Friday, October 9, 2026


 

শিল্পরসিকের দায়িত্ব

লিপিকর  


কিছু মাস আগে লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে - বর্ণাশ্রম সংক্রান্ত তাঁর ধারণা, অনুকূল ঠাকুরের প্রচারিত মতের প্রতি তাঁর দীর্ঘকালীন অনুরাগ, তাঁর কলম পেষার মূল পেশাগত আকর্ষণ হিসেবে অর্থাগম-সম্বন্ধিত-ভাবনা এবং পাঠকপ্রত্যাশা নিয়ে উদ্বিগ্ন না থাকা - এমন কয়েকটি বিষয়ে তাঁর বক্তব্য সমাজমাধ্যমে এক বহতা আলোচনার সূত্রপাত করেছে। অনেকেই ব্যক্তি শীর্ষেন্দু ও তাঁর বিশ্বাস সম্বন্ধে নিজনিজ হতাশা প্রকাশ করেছেন, বহু মানুষ তাঁর আগামী সৃজনগুলোর সঙ্গে তাঁর অতীতের সৃষ্টিগুলোকেও নস্যাৎ করে সেগুলো নিজেদের পাঠ্যতালিকা থেকে বের করে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন, কিন্তু এরকম কোনও বক্তব্য বলতে গেলে আমার চোখে পড়েই নি, যেখানে লেখকের ব্যক্তিগত বিশ্বাসের সঙ্গে কঠোরভাবে ভিন্নমত প্রকাশ করেও তাঁর সৃষ্টিকে পৃথক প্রিজমে দেখার প্রচেষ্টা চালু রাখার কথা রয়েছে। এই লেখার ভাবনা সেই দায়িত্বশীল পাঠকের, তথা বৃহত্তর দৃষ্টিতে যে কোনো শিল্পরসিকের, সম্বন্ধে যারা কোনও সৃজনের শাঁসটুকু আস্বাদন করতে ইচ্ছুক, স্রষ্টার ব্যক্তিগত যাপন ও দর্শনকে যারা কোনও শিল্পীর মূল্যায়নের একমাত্র মাপকাঠি ধরে নেন না, বা সমাজমাধ্যমে সেই নিয়ে ক্ষোভান্বিত ১-২ লাইনে নিজেদের রাজনৈতিক সঠিকতার স্বাক্ষরটুকু রেখেই ক্ষান্ত হন না।

সমস্যা

সৃষ্টি ও স্রষ্টাকে একীভূত করে দেখার অভ্যেসটি শিল্পরসিকের পক্ষে একাধিক কারণে সমস্যাজনক।

প্রথমতঃ আমরা সচেতনভাবে এই নাকচ সংস্কৃতির বাইরে পদবিক্ষেপ না করলে আমাদের নিজেদের ভাঁড়ারটি অপূর্ণ থেকে যায়। রাজনৈতিক সঠিকতাকেই একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে প্রয়োগ করলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে নাৎসি ভাবধারা সমর্থনের দায়ে তার প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে নোবেল পুরষ্কার জয়ী ন্যুট হামসুনের লেখা কালোত্তীর্ণ উপন্যাসগুলোকে বর্জন করতে হয়, একই কারণে ৩০-এর দশকে চলচ্চিত্র পরিচালিকা লেনি রিফেনস্টাহলের নির্মিত তথ্যচিত্রে অ্যাথলেটিক্স-এর গতিজাড্যকে সিনেমায় ধরার পদ্ধতিগত দক্ষতাকে উপেক্ষা করতে হয়, বা সাম্প্রতিককালে কবীর সুমনের ব্যক্তিগত যাপন বা বক্তব্য শুনলে হয়তো তাঁর ৯০-এর গান বা সেগুলোর লিরিক থেকে নিজেদের কান সরিয়ে নিতে হয়। এতে ক্ষতি সেই শিল্পীদের নয়, বা অন্যান্য শিল্পরসিকদেরও নয়, যারা ভালো শিল্পের, নির্মাণের নিরন্তর সন্ধানে থাকেন।

দ্বিতীয়তঃ আমরা আমাদের কাছে আসা তাথ্যের ভিত্তিতে শিল্পীর যে ব্যক্তি-অবয়বটি তৈরি করি, সেটা খন্ডিত তো বটেই, সময়বিশেষে আমাদের কাছে যে তথ্যগুলো কিছু নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়, সেগুলো মিথ্যা হলে, সেই মূর্তিটি পুরোপুরি ভ্রান্তও হতে পারে। এর ফলে আমরা যাকে রাজার আসন দিলাম বা ব্যক্তিগত যাপন-সংক্রান্ত আক্রোশে যার সৃষ্টিকে অবজ্ঞা করলাম, তাঁর, প্রকৃত স্থান বা অবস্থান, সেটা নাও হতে পারে। এই ভুল মূল্যায়নের ক্ষতি রসিকের তো বটেই, তবে শিল্পী, বিশেষতঃ যদি তিনি তখনও জীবিত ও সৃজনশীল হন, তাহলে তাঁর কর্মজীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে। আমরা কী করে এত সহজে আজ ‘এক ডক্টর কী মওত’ বা ‘গণশত্রু’র অতিদ্রুত সার্বজনীন মূল্যায়নের ভুল হওয়ার ঝুকি সংক্রান্ত শিক্ষাটি ভুলে যাচ্ছি?

তৃতীয়তঃ পরিচয়-ভিত্তিক রাজনীতির ক্ষেত্রে বিশেষ করে, স্রষ্টাদের অধিকাংশ ‘প্রিভিলেজ’ তাঁরা সচেতনে চয়ন করেন না, পিতামাতা ও জন্মসূত্রে পান, এবং সেই প্রিভিলেজগুলোই তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি নিরূপিত, এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্ষেত্রে একটা নির্দিষ্ট গতিপথে সংকীর্ণায়িত করে। একইভাবে, শিল্পীর ভাবনা বহুক্ষেত্রেই তাঁর সমকালের প্রচলিত সামাজিক ধ্যান ধারণার অনুগমন করে। এর ব্যতিক্রম নিশ্চয়ই আছে, আমরা লেখিকা মহাশ্বেতা দেবীর সাহিত্যের বিষয়বস্তুর কথা এবিষয়ে স্মরণ করতে পারি, বা রবীন্দ্রনাথের পরিবেশ ভাবনায় আধুনিক সাস্টেনেবিলিটি-র মূল অন্বেষণ করা যেতেই পারে, কিন্তু সেগুলো তাঁদের অসাধারণত্ব, প্রত্যেক শিল্পী-লেখকের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে প্রত্যাশা করার জিনিশ নয়। শিল্প যেহেতু প্রায় সবসময়েই পারিপার্শ্বিক-সচেতন, সমকালের দ্বারা প্রভাবিত, অবশ্যম্ভাবীভাবেই তাতে শিল্পীর ব্যক্তিগত বায়াস্টুকুর ছাপ থেকেই যায়। তারপরেও যদি কোনো শিল্প হৃদয়গ্রাহিতায়, মাধ্যমের নিজস্ব ব্যাকরণ-অনুসরণ ও ব্যাকরণ-অতিক্রমতায়, ভাবনার প্রকাশভঙ্গিমায় কালোত্তীর্ণ হয়েই ওঠে, তাহলে তার যে দিকগুলো সমালোচনাযোগ্য, চিন্তাধারার যে অংশটি অনাধুনিক, সেই খন্ডাংশটুকুর সম্বন্ধে বিরূপ বক্তব্য পেশ করেও শিল্প বা সাহিত্যটিকে সামগ্রিকভাবে উপভোগ করাটাই বাঞ্ছনীয় বলে মনে হয়।

সবশেষে, আমরা যদি শুধুমাত্র আমাদের পছন্দের মতাদর্শের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ শিল্পটুকুই বারংবার গলাধঃকরণ করতে থাকি, যদি আমরা আমাদের নিজস্ব খোপের বাইরে না বেরোই, ঘোষিতভাবে অন্য অক্ষের এবং বিরোধীপক্ষের সৃজনভাবনাকে গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকি, তাহলেও সাহিত্যপ্রেমী বা শিল্পরসিক হিসেবে আমাদের ভূমিকাটি নিঃসন্দেহেই সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। সাহিত্য ও শিল্পমাধ্যমের অন্যতম উপযোগিতা যে মতবিনিময়ের একটা দরজা খুলে দেওয়া, আদানপ্রদানের মাধ্যমে আমাদের সবারই মননকে ঋদ্ধ করা, ক্ষেত্রবিশেষে অন্য একটি দৃষ্টিভঙ্গিকে নিজের যাপনে ও বিশ্বাসে সম্পূর্ণ আত্তীকরণ না করেও তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার যে শক্তিটাকে পাওয়া, যেটা বিশেষ করে বিভিন্ন পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির আন্দোলনে আবশ্যক, তার চর্চাটুকুকে বারবার রুদ্ধ করে দিয়ে আমরা নিজেদেরই চারিদিকে একটা গোড়ামির পাচিল তুলি, ফলে অনেকক্ষেত্রেই ঠিক জিনিসটি সম্বন্ধে ঠিক তথটি ঠিক সময়ে আমাদের গোচরে আসে না।ফলতঃ শিল্পের সামাজিক উত্তরণের ক্ষমতাটিকে আমরা দায়িত্ব নিয়ে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিই।

কিছু সাধারণ করণীয়

তাহলে একজন প্রকৃত শিল্পানুরাগীর কোন পথ অবলম্বর করা ভালো? এর স্থির, সর্বজনগ্রাহ্য উত্তর দেওয়া অসম্ভব, তবে কয়েকটা বিষয় সাধারণভাবে মনে রাখতে পারলে ভালো হয়।

(ক) সমাজমাধ্যম আমাদের মত সাধারণ শিল্পপিপাসুদের সঙ্গে জীবিত, সংযোগেপ্সু স্রষ্টাদের যোগাযোগ দারুণভাবে সহজ করে দিয়েছে। আর যেহেতু কোনোকিছু সুলভ হলেই তার অপব্যবহার হওয়া দস্তুর হয়ে পড়ে, তাই আমরাও অনেকসময়েই আচরণ ও কথোপকথনে ঢুকে পড়ি তাঁদের ব্যক্তিগত পরিসরে, এবং অবাঞ্ছিত সেই অনুপ্রবেশ যে শুধু  কিছু মানুষের প্রাত্যহিক শান্তি ও কাজকর্ম ব্যাহত করে (মনে পড়ছে, একটা সময়ে নবনীতা দেবসেন-এর মত আলাপী, সদা তারুণ্যস্পর্শ-উৎসাহী মানুষ-ও সমাজমাধ্যমের আলাপে এই ভালবাসার অত্যাচারের রাশ টানতে বাধ্য হয়েছিলেন) তাই নয়, কোনও কোনও ক্ষেত্রে স্রষ্টা ও শিল্পভোক্তা’র দীর্ঘমেয়াদি যে মতবিনিময়টি বাঞ্ছিত তাকেও ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে, খেজুরে অনর্থক কথার বন্যায়। স্রষ্টা-ভোক্তা সংযোগ যদি সমাজমাধ্যমের মাধ্যমে ঘটে থাকে ও সেখানেই সীমিত থাকে, তাহলে আলাপের বিষয়বস্তু চয়নেও আমাদের একটা স্বনির্ধারিত সীমানা মান্য করে চলা উচিৎ। যদি প্রাথমিক আলাপ শিল্পীর একটি বা কয়েকটি নির্মাণ নিয়েই হয়ে থাকে, আলোচনাটিকে, অন্ততঃ রসপিপাসুর দিক থেকে, সেই বিষয়েই কেন্দ্রীভূত রাখাটা সময়ের অনর্থক অপচয়ের হাত থেকে উভয়কে রক্ষা করতে পারে।

(খ) উপভোগ করার জন্য শিল্পচয়নের (কোন গান শুনব, কার লেখা পড়ব, কোন অভিনেত্রী বা পরিচালকের উপস্থিতির জন্য একটা সিনেমা বা নাটক দেখব) প্রক্রিয়ায় শিল্পীদের আগের ভালোলাগা কাজগুলো নিশ্চয়ই স্মরণে রাখা উচিৎ, কিন্তু প্রতি নতুন শিল্পসৃষ্টি - একবার দেখতে / পড়তে / শুনতে শুরু করলে, বা তার মূল্যায়ণ করতে গিয়ে স্রষ্টার অতীতগৌরব থেকে দূরে সরে, নির্মোহভাবে শুধুমাত্র সাম্প্রতিক কাজটুকুর সম্বন্ধেই কোনটা কী কারণে পছন্দ আর কীইবা কেন ভালো লাগে নি ধারণা করার নৈর্ব্যক্তিকতাটুকু অর্জন করাটা - শিল্পরসিক হিসেবেই, সমালোচক হয়ে ওঠার যোগ্যতা অর্জনপ্রচেষ্টা বাদ দিলেও - আমাদের কর্তব্য। ভাবনার অনুশীলন ও প্রকাশভঙ্গিমার শীলন চর্চা একারণে খুব জরুরী। এটা না করতে পারলে কোথাও একটা আমরা শিল্পীদেরও প্রকৃত অনুপ্রেরণা দিতে দীর্ঘমেয়াদে অনুপযুক্ত হয়ে থাকব।

(গ) সমকালের সমাজমাধ্যমের এই ঘোরতর গম্যতায়, যেখানে খ্যাতিমান হলেই একজন মানুষ তাঁর সমস্ত ভাবনা ও বচন নিয়ে নিরাবরণ হয়ে পড়েন, আমরা প্রায়শঃই রসিক বা ভক্ত হিসেবে বড় নির্মম আচরণ করি। আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, ব্যক্তিগত জীবনের ওঠা-পড়ার সঙ্গে সাজুয্য রেখে একজন শিল্পীর মতবাদের বিবর্তন, বা ক্ষেত্রবিশেষে সম্পূর্ণ দিকপরিবর্তন সম্ভব। কিন্তু আমরা যদি আমাদের নিজেদের মতবাদের সঙ্গে খাপে-খাপ কথা এককালে বলতেন বা ভাবতেন বলেই “প্রিয়কে দেবতা”য় উন্নীত করার প্রয়াসে বারংবার রত হই, তাহলে পরবর্তীকালে সেই ঐশ্বরিকীকরণের সিংহভাগ দায় সেই বাস্তববাদরহিত ভক্তকূলের ওপরেই বর্তায়, জীবন বা রাজনৈতিক দর্শন পাল্টানোর জন্যে তখন সেই মানুষটিকে গালাগালি দিয়ে নিজেদের শ্লাঘা বাড়ানো কোন সৃজনশীল বা গঠনমূলক প্রক্রিয়া হয়ে ওঠে না।  ওপরে যে শিল্পী ও তাঁর প্রতিটি নতুন শিল্পকে পৃথক করে দেখার চর্চার কথা বলেছি, তার সচেতন প্রয়োগ এক্ষেত্রেও সদর্থক হবে।

(ঘ) এরই বিপ্রতীপে, ব্যক্তিগত চিন্তাধারা, আচরণ, এবং বিশেষতঃ রাজনৈতিক ভাবধারার প্রেক্ষিতে বিপরীত মেরুর মানুষ হলেই তাঁর সৃজনের সামগ্রিকতাকে নস্যাৎ করে দেওয়াটাও আমাদের সচেতন অভ্যাসে পরিহার করতে শেখা প্রয়োজন। বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের প্রত্যেকের নিজস্ব বিশ্বাস, ভাবনা, যাপিত দর্শণগুলোর পেছনে হয় সেই যৌক্তিক আত্মবিশ্বাস থাকা উচিৎ, যা বিরুদ্ধ বিবরণীর ঝড়েও আমাদের নিজের বিশ্বাসে নোঙর করে থাকতে দেবে, অথবা যে বিষয়গুলোতে আমদের জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা কম, সেগুলো সম্বন্ধে অন্যদের মত - তা সে যতই ভিন্ন হোক না কেন, অন্ততঃ মনোযোগ দিয়ে শুনব, পড়ব, দেখব, এবং মধ্যমেয়াদে সেই ভাবনাগুলোর মুকুরে নিজেকে ঋদ্ধ করব - এই মনোভাব নিয়ে চলা উচিৎ। শিল্পরস আস্বাদনের সময়ে ব্যক্তিগত বোধ নিয়ে নিরাপত্তাহীনতার জন্যে ভিন্নভাবনাকে রুদ্ধ করে যাতে না ফেলি, সেটা কিন্তু আমাদের নিরন্তর খেয়াল রাখা প্রয়োজন। সেই সচেতনতা ও বিবর্তনই রসিক-সমালোচক হিসেবে আমাদের প্রগতির মাইলফলক হয়ে উঠবে।

(ঙ) আর নিজেদের শিল্পরসিক বা উপভোক্তা হিসেবে আরো পরিণত, ধারালো করে তুলতে আরো একটা বিষয়ে আমাদের পরিশ্রম করতে হবে। প্রতিটি শিল্পমাধ্যম ও তাদের উপশাখাগুলোর, বিশেষ করে সারা বিশ্বে যেগুলো ধ্রুপদী আঙ্গিকের শিল্প বলে পরিগণিত হয়, সেগুলোর নির্দিষ্ট কিছু পরিভাষা আছে, অনেক প্রাথমিক সংজ্ঞা আছে, আমাদের ভালোলাগার মাধ্যমগুলোর ক্ষেত্রে অন্ততঃ নিজের গরজেই সেই পারিভাষিক অভিধানের সঙ্গে প্রারম্ভিক পরিচয়টুকু করে নেওয়া প্রয়োজন। কোন লেখা সম্বন্ধে যখনই একশব্দের ‘অপূর্ব বিশেষণটির মাত্রাছাড়া উপযোগ সমাজমাধ্যমে দেখতে পাই, আমার মনে হয়, কুম্ভীলকবৃত্তি অবলম্বন না করা সব লেখাই তো আক্ষরিকভাবে অ-পূর্ব, সেটা আলাদা করে উল্লেখ করে আমরা পাঠক হিসেবে কী মূল্য যোগ করছি?

এই বিষয় ও সীমারেখাগুলো খেয়াল রাখলেই শিল্পস্রষ্টা ও শিল্পরসিকের সম্পর্কের, পারস্পরিক মতবিনিময়ের, ও ব্যক্তিগত প্রত্যশানিয়ন্ত্রণের সবকটি আঙ্গিক যে সম্পূর্ণ সমস্যামুক্ত হয়ে যাবে, তা নয়, কিন্তু সামগ্রিকভাবে দু’পক্ষের অপরকে বোঝা ও শ্রদ্ধা করার ও অর্থপূর্ণ সাংস্কৃতিক যোগসূত্রের পরিসরটুকু বাড়বে, সেই আশাটুকু এখনও করাই যেতে পারে। 

No comments:

Post a Comment