Friday, October 9, 2026


 

মহৎ হৃদয় 

শুভেন্দু নন্দী


ট্রেনটা দাঁড়িয়ে পড়েছিলো একটা অখ্যাত স্টেশনে। হয়তো সিগন্যাল পায়নি।  প্লাটফর্মে লোক নেই বললেই চলে।  ভেতরের কামরায় বসে থাকা যাত্রীরা  বেশ অধৈর্য হয়ে উঠছিল  ক্রমশঃ। অনেকে আবার ডিসটেন্ট সিগন্যাল দেখার জন্য উঁকিঝুঁকিও মেরে দেখছিলেন। বিচিত্র সব কথাবার্তা ভেসে আসছিলো। যাই হোক, ট্রেন শেষ পর্যন্ত ড্রাগনের মতো গর্জন করে  নিঃশ্বাস ফেলতে ফেলতে বড় এক জংশনে এসে থামলো। সঞ্জয় ধীরে সুস্থে ট্রলি ব্যাগ নিয়ে নিচে প্লাটফর্মে অবতরণ করলো। একটা অটো রিকশা হাতের কাছে পেয়েও গেলো। স্টেশন অতিক্রম  করতে না করতেই বৃষ্টির দু-এক ফোঁটা পড়তে শুরু করল। ছাতা অবশ্য কাছে আছে। স্টেশনের বাইরের রাস্তায় অটো রিকসা প্রবেশ করলো।   কলকাতামুখী হোতে  হয়েছিল তাকে একটা চাকরির ইন্টারভিউ দিবার জন্য। সেখান এক কলেজ বন্ধুর বাড়িতে একরাত কাটিয়ে এসেছে সে। খুব ভোরবেলায় রওনা দিয়েছিলো কলকাতা থেকে।

চলতে চলতে হঠাৎ তার সমস্ত ইন্দ্রিয় সজাগ হয়ে উঠলো। এক বৃদ্ধা মহিলা উল্টোদিক থেকে আসছিলেন একহাতে লাঠি ঠক ঠক করে, অন্য হাতে একটা পুঁটলী, বোধ হয় তাতে ছিল ভিক্ষা লব্ধ কিছু। বাঁদিকের একটা কোনে বসে চট পেতে যখন তিনি পুঁটলী  খুলতে  উদ্যত হলেন, দেখলেন একটা কুকুর লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তাঁর দিকে। বৃদ্ধা রুটির ভগ্নাংশ থেকে একটা টুকরো তার দিকে ছুঁড়ে দিলেন। কৃতজ্ঞতায় কুকুরের চোখ চিকচিক করে উঠলো। দেখে বৃদ্ধার মন যেন প্রসন্নতায় ভরে উঠলো। সঞ্জয় মনে মনে ঐ বৃদ্ধাকে প্রণাম জানালো।

No comments:

Post a Comment