন হয়। আর পরাজয় থেকেই তো সাফল্য আসে। কারণ পরাজয়ইতো সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বা পাসওয়ার্ড।  নবীন থেকে প্রবীণ-জীবনের সব অবস্থাতেই মা-বাবাই পথ-প্রদর্শক। সব প্রতিকূলতাকে পেরিয়ে একসময়ে তথাকথিত শিশুর সত্যিকারের মানুষ হয়ে ওঠা আর সমাজের মুখ উজ্জ্বল করার প্রচেষ্টা ।  তাই নবীন অবস্থায় যে শিশুর কান্না দেখে সমগ্র জগত হেসে ওঠে,তার মধ্যেই তো লুকিয়ে থাকে আগামীতে বিরাট প্রতিশ্রুতি ও সম্ভাবনা। আর এই আশায় মা-বাবা তাদের উপযুক্ত ভাবে তৈরী করেন। তাঁদের এই ঋণ অপরিশোধ্য।  তাদের ভুল-ত্রুটিগুলো সংশোধন করার দায়বদ্ধতাও মা-বাবার উপর বর্তায়। .....ঋতুচক্রের পালাবদলে বছর শুরু হয়। আবার একবছর পরে তার সমাপ্তি ঘটে। বছরের প্রথম দিনটিকেই সবাই স্বাগত জানায়। নতুন সূর্যের আগমনের সাথে সাথে  গানবাজনা,নাচ ইত্যাদি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই দিনটিকে বিশেষভাবে পালন করা হয়। আগামী দিনের অনেক প্রত্যাশা ঘিরে এই অনুষ্ঠানের  আয়োজন হয় স্বতঃস্ফূর্ততার সঙ্গে। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত,ঘটনা-দুর্ঘটনা, ভালোমন্দের ভেতর দিয়ে বছর শেষ হয়। অনেক স্মরণীয় ও উল্লেখযোগ্য ঘটনা যেমন মনকে উজ্জীবিত করে  তেমনি অনেক অপ্রীতিকর, অবাঞ্ছিত  ন্যক্কারজনিত ঘটনাও মনকে বিষাদগ্রন্থ করে তোলে। তবে ভালো, রুচিশীল,মহৎ ও সাহসিকতার ঘটনাগুলোকে নতুন
বছর পদার্পনের পরে সবার বিশেষভাবে স্মরণ রাখা উচিত। সেটা মনে রেখেই নতুন বছর উদযাপন করা  একান্ত কাম্য। বিগত বছরের বিশ্রী, অশুভ,কুৎসিত, অপ্রীতিকর ও খারাপ ঘটনাবলী মন থেকে একেবারেই মুছে ফেলা উচিত এবং নতুন বছরে তার থেকে পুরোপুরি প্রভাবমুক্ত থাকা উচিত-অর্থাৎ নবীনকে স্বাগত জানানোর অগ্রাধিকার আর পুরনোকে একেবারেই অস্বীকার করা যাবেনা, তবে ভালো ঘটনাকেই শুধুমাত্র মনে স্থান দিতে হবে। নতুন বছরে অন্যান্য অনেক ভালো কিছুর সাথে এটাও হবে রেজলিউশন। 


 


কবিতা 


নিতান্ত নৈর্ব্যক্তিক 
         শ্যামলী সেনগুপ্ত 

তারপর আরেকটা ঘন্টা বাজলো
আর তাপমাত্রা কমে গেলো
আরও এক ডিগ্রি সেলসিয়াস
আমরা তোমাকে সি-অফ্ করবো বলে
জড়ো হয়েছিলাম 
ওই বিশাল ঘন্টার নীচে...

বল্গা হরিণের নিবিড় শিঙে তখন তুষারকুচি
স্লেজগাড়ির চাকার তলায় বরফ ভাঙছে
মড়মড়...অবিকল আগস্টের রাতে
ঘাড় ভাঙার শব্দ...

বছর শেষে তুমিও কি ক্যালেন্ডারের 
শেষ পাতায় চলে গেলে!
তাপমাত্রার পারদ কমছে
উত্তেজনায় জং ধরছে ক্রমশ
আমাদের ঘুম পাচ্ছে খুব
এসো,ঘুমিয়ে পড়ি
কাল সকালে বরং তোমাকে একবার 
মনে করে নেবো।

আমাদেরও তো ক্যালেন্ডারের পাতা ধরে
চলতেফিরতে হয়...
বাৎসরিকের সময় হয়ে এলো যে!


 

কবিতা 


নতুন সকালে

প্রাণজি বসাক


একটা লোভ নিয়ে উত্তর-দক্ষিণ করেছি হরহামেশাই 

আর নিটোল চিকন লোভ ছুটে বেড়ায় পুবে পশ্চিমে 


জীবনের কোনো রেখাই সমান্তরাল চলে না খেয়ালে 

সময় কীভাবে উড়ে চলে এ প্রশ্ন রাখে বয়স আঠারো  


ভিনদেশী গানের তালে ওড়ে ওড়না অঘ্রানের বাতাসে 


গোলাপি হাওয়ামিঠাইয়ের লোভাতুর এক বয়স ছিল

সাদাবকেরা খুঁটে খায় মাঠের অহংকার নতুন সকালে 


 

ছড়া ও আঁকা


ট্রেডিশন
অশোক কুমার ঠাকুর








আধুনিক মেয়েরা স্যুটেড বুটেড
হরদম হরেক সেলফি সুটেড
খোঁজ নিয়ে দেখো ভাই
যা ছিলো আজো তাই
অভয়া তিলোত্তমার ইজ্জত লুটেড। 


 

কবিতা 


দিন যায় দিন আসে

মাথুর দাস


চলে যাওয়া দিন গলে যায় ক্রমে,

বলে যায়, আছি স্মৃতিতে ।

সুখ দুঃখ হর্ষ বিষাদ নানান কর্ম,

কলহ ও প্রেম প্রীতিতে ॥


আগামী দিনের বীজ বোনা থাকে

বর্তমান আর অতীতে ।

দিন যায় দিন আসে কাল-নিয়মে,

চিরায়ত তার গতিতে ॥


চাওয়াপাওয়া করে মনে আসাযাওয়া,

চাইলে কি আর পাই সব ?

আশার জীবনে শুধু ভাসাডোবা সার

খাবি খেয়ে বাঁচো ভাইসব ॥


 

কবিতা 


ননসেন্স

দেবর্ষি সরকার

ন্যাপথলিনের ভর্তি কৌটোর মধ্যে যদি কিছু থাকে তবে সেটি শান দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে।
একান্তই নীতি কথা যদি মুছে দিতে হয় তবে সেটা কল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পড়তে পড়তে যে ছেলেটি ওই মেয়েটির প্রেমে পড়েছিল তারা আজ প্রত্যেক রাতে ওই ন্যাথলিনের গন্ধ শুকতে যায়।
ফিনিক্স পাখির মত ভাবনা গুলিকে পরিষ্কার করবার জন্য সেই ন্যাপথলিন বড় প্রয়োজন।
বায়োলজি প্র্যাকটিক্যাল করতে গিয়ে যে ছেলেটি ও মেয়েটি পরস্পরের কাছে এসেছিল তারাও আজ ওই ন্যাপথলিনের জলে হাত ধুতে ব্যস্ত।
নীতিকতার সমুদ্র যদি শেষ না হয় তবে সে জলে একটু ন্যাপথলিন গুলে দিও।


 

কবিতা 



ভাগ শেষ

চিত্রা পাল


ঘুমের গভীরে লুকিয়ে থাকা বীজ

পাখা মেলে সাতপুরু পলির তলা থেকে।

কখন যেন বৃষ্টি হয়েছে,সে বৃষ্টি

ছুঁয়েছে তাকে। তারপর বয়স পাওয়া

শাখা কখন যেন অন্যের সঙ্গে বিনিময়

করে হাসি। এ বিনিমিয় চলতেই

থাকে একে অপরের মাঝে। এইসব

যোগ হতে হতে কখন যেন বিয়োগ-

শুরু হয়ে যায় অজানা ক্ষনে।জানি না।

তবু মেনে নিই পড়ে থাকা কিছু

ভাগশেষ ,যদি সৌরভ ছুঁয়ে থাকে।


 

কবিতা 


সবুজ 

অমিতাভ চক্রবর্ত্তী 


তারায় ভরা রাত নিঝুম হয়নি এখনো 
নীরবতায় আঁকা আগামীর প্রতিশ্রুতি 

বাঁশে গেঁথে থাকা নাভি 
 কাঁদাতেও ফোঁটায় পদ্ম ফুল

মেমোরি লেনে হেঁটে গেলে 
রাতের অন্ধকারে আলো দেখায় নতুন সূর্য

সাদা আলোর প্রিজমে বর্ণচ্ছটা।

ভোর আসুক ভরে যাক সবুজ।।


 

কবিতা 



স্মৃতির নিয়মভঙ্গ
    তন্ময় ধর 


স্মৃতির নিয়ম মেনে আমিও চোখ সরিয়েছি। 
বাকিটুকু স্রোত

 স্রোতের শীতলতায় 
অদৃশ্য হয়ে উঠছে এই নদীর তৃষ্ণার স্তব্ধতা

দৃশ্যের আস্তরণ 
ভরে উঠছে না শঙ্খচিলের পায়ের ছাপে

শিথিল ঠোঁটে 
অবিশ্বাসী হয়ে উঠছে জল 


 

কবিতা 


বাসটি

রাজর্ষি দত্ত


বাসটি থামল স্টপেজে। আমিও নেমে,

দেখলাম ব্যাকলাইটের লাল রঙ ঘন কুয়াশায়

ফেঁপে উঠেই ফ্যাকাশে হয়ে গেল ধীরে ধীরে ;

তখন নীল ধুতরোর মত গভীর রাত।


সেখানে কোন মুখ পেলাম না অপেক্ষারত ।

বাসেও তেমন কেউ ছিল কি ?

তবু চেয়ে রইলাম অদৃশ্য যানটির দিকে-

যেখানে কিছুক্ষণ আগেই আমি ছিলাম।


পথ অতিক্রম করেই আসে গন্তব্য;

অথচ শেষ হয়নি জাড্যতার দিনলিপি !

চলন্ত বাসের ঝাঁকুনি, ঠাণ্ডা হাতল, সিটে রেক্সিনের –

গন্ধ – সুতীব্র আশ্লেষের কথা বলে তাই ।


গুটি গুটি পায়ে ঘিরে ফেলে কুয়াশা,

নির্বাক কোন ভাগ্যাহতকে !

সামনের দিকে চেয়ে যে চায় ডুবতে -

একটু বা আরেকটু অতীতের স্মৃতিতে।


 

কবিতা 


বালির শহর
প্রতিভা পাল 

একটি আস্ত মরুভূমি বুকের ভিতর রেখে
খামখেয়ালি মনে খুঁজে চলি বালির শহর!
মরীচিকার মতো চকচকে কিছু অবয়ব -
হন্যে হয়ে হেঁটে চলি তৃষ্ণার্ত আগামীর বাঁকে!
অতীতের বলিরেখা ধরে 
এক পা দু'পা পিছিয়ে গেলে
হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ে স্মৃতির কোলাহল!
অথচ ব্যর্থতারা বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে ধ্বস নামালেও
দাঁড়িয়ে থাকার জো নেই এক মুহূর্ত,
এরই নাম হয়তো বালিয়াড়ি জীবন!

আমি আঁজলা ভরে গোধূলি ধরে তাকিয়ে থাকি, 
দেখি, ফুরিয়ে এলো মরুদ্যান সাজ!
দেখি, ভোরের চিরকুটে মরুরাতের নিস্তব্ধতা। 
ওয়াদি বরাবর কেবল অদ্ভুত শূন্যতা, শুষ্কতার....


 

কবিতা 


অহংকারী 
 সারণ ভাদুড়ী

প্রয়োজন নেই  জোৎস্নাময় রাতের ,
 আমার প্রিয় নাম না জানা তারকার দল।
 চাঁদের আলোটা আজ খুব প্রখর লাগছে 
হয়তো ফোসকাও পড়ছে ওতে !
তাই আজ ছেড়ে দিলাম চাঁদের জন্য কাব্য।
 আমি এখন কেবলই
 সেই নাম না জানা তারাদের কবি।

 অমাবস্যায় যখন থাকে না 
কাব্য প্রিয় সেই চাঁদের অস্তিত্ব ; 
তখন আমায় পথ দেখিয়েছে ওই তারকার দল ই ।

যখন চলেছিল ধ্রুবতার সংগ্রাম 
তখনও পেয়েছিলাম এদেরকেই 
তাই আজ  ছেড়ে দিলাম অহংকারী চন্দ্রকে।
 বললাম মহাবিশ্বকে, "  আপন করো আমায় আমি;  এখন তোমাদেরই কবি। "


 

কবিতা 


হৃদয়ে প্রবীণ জীবনে নবীন 

প্রাণেশ পাল 


বর্ষশেষের বিদায় বেলায় স্মৃতিমেদুরতায় ভারাক্রান্ত মন, 
সময় দৌড়ে যায় উলম্ব স্মৃতি সাথে,
অভিসারী বিকেলে স্মৃতি রোমন্থনে জীবন !
সময়ের ভাঁজে ভাঁজে জমা থাকে
পুরোনো স্মৃতি কথা ইথার আকাশে !!

সময়ের আপেক্ষিকতায় দিন পুড়ে ছাই হয়ে যায়,
ভস্মে খুঁজে ফিরি পুরোনো মানুষের স্মৃতিচিহ্ন, 
স্মৃতির জলছবিতে ভেসে উঠে হারানো প্রিয়জন !
শীতের নিশি রাত,লক্ষ তাঁরার মাঝে খুঁজি
হারিয়ে যাওয়া মা,বাবা,আপনজন !!

সিন্ধু সভ্যতা থেকে ডিজিটাল সভ্যতা
জীবন বহমান সময়ের দাবীতে,
তীব্র স্রোতে বাঁচার তাগিদে আঁকড়ে ধরি
আমাদের উত্তর পুরুষ, নবীন জীবন ।।

কালের নিয়মে সময়ের ঝরাপাতার এপিটাফে
লেখা থাকে প্রবীণের জীবন উপন্যাস !
কিশলয়ের পাতায় পাতায় লেখা শুরু হয় 
নবীন প্রজন্মের স্বরবর্ণ,ব্যঞ্জনবর্ণ,
হৃদয়ে প্রবীণ,জীবনে নবীন,শুরু হোক
নতুন বর্ষবরণের পথচলা --------।।


 

কবিতা 


ক্লান্তিহীন
গৌতম সমাজদার 


দেখছো, শব্দেরা ছুটে চলেছে
কখনো দুলকি চালে, কখনো মেঠো সুরে
ছুটেই চলেছে, অবিরাম, অবিশ্রান্ত 
কখনো ছুটে চলেছে, দুদ্দার বেগে,
কখনো আবেগমথিত হয়ে।
কখনো শ্রমিকের ক্লান্ত পায়ে
কখনো রাষ্ট্রশক্তির ভারী বুটের বিরুদ্ধে
কখনো বা নৈঃশব্দ্যে নৈবেদ্য সাজিয়ে 
তবু ওরা ছুটছেই, অণু, পরমাণুর বেগে
শব্দেরা কবিতা লেখে,
ভেঙ্গে ফেলে বাধার প্রাচীর। 
কৃষকের লাঙ্গলে, শ্রমিকের হাতুড়িতে।
শব্দ গর্জে ওঠে, লাল চোখের বিরুদ্ধে।
শব্দেরা ক্লান্তিহীন, জেগে থাকে রাত
জাগিয়ে রাখে আমাদের সত্তা---


 

কবিতা 


কবিতা ওল্টাই

কল্যানী মন্ডল


শব্দেরা বুকের ভিতর কেমন বেরুনোর জন্য
হাবুডুবু করতে থাকে,
খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসার প্রাণপন চেষ্টা৷
কত কান্না কত দুঃখ অভিমান,
জমিয়ে রাখা দূর্ভেদ্য কথার পাহাড়,
সবটা ভাসিয়ে দিতে চায়৷

শুনতে চাইনি কেউ কর্ণপাতও করেনি
কত এলো কতই তো গেলো,
কেউ করেনি খোঁজ————
আজ অপরাহ্নের অবসরে
স্বপ্নের দিনলিপি৷


 

কবিতা 


রোদ
রীতা মোদক


ওদের পাড়ায় রোদ এসেছে
আমাদের পাড়ায়  মাঘের শীত

তোমার উঠোন রোদ ঝলমলে
আমার উঠোন শীত কনকনে

তোমার ঠোঁটে লাল গোলাপ
আমার ওষ্ঠ ফেটে লাল

তুমি দেখো সূর্য্যমুখী
আমার চোখে সর্ষে ফুল

তোমার- আমার বিভেদ ভাঙবো
আমায় একটু রোদ দেবে?


 

কবিতা 


হলুদ ওড়নায়

অসীম মালিক 

কোথায় যাবো শৈশবের স্মৃতি ভুলে?

অনেক ভেবে চিন্তে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত 

তাই আজীবনের জন্য স্থগিত রেখেছি।

যতই তমশা আমাকে জাপটে ধরুক, 

থেকে যাবো এই চরাচরেই।

অস্থির সময়ের কোলে মাথা রেখে 

তাকে জুলিয়েট বলেই ডাকব।

চুলে বিলি কেটে বলবো -

তোমার যত ক্ষত আছে আমাকে দাও।

আমিও পুড়ে ছাই হতে চাই সময়ের আঁচে।

চোখের আগুনেই ঘৃতাহুতি দেব,

আমৃত্যু যাবনা কোথাও?

অস্থির সময়কে প্রিয়তমা ভেবে 

দুচোখের জল মুছবো তার হলুদ ওড়নায়।


 

কবিতা 


কেটে গেলো একটা বছর 

মহঃ সানোয়ার 


ঘুম ভাঙা সকালে হিমেল হাওয়া জানালা ছুঁয়েছে যেই 
দূর থেকে কোন বৃদ্ধের কাশি জানান দিল ডিসেম্বর শেষ।
ফিরে দেখা পুরনো বছর; পুরনো স্মৃতি 
অনেক খারাপের মাঝে, একটু ভালো রয়ে গেছে বরাবরই।
কিছু ভালো, কিছু খারাপ অভিজ্ঞতা নিয়ে শেষ হওয়া বছরটা 
না হয় ঝুলে থাক শোবার ঘরের বন্ধ শিলিং ফ্যানে।

গাঁদা ফুলের চারা, একমুঠো কুয়াশা আর ব্যালকনিতে
লেগে থাকা রোদ্দুর আজ আত্মহারা নতুন বছরের আগমনে।
তবুও সময় লাগবে, নতুনের সাথে নিজেকে মানাতে।
গাছের পাতা থেকে ঝরা কুয়াশা, মাটিকে ভিজিয়েছে যত
ভুলে যাবো পুরনো স্মৃতি, প্রতিবছর এমন প্রতিজ্ঞা করেছি কত ।


 

কবিতা 


স্বাগত নবীন

সুনন্দ মন্ডল

স্বাগত নবীন, পুরোনো থাক মনে

জীর্ণতা ভুলে, আগামী নাও মেনে।


সুস্থ থাকুক আগামী, হোক একটু রঙিন

ভালোবাসায় ভরে থাকুক সারাটা দিন।


অন্ধকারের ঘুম কেটে বেরিয়ে আসুক মুখ

চাদর উঠিয়ে তাকিয়ে দেখো ভাসছে সুখ।


তোমার হাতে লিখে রাখা পুরোনো জীবন

মুছে যাক নতুন আলোয়, ছন্দে থাকুক গান।


হাজার দুঃখ মোড়া থাকুক, বুকের সিন্দুকে

হৃদয়ে তবু ভাসুক রোদ নতুন উৎসুকে।




কবিতা 


ইচ্ছে ছিলো

দীপাঞ্জন দত্ত


একটি ইচ্ছে আমার ছিলো
                      এখনো আছে।
যা চেয়েছি তা পাইনি ফেরত
                      আমার কাছে।

ফেরত আমি নেবই যখন 
   আঁকড়ে কেনো আছো।
একলা হয়েই চলতে শিখে
       একলা হয়েই বাঁচো।

মানুষ যখন একাই বাঁচে
এক পা এগোয়ে সর্বনাশের।
পরস্পরে মিলতে এখন
              সবাই ভূলে গেছে।

একটি ইচ্ছে আমার ছিলো
                      এখনো আছে।
দেখবো আমি সবাই কেমন
                একলা হয়েই বাঁচে।


 

কবিতা 


অন্তরের টান    
আশীষ কুমার চক্রবর্তী

শ্রদ্ধা ,ভক্তি রেখ ,পিতামাতা গুরুজনে
অন্তরের শ্রদ্ধা ঢেলে ,দিও ও চরণে।
কর্ত্তব্যের টানে দেখি, ভালবাসাবাসি
অন্তরে কান্না আর মুখে ভরা হাসি।
অন্তরের ভালবাসা ,যদি নাহি থাকে
কখনও দেবে না সাড়া যদি ডাকো তাকে।
কারো ভালবাসা যদি ব্যথা দেয় বুকে
আজীবন কেঁদে মরে অন্তরের দুখে।
কর্ত্তব্যের টানে ভালবাসা,হয় না চিরস্থায়ী 
অন্তর হতে ভালবাসা  আমৃত্যু থাকে জাগি।



কবিতা 


এভাবেই যদি প্রেম হতো

সুস্মিতা ঘোষ

 

এভাবেই যদি প্রেম হতো...
যেভাবে স্থির পাথরের বুকে সবুজের আধিপত্য 
সহাস্যে বয়ে যায় খরস্রোতা ।

সলাজে মুখ ঢেকে রাখা মৃত্তিকার 'পর
বিন্যস্ত সবুজের আঁচল –
এখানে সবাই একসাথে থাকে, 
পাহাড় , নদী , জলাভূমি আর জঙ্গল‌।

পথ ভুলে যায় কোথাও যেখানে পথিক 
নিজে বা নিজ দোষে, 
সবুজের সমারোহ এনে দেয় মুগ্ধতা 
রোদ্দুর কোথাও অর্ধ-নির্বাসিত
বন্যের প্রিয় উষ্ণতা ।

ভালোবাসাকে কখনো মাপতে হয়নি বিশ্বস্ততা
তাকে কষতে হয়নি কোনো অঙ্ক, হিসেব।
পাহাড়, নদী, জঙ্গল মিলেমিশে আছে
আমাদের কথা আজ আড়ালে থাক।

প্রেম যদি হতো ওদের মতো করে...
অগোছালো, বন্য, সুন্দর ;
এভাবেই যদি হতো প্রেম, আমাদের!
                      



 

কবিতা 

নতুন পথের দিশা
 বিজয় বর্মন

নিজেকে যতটা চেনা , তবু পথ চলা 
অজানা পথিকের মতো,
এগিয়ে যাচ্ছে পা, 
গতি,নাকি বেগতিক জানি না,
তবু চলা আর চলা,
কিছু কথা বলা,এই টুকু তো থাকে,
ভালোবাসা দিয়েছি যাকে,
অজানা পথিকের মতো, নতুন পথের দিশা।

না জানি কতোটা অবোধ,
খুঁজে খুঁজে ফেরে প্রতিশোধ,কি আর হবে বলো,
কাঁধে কাঁধ দিয়ে চলে মন্দ আর ভালো,
ধিক শত ধিক,মাথা নিচু হলে,
নিভু নিভু ঐ মোম টুকুই জ্বলে, নতুন পথের দিশা,
চক্রাকারে আসে অমানিশা।

অজানা পথিকের মতো,
এগিয়ে যাচ্ছে পা,
এড়িয়ে যাওয়া কি গেল না? কে আসলো আর কে আসলো না,
বুঝতে তো হবে,আর কবে? আর কবে!
সব ভালোবাসা জল,
ছলনা আসে আর যায়, 
কোথায় সমাপ্তি ভাবনা বিফল।

তবু পথ চলা, হোক না একলা,
নতুন পথের দিশায়, তবু পথ চলা।