Tuesday, March 3, 2026
কে…
পর্ণা চক্রবর্তী
আধো ঘুমের মধ্যে সদর দরজা খোলার আওয়াজ শুনতে পেলো রাত্রি।শুভর এখন নাইট শিফট চলছে। অফিসে কাজের খুব চাপ।
বাড়ীর একটা চাবি শুভর কাছে থাকে। রাত্রিকে স্কুলের জন্য অনেক সকালে উঠতে হয়। তাই ও তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ে।
ঘুমের ঘোরে রাত্রি শুনছে টেবিলে চাবি রাখার আওয়াজ। বেড রুমের দরজাটা ক্যাঁচ শব্দে খোলা হলো,বন্ধ হলো। বাথরুমে জলের আওয়াজ, রাত্রি পাশ ফিরল। অন্ধকার ফিকে হচ্ছে।
পা টিপে টিপে হাঁটছে শুভ।
রাত্রি যেন একটা মাছের মতো ,ঘুমের সাগরে কখনো ভাসছে, কখনো ডুব দিচ্ছে গভীরে।শুভ পাশে এসে শুলো। অভ্যাস মতো রাত্রির গায়ে আলতো করে হাতটা রাখলো একবার।
টয়লেটে গেলে হতো। কিন্তু রাত্রির দুচোখে বড়ো ঘুম,ইচ্ছা করছে না। শীত করছে, গায়ের চাদরটা হাতড়াচ্ছে। শুভ কুঁকড়ে শুয়ে থাকা শরীরটাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দিল।
উফ! কে ভীষণ জোরে জোরে দরজা ধাক্কাচ্ছে,চিৎকার করছে।
রাত্রি ধড়মড় করে উঠে বসল। ঘরে হালকা অন্ধকার।ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে দরজাটা খুলল রাত্রি।
“লক্ষী দি? কি হয়েছে ,দরজা ধাক্কাচ্ছ কেন ?
গেট খোলা ? কে ওখানে? পুলিশ ?
কি হয়েছে? এই সময় আমার বাড়িতে, আপনারা ? কেন? অজানা ভয়ে রাত্রির হাত, পা ঠান্ডা হয়ে আসছে।
ওরা যেন কিসব বলছে । রাত্রির মাথাটা ঘুরছে, কিচ্ছু বুঝতে পারছে না।
লক্ষীদি কাঁদছে ।
রাত্রি পাগলের মতো শোবার ঘরে ছুটে গেলো। আলো জ্বালালো, বিছানাটা খালি ,কেউ শুয়ে নেই।
“কি যা তা বলছেন আপনারা। একটু আগে এখানেই তো ছিল ,আমার পাশে শুয়ে ছিল।” রাত্রি কাঁদছে হাউ হাউ করে।
শুভ,শুভ…. বারান্দা, পাশের ঘর গোটা ফ্ল্যাট ….নেই।
তবে কে এসে শুলো আমার পাশে ?
কে আমার গায়ে হাত রাখলো?
ভোর হয়ে আসছে।রাত্রির আর্তনাদে শান্ত ভোর মুহূর্তে অশান্ত হয়ে উঠল।
লক্ষ্মণরেখা
স্বপ্ন
লীনা চন্দ
হঠাৎ দেখা
খাঁচাবন্দি বসন্তের কিস্তি
উৎস চক্রবর্তী
সকাল থেকেই ল্যাপটপের নীল আলোয় বসন্তের বিজ্ঞাপনগুলো পপ-আপ হয়ে ভেসে উঠছে। ‘স্প্রিং সেল’, ‘নিউ কালেকশন’—বিশ্বায়নের এই যুগে ঋতু এখন ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে নেমে এসে কর্পোরেট মেইলের ইনবক্সে ভিড় জমায়। জানলার ওপাশে আকাশটা ধোঁয়াটে ধূসর। বহুতল আবাসনগুলোর ভিড়ে সূর্যোদয় দেখা এক বিলাসিতা, আর কোকিলের ডাক তো এখন কেবল কলটোন বা নোটিফিকেশন সাউন্ডে সীমাবদ্ধ।
নীলিমা বারান্দায় রাখা আধমরা মানিপ্ল্যান্টটার গায়ে একটু জল ছিটিয়ে দিল। এই কংক্রিটের জঙ্গলে এটাই ওর একচিলতে অরণ্য। বাইরে রাস্তার মোড়ে ফ্লাইওভারের কাজ চলছে, যেখানে ধুলোর আস্তরণে ঢাকা পড়েছে রাস্তার ধারের শেষ পলাশ গাছটা। আধুনিক সমাজ-ব্যবস্থার যাতাকলে মানুষের আবেগগুলো এখন বড্ড হিসেবি। প্রেম মানে ডেটিং অ্যাপের সোয়াইপ, আর আড্ডা মানে হোয়াটসঅ্যাপের টেক্সট।
হঠাৎ এক ঝলক তপ্ত হাওয়া নীলিমার অবিন্যস্ত চুলে বিলি কেটে গেল। সেই হাওয়ায় কোনো বুনো ঘ্রাণ নেই, আছে পোড়া মবিল আর এসির গরম নিঃশ্বাস। তবু কেন জানি মনটা হু হু করে উঠল। পদাতিক কবির সেই 'ফুল ফুটুক না ফুটুক'- এর উপলব্ধির মতো ওর মনে হলো, বসন্ত আসলে বাইরে নয়, থাকে মানুষের ভেতরে। ধুলোমাখা এই শহরে একমুঠো আকাশ দেখার নামই হয়তো এখনকার বসন্ত।
অনলাইন অর্ডারের পার্সেলটা হাতে নিতে নিতে নীলিমা ভাবল, পৃথিবী হয়তো অনেক বদলে গেছে, কিন্তু ওই ছেঁড়া জামা পরা কিশোরটা যখন রাস্তার ধারের ডাস্টবিন থেকে একটা ঝরঝরে হলুদ ফুল কুড়িয়ে পরম যত্নে নিজের কানে গোঁজে, তখন বোঝা যায়—কংক্রিটের হাহাকার ছাপিয়ে বসন্ত আজও মানুষের জিজীবিষায় বেঁচে আছে।
প্রায় দেড়মাস আগের একটি ঘটনা। কামরায় ঘুরে ঘুরে ছেলেটা যখন লজেন্স বিক্রি করছিল, লোকটা ওকে দাঁড় করিয়ে শুনতে চেয়েছিল ওর এত ছোট বয়সের জীবনযুদ্ধের কথা। ভিডিও করেছিল সেসব। অনেক স্বপ্ন দেখিয়েছিল।
সন্তান
দোতারা
স্বপন সিংহ
নষ্ট মানুষ
পরিপূরক
ফেরা
মনোরঞ্জন ঘোষাল
অয়ন যখন বাড়ির সদর দরজায় এসে দাঁড়াল, তখন গোধূলির আলো ফিকে হয়ে আসছে। দশ বছর পর এই চেনা কড়াটা নাড়তে গিয়ে তার হাত সামান্য কেঁপে উঠল। বড় চাকরি, বিদেশের ব্যস্ততা আর নাগরিক কোলাহলে সে ভুলেই গিয়েছিল এই মাটির গন্ধমাখা গ্রামটার কথা।
দরজা খুললেন তার মা। সাদা চুলে একটু বেশি রূপালি আভা ধরেছে, চোখের কোণে বলিরেখাগুলো আরও গভীর। অয়নকে দেখেই মা থমকে দাঁড়ালেন। বিস্ময় কাটিয়ে ফিসফিস করে বললেন, "আসলি শেষমেশ?"
অয়ন ভেবেছিল মা হয়তো অভিমানে ফেটে পড়বেন, জানতে চাইবেন কেন সে এতগুলো বছর একটা ফোন পর্যন্ত ঠিকমতো করেনি। কিন্তু মা কেবল তার হাতটা ধরে টেনে ভেতরে নিয়ে গেলেন। দাওয়ায় বসিয়ে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে করতে বললেন, "তোর প্রিয় নারকেল নাড়ু করে রেখেছি। আজ সকালেই মনে হচ্ছিল তুই আসবি।"
অয়ন অবাক হয়ে দেখল, ঘরের কোণে তার সেই ছোটবেলার ভাঙা সাইকেলটা আজও রাখা। পড়ার টেবিলের ধুলো ঝেড়ে মা সব বইগুলো গুছিয়ে রেখেছেন। যেন এই দশটা বছর সময় এখানে থমকে দাঁড়িয়ে ছিল তার প্রতীক্ষায়।
রাতের নিস্তব্ধতায় অয়ন যখন পুরনো বিছানায় গা এলিয়ে দিল, তার মনে হলো—শহরের ওই কাঁচঘেরা অট্টালিকা তাকে অনেক কিছু দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু শান্তিটা এখানেই জমা ছিল। সাফল্যের ইঁদুর দৌড়ে সে আসলে নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছিল। আজ মায়ের হাতের সামান্য ডাল-ভাতের স্বাদে সে খুঁজে পেল সেই হারানো অস্তিত্বকে।
বিদেশের ফ্লাইটের টিকিটটা মনে মনে বাতিল করে অয়ন জানলার বাইরে তাকাল। জোনাকি জ্বলছে। আজ অনেক বছর পর সে কোনো দুঃস্বপ্ন ছাড়া শান্তিতে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিল।
সেরা
স্মৃতিকনা
কুণাল গোপ
মধু নাম
তোমার সাথে আমৃত্যু দেখা না হোক
মহঃ সানোয়ার























