Friday, October 9, 2026


 

শিল্পী- তিথি পাল সরকার 





শিল্পী- হৃদান সরকার, দ্বিতীয় শ্রেণি 





 


 

দুগ্গা এবার আসুক

সোমা দাশ

 

বিষাদমুঠি খোল

মুক্তোদানা ঝরুক,

লজ্জামুঠি খোল

কথারা সব ফুটুক,

মনের আগল খোল

মুক্ত বাতাস ঢুকুক,

ভয় গুলো সব মোছ

আঁধার যত কাটুক,

মেঘের চাদর সরাও

শিউলিরা খুব হাসুক,

টলমলে সরোবরে

দেখ পদ্মে ভ্রমর ঘোরে,

মাঠ ভরা কাশবনে

দুগ্গা এবার আসুক।


 

পূজা এলো

বি এম মিজানুর রহমান 

পূজা এলো শারদীয় 
সবাই খুশি আজ,
মন্ডব জুড়ে বেড়ে গেছে
নানান রকম কাজ।

দেবী এলো দারুণ সাজে
মিষ্টি ভীষণ মুখ,
যতো দেখি ততো তারে
লাগে মনে সুখ।

ঠাকুর মশাই ব্যস্ত ভারি
মন্ত্র জুড়ে সুর,
পূজা এলো দূর হয়ে যাক
অশান্তি যে দূর।

সমাজ থেকে উঠে যাক সব
অনাচার আর ভয়,
জয় মা দুর্গা দেবী মাতা
হোক তোমারি জয়


 

রোদন ভরা আগমনীর সুর

       কবিতা বণিক


শরতের সোনালি রোদ হৃদয় রাঙায়।
মেঘেরা নিয়েছে ছুটি শরৎ বেলায়।
কত শত কাশফুল হাসে দুলে দুলে।
শিউলিরা আগমনীর ঘোষণায় আলপনা আঁকে।

হঠাৎই সহস্রফণা জালে ধেয়ে আসে গর্জন তুলে
মুহূর্তে তাথৈ তাথৈ রবে লণ্ডভণ্ড করে ধরা তলে।
কত মানুষ, পশু, বাড়িঘরের হল ধ্বংস স্তুপ
মৃত্যু আর ধ্বংসের লীলায় দেখি কালভৈরবের রূপ।
বিষাদ-বেদনা ভরা কত না ব‍্যথাতুর হৃদয়
ইচ্ছেগুলো ডানা মেলে নীলকণ্ঠ পাখির পাখায়। 

মাতা পার্বতী ! দয়া করো তোমার সন্তানদেরে
শরত আলোর কমল ফোটাও দিশেহারা আঁধারে।
শারদ আকাশে মাগো ভাসাও তোমার আঁচলখানি,
শিশির সিক্ত শিউলি গন্ধে মুছে যাক যত গ্লানি।।

হিমালয়ের উপর যুগে যুগে তপস‍্যারত হাজারো মুনিঋষি।
জানার নেশায়, মানুষের লোভে আজ ক্ষত বিক্ষত দেবভূমি।
 ক্ষুধিত, তাপিত,লোভাতুর সব হৃদয়ের হয়ে ক্ষমা চাই, মাগো! 
প্রকৃতিরূপিণী হে গিরিজা! তোমার চরণ চুমি।।

 




রাম বাবু

সুশান্ত সেন 

                 
রাম বাবু ঘুরছেন এ ঘর ও ঘর 
ঘুরে ঘুরে তার বুক করে ধর ফর ।
ডান বুকে চিন চিন কি যেন কি ডাকে
শোনা যায় না কিছু পড়েন বিপাকে,
বঙ্কা কে ডেকে বলে 'ওরে শোন শোন 
বুকে কান দিয়ে ভাই শব্দটা গোন।'
একটা মিনিটে বুক কতবার বাজে
গুণে বল শিগগির' -বেহাল মেজাজে।
বঙ্কা ত ঘুম ভেঙে চোখ কচলিয়ে
শব্দ শুনতে বসে বুকে কান দিয়ে,
লোমে ভরা বুকে তার লাগে শুড়শুড়ি
হৃদয়ের শব্দের নেই কোনো জুড়ি ।



 

পরীর ছুটি

মি ষ্টু স র কা র


সূর্যটা চড়া হলো মেলে তার পাখা
সিলেবাসে ছুটিছুটি কতোরঙে আঁকা।

হাঁপছেড়ে বাঁচে ব্যাগ হাঁপছাড়ে পরী 
মনেভাবে গেমটাকে মোবাইলে ভরি।

একগাদা হোমটাস্ক গোটা মাস জুড়ে 
করতেই হবে শেষ সব-খাতা ভরে।

ইংরেজি অঙ্ক’টা প্র্যাকটিস করে 
মা’বলে এইবেলা রেখো শেষ করে।

নয়টায় আবৃত্তি, দুপুরেতে আঁকা 
বিকেলে নাচের ক্লাস নেই কোনো ফাঁকা।

অ্যাবাকাস, সাঁতার তো রোজকার রুল
ক্লান্তিতে ঘুম এসে চোখ ঢুলঢুল।

মোবাইলে প্রোজেক্টটা কমপ্লিট করে 
মনে ভাবে অ্যাপটাকে দেবেই উড়িয়ে।

একদিনও পার্কঘোরা হলোনা এবার 
মামারবাড়ি ! সেতো এক্সামের পর !

রেগে বলে ওমা আমি খেলবো কখন?
রুটিন মাফিক চলে ছুটি যে খতম ।


 

আগমনী সুরে শারদোৎসব

নবনীতা রক্ষিত


শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা,

মর্ত্যে আজ শুরু হলো আনন্দের খেলা।

কাশফুলের দোলাতে ভেসে আসে সুর,

মা দুর্গা আসছেন কত দূর-দূর।

 

ঢাকের কাঠিতে আজ বাজে আগমনী,

জাগে রে বাঙালির হৃদয়ের মণি।

আশ্বিনের দিনগুলোতে মাতোয়ারা মন,

পূজোর সুবাসে ভরা সারাটি ভুবন।

 

ষষ্ঠীতে বোধন আর সপ্তমীর আলো,

অষ্টমীর অঞ্জলি মনে লাগে ভালো।

সন্ধিপূজোর প্রদীপেতে ভক্তির ছোঁয়া,

নবমীর সাঁঝবেলা যেন স্বপ্নে ছাওয়া।

 

নতুন জামা পরে সব শিশুর হাসি,

পূজোর এই চারটে দিন বড্ড ভালোবাসি।

প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে কত রঙের বাহার,

উৎসবে মুছে যায় ভেদাভেদ আর।

 

দশমীতে বিজয়ার বিষাদের সুর,

মা যে ফিরে চললেন কৈলাসে দূর।

চোখের জলে বিদায় জানিয়ে বলি আবার—

"আসছে বছর আবার হবে," শুভ কামনার পার।



জগত জননী 

পৃথ্বীরাজ কামিলা 



"তুমি দুর্গতিনাশিনী তুমি দুর্গা 
তুমি জগত জননী মা।"
অশুভ অসুর হতে করো হে ত্রাণ 
দুর্গা রূপে মানবের মাঝে বাঁচাও হে প্রাণ।
অন্নপূর্ণা রূপে তুমি করিছো তারে ধরিত্রী শস্য শ্যামলা 
আনন্দ আবেগে মুখরিত বসুন্ধরা।
মা যে আমার নব সাজে হলো কলা বউ
মায়ের নয়টি রূপের কলা বউ দেখেছো কি কেউ ?
শরতের কাশের বনে দোদুল দোলা পেঁজা তুলোর মেঘে আগমনীর আনমনা।
শরতের সকালের স্নিগ্ধতায় ভরা শিশিরের স্পর্শে শিউলি ছড়ানো।
শিউলি তলায় পড়ে আছে যেন মায়ের নুপুরের ছন্দ -
শিউলি তলায় আমি যেন পাই মায়ের নুপুরের পদধ্বনির ছন্দ ,
স্নিগ্ধতায় মুখরিত বসুন্ধরা ছড়ানো গন্ধ।
কৈলাস হতে মা এলো তার বাপের বাড়ি, সবাই করবে আনন্দ।
কয়েক দিন বাপের বাড়ি থেকে মাতা পার্বতী 
মনটা সবার বড়ো খারাপ, যাবে যে চলে - পর্বতে তোমার গতি।।